বন্দে মাতরম বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কংগ্রেস। ছ’টি স্তবকের পুরো গান নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে গানটির যে দু’টি স্তবক কংগ্রেসের অধিবেশনগুলিতে গাওয়া হয়, সেটাই আগামী দিনেও গাওয়া হবে। সরকার যে পুরো গান গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, সেটা গাওয়া হবে না।
আরও পড়ুন:
বস্তুত ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে মোদি সরকারের সঙ্গে সংঘাতের পথে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, কংগ্রেস তার নিজের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরমে’র দু’টি স্তবকই গাইবে। এই অবস্থান স্পষ্ট করে গোয়ায় কংগ্রেসের সম্মেলনে বন্দে মাতরমের দু’টি স্তবক গাওয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, “গত নব্বই বছর ধরে ‘বন্দে মাতরম’ একভাবে গাওয়া হচ্ছে। আজ কোনও সরকার এসে তা বদলে দিতে পারে না। তা হলে কাল যে সরকার আসবে, সে আবার নতুন নিয়ম করবে।”
মল্লিকার্জুন খাড়গের বক্তব্য, জাতীয় স্তোত্রর আদি সংস্করণ গাওয়া যদি অপরাধ হয়ে থাকে তবে মহাত্মা গান্ধী, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা উচিত। খাড়গে বলেন, “ওরা কী অভিযোগই বা দায়ের করবে? আমরা সেই ‘বন্দে মাতরম’ই গেয়েছি যা মহাত্মা গান্ধী গেয়েছিলেন। জওহরলাল নেহরু যা গেয়েছিলেন। এমনকী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন তাঁদের কেন্দ্রীয় সরকারও যা গেয়েছিল। আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছর ধরে তিনিও (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) সেই একই ‘বন্দে মাতরম’ গেয়েছেন, যা তিনি এত বছর ধরে গেয়ে আসছেন।” খাড়গে আরও বলেন, “যদি এটি অপরাধ হয়, তবে তারা ১৮ বছর ধরে এই অপরাধই করে আসছেন। যদি এটি একই ধরনের অপরাধ হয়, তবে মহাত্মা গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করুন।”
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস সদর দপ্তরে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধাদানের অভিযোগে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সোমবার দিল্লি পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করছেন কয়েকজন তরুণী। সেই সময় সোনিয়া এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেন, যা দেখে মনে হচ্ছে তিনি কর্মীদের ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বন্ধের নির্দেশ দিচ্ছেন। কংগ্রেস সোনিয়ার ওই আচরণের সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষমেশ নিজেদের অনুষ্ঠানে যে জাতীয় স্তোত্র পুরোটা গাইবে না সেটা একপ্রকার স্পষ্ট। যদিও এ নিয়ে হাত শিবিরের অন্দরে দ্বিমত রয়েছে। কারও কারও মতে, এই ইস্যুতে একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদ এবং হিন্দুত্ব জড়িয়ে। ফলে এক্ষেত্রে অতি সন্তর্পণে পা ফেলা উচিত হাত শিবিরের। বুধবার কংগ্রেসের কার্যকরী সমিতির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দিল্লিতে জ্বালানি ভরার সময় সিএনজি সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ, মৃত ৩, আশঙ্কাজনক আর তিনজন
-
বিধায়কদের নতুন গাড়ি, চালকের খরচ বাবদ ৭৫ হাজার! বিজয়ের নতুন সিদ্ধান্তে বিতর্ক
-
রাতে রান্না করা ডাল বেঁচে গিয়েছে? না ফেলে জলখাবারে বানান ৪ সুস্বাদু পদ
-
‘মেয়ো রোডেই ছাত্র যুবদের সভার অনুমতি দিক’, কালীঘাটের পর এবার হাই কোর্টে ঋতব্রত তৃণমূল
-
শহরের নামী বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়াকে সাপের কামড়, কাঁড়ি কাঁড়ি ফি নিয়েও তলানিতে নজরদারি!