সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় সংবাদমাধ্যমকে। কিন্তু বর্তমান সমাজে সেই স্তম্ভটাই প্রতিদিন যেন আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। হয়ে উঠছে আরও অসহায়। কখনও গৌরী লঙ্কেশ তো কখনও অন্য কোনও রাজ্যের সাংবাদিক, খবর প্রকাশ্যে আনার জন্য বা কখনও বিরোধিতা করার কারণে খুন হতে হচ্ছে তাঁদের। আবার কখনও দেওয়া হচ্ছে হুমকি। এবার সামনে এসেছে সেরকমই একটি হুমকি দেওয়ার ঘটনা। সম্প্রতি মাদুরাইয়ের মন্দিরের ছোট মেয়েদের অর্ধনগ্ন অবস্থায় ‘দেবীরূপে’ পুজো করার খবরটি সামনে এসেছে। আর সেটি প্রকাশ্যে আনার জন্য কোয়েম্বাটোরের ওই ওয়েবসাইটের এডিটর-ইন-চিফকে হুমকি ফোন করা হচ্ছে।
[পুরোহিতদের সামনে উন্মুক্ত বক্ষে মেয়েদের নাচতে হয় এই মন্দিরে]
জানা গিয়েছে, ‘কোভাই পোস্ট’ নামে স্থানীয় ওই ওয়েবসাইটে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই খুনের হুমকি দেওয়া হতে থাকে তার এডিটর বিদ্যাশ্রী ধর্মরাজকে। তিনি জানান, ‘আমাকে ফোন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ওয়েবসাইটে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পরই মন্দিরে প্রশাসনের লোকজন পৌঁছান। আর তারপর থেকেই ফোনে আমাকে খুনের হুমকি দেওয়া হতে থাকে।’ বিদ্যাশ্রী ইতিমধ্যে কোয়েম্বাটুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবং যে যে নম্বর থেকে ফোনগুলি এসেছে সেগুলিও পুলিশকে জানিয়েছেন।
কিন্তু কেন এই হুমকি? আসল ঘটনাটি কয়েকদিন আগের। কোভাই পোস্টে প্রকাশিত খবর থেকেই তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের ভেল্লালুর গ্রামের ওই মন্দিরটির কথা জানতে পারা যায়। বহুদিন ধরেই ওই মন্দিরে এই রীতি চলে আসছে। যৌবনে পা দেয়নি এরকম ছোট মেয়েদেরই ওই মন্দিরে দেবীরূপে পুজো করা হয়। তাদের শরীরের উপরের অংশে থাকে না কোনও বস্ত্র। থাকে কেবল অলংকার। তাই দিয়ে ঢাকতে হয় বক্ষ। মোট ১৫ দিন ধরে থাকতে হয় মন্দিরের পুরোহিতের কাছে। এমনকী ধর্মের অজুহাতে উন্মুক্ত বক্ষে ওই মেয়েদের নাচতেও হয়। গত মঙ্গলবারই ওই ১৫ দিনের পুজো শুরু হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল ৬২টি গ্রামের বেশ কয়েকজন মেয়ে। তাদের মধ্যে থেকেই ৭ জনকে বেছে নেন পুরোহিত। সেই ভিডিওটিই নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে কোভাই পোস্ট।
[উৎসবের দিনগুলো কেমন কাটছে তারকাদের? দেখুন ছবি]
এই খবরটি সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। নির্দেশ দেওয়া হয়, কোনওভাবেই যেন ওই মেয়েদের হেনস্তা না করা হয়। পাশাপাশি বলা হয় এভাবে বিনা পোশাকে রাখা যাবে না তাদের। এই ঘটনার প্রসঙ্গে মাদুরাইয়ের কালেক্টর কে ভেরা রাঘব রাও বলেন, ‘এটি বহু পুরনো রীতি। মা-বাবারা তাঁদের মেয়েদের নিজেদের ইচ্ছাতেই এখানে পাঠান। তবে আমরা গ্রামবাসীদের নির্দেশ দিয়েছি ওই মেয়েদের ঠিকঠাক পোশাক পরাতে। তবে ওই মেয়েরা পোশাকের উপর অলংকার পরতেই পারে।’ এর পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, গ্রামে তদন্তকারী দলও পাঠানো হয়েছে। কোনও মেয়ের উপরই অত্যাচার বা হেনস্তা হয়নি, তাদের দেবীরূপে পুজো করা হচ্ছে। এমনটাই রিপোর্ট জমা দেয় তদন্তকারী দল। তবুও প্রত্যেক বাসিন্দাকে ওই মেয়েদের পরিধানের দিকে নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যদিও তাতে বিতর্ক থামার নাম নেই। আর প্রশাসনের এভাবে জড়িয়ে পড়ার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেকে। যার বহিঃপ্রকাশ এই হুমকি ফোন।
সর্বশেষ খবর
-
হেরিটেজ ট্যুরিস্ট সার্কিটে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
-
রাতের বাইপাসে ভয়ংকর দুর্ঘটনা, বাইকে ধাক্কা অ্যাপ ক্যাবের, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ২
-
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে জয়শংকর, ভাষণ দেবেন শনিবার
-
কেন এসআইআর নোটিস আডবানী, জয়শংকর-সহ হেভিওয়েটদের! কী বলছে কমিশন?
-
এবার ‘ন্যাটো’র দেশগুলিতে হামলা রাশিয়ার? ইউক্রেন ছাড়িয়ে গোটা ইউরোপের আকাশে যুদ্ধের মেঘ!