রক্ষকই ভক্ষক! উত্তরপ্রদেশে যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই পুলিশ ও দুই সিআরপিএফ জওয়ান। অভিযোগ, হরিয়ানার যুবতীকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার নামে খামারবাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আমরোহা জেলায়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে আমরোহা জেলার হাসানপুর এলাকায়। হাসানপুরে পুলিশ স্টেশনে কর্মরত এক সাব ইন্সপেক্টর, হেড কনস্টেবল। সিআরপিএফের হেড কনস্টেবসল ও সাব ইন্সপেক্টর যুবতীকে গণধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ। অভিযোগকারী যুবতীর বয়ান অনুযায়ী, ২০ তারিখ তাঁর পরিচিত এক মহিলা নির্যাতিতার সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিভিন্ন ধর্মীয়স্থান পরিদর্শনের কথা বলে। মুজাফফরনগরের সৌরং গ্রামের বাসিন্দা সিআরপিএফ মোহিতের সঙ্গে দেখা করতে বলেছিলেন তিনি। সেই মতো ২১ তারিখ নির্যাতিতা হরিয়ানার সনিপতে অভিযুক্ত মোহিতের সঙ্গে দেখা করেন। সেখান থেকে তাঁরা মারাটে যান। সেখানে মোহিতের সঙ্গে দেখা করেন তাঁর সহকর্মী সিআরপিএফের হেড কনস্টেবল লালারাম যাদব। ২২ তারিখ তাঁরা হাসানপুরের খামারবাড়িতে পৌঁছয়। রাস্তায় হাসানপুরের সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জয় তোমার তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। পুলিশের হেড কনস্টেবল প্রোমদ তাঁদের জন্য খামারবাড়িতে খাবার ও মদের আয়োজন করেছিলেন। সেই সন্ধ্যায় মোহিত, যাদব ও তোমর পরপর যুবতীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এরপর প্রমোদ ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তিনি তাঁকে ঠেলে বাইরে বের করে দরজা আটকে দেন।
বুধবার ভোর ৬টার দিকে নির্যাতিতা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হাসানপুর ও রাজাবপুর থানার পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে। অভিযুক্ত চারজনকেই আটক করে। পুলিশ সুপার লক্ষ্মণ সিং যাদব জানিয়েছেন, “নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণ বা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া, এবং গণধর্ষণের অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। চারজনকেই গ্রেপ্তার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সাব-ইন্সপেক্টরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। দুই আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ জানিয়ে সিআরপিএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। হাসানপুর কোতোয়ালির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমর পাল সিং-এর তথ্যমতে, যে খামারবাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ সেটি উত্তরাখণ্ডের এক নির্দল বিধায়কের মালিকানাধীন বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘যখন অপরাধের উপর ভিত্তি করে শাসনকার্য চলে, তখন পুলিশ বাহিনীও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।’ উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘এই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর গায়ে এমন এক ‘কলঙ্ক’ লেপে দিয়েছে যা কোনওভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়।’ তিনি এ বিষয়ে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চুলের ব্যবসায় চাপে বাংলা, বাজার দখলে এগিয়ে পড়শি দেশ
-
নিউটাউনে আদানিদের ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মুখ্যমন্ত্রীর
-
অসাংবিধানিক! সিএনএন-সহ ৩ সংবাদমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশ, আদালতে ধাক্কা ট্রাম্পের
-
দিলীপের মুখে জ্যোতি বসুর প্রশংসা! বললেন, ‘অন্তর্দ্বন্দ্বেই সিপিএম শেষ’
-
সহকারীদের সুযোগ দিতে চান, আজ শিল্ডে ইস্টবেঙ্গল বেঞ্চে থাকবেন না হাবাস, খেলবেন বিদেশিরা?