Padma Vibhushan

বুদ্ধবাবু ফিরিয়েছিলেন, গ্রহণ করছে অচ্যুদানন্দনের পরিবার! পদ্মপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন সিপিএমের অন্দরেই

দলের অন্দরে ইতিউতি প্রশ্ন উঠছে, অচ্যুদানন্দনের পরিবারকে বুঝিয়ে কি এই বিতর্ক এড়ানো যেত না। নাকি কেরল ও বাংলা লবির জন্য নিয়ম আলাদা? 

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১৪:২৪

options
link
বুদ্ধবাবু ফিরিয়েছিলেন, গ্রহণ করছে অচ্যুদানন্দনের পরিবার! পদ্মপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন সিপিএমের অন্দরেই
পদ্ম সম্মান নিয়ে বিতর্ক সিপিএমে। ফাইল ছবি।

‘ভারতরত্ন’ ফিরিয়েছিলেন জ্যোতি বসু। পদ্মভূষণ প্রত্যাখ্যান করেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বস্তুত রাষ্ট্রের দেওয়া সম্মান বা পুরস্কার সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করাটাই বামপন্থীদের রীতি। কিন্তু সেই রীতি এবার অমান্য করল কেরলের প্রয়াত বামপন্থী নেতা বিএস অচ্যুদানন্দেনের পরিবার। কেন্দ্রের দেওয়া পদ্ম সম্মান সাদরে গ্রহণ করছে তারা। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরেই।

Advertisement

গত রবিবার রীতি মেনে সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে এ বছরের পদ্ম সম্মান ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। তাতে দেখা যায় রলের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী ভি এস অচ্যুতানন্দন পদ্ম সম্মান পাচ্ছেন। সাধারণত সিপিআই(এম) বা বলা ভালো বামমনস্করা রাষ্ট্রের দেওয়া কোনও সম্মান বা পুরস্কার নেন না। তাও আবার ‘সাম্প্রদায়িক’ বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে তো নৈব নৈব চ। অবশ্য জ্যোতি-বুদ্ধ ও ভি এস-এর মধ্যে সামান্য একটি অমিলও রয়েছে। বাংলার দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে যখন এই সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দু’জনই ছিলেন জীবিত। জ্যোতিবাবু সরাসরিই জানিয়েছিলেন, তাঁরা রত্ন পাওয়ার জন্য কাজ করেন না। ২০২২ সালে যখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে এই সম্মান দেওয়া হয়, তখন অসুস্থ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছিলেন যে, তিনি সেই সম্পর্কে কিছুই জানেন না। যদিও সূত্রের খবর, পদ্ম কমিটি ফোনে বুদ্ধ জায়া মীরার সম্মতি নিয়েই তালিকা প্রকাশ করেছিল। একই রকমভাবে অচ্যুদানন্দনের পরিবারের সম্মতিতেই সম্মান দেওয়ার কথা ঘসনা হয়।

Advertisement

শোনা যাচ্ছে, মুখরক্ষার জন্য পার্টির নেতারা অচ্যুদানন্দনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। কিন্তু পার্টির অনুরোধ ফিরিয়ে সাদরে এই সম্মান গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার। অচ্যুদানন্দনের ছেলে ভিএ অরুণ কুমার এই সম্মানে রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, বা স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং এই ধরনের সম্মান তাঁর প্রাপ্য। এটা পরিবারের জন্য গর্বের মুহূর্তে। সমস্যা হল, অচ্যুদানন্দনের পরিবারের এই সিদ্ধান্ত পার্টির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে।

Advertisement

খোদ সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলছেন, “ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং জ্যোতি বসুও রাষ্ট্রের সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আমি নিশ্চিত অচ্যুতানন্দন জীবিত থাকলে, তিনিও একই পথ অনুসরণ করতেন।” কিন্তু তাতে বিতর্ক কমছে কই। দলের অন্দরে ইতিউতি প্রশ্ন উঠছে, অচ্যুদানন্দনের পরিবারকে বুঝিয়ে কি এই বিতর্ক এড়ানো যেত না। নাকি কেরল ও বাংলা লবির জন্য নিয়ম আলাদা? 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.