ভোটের লড়াই আর শুধু সভামঞ্চে নয়। এ বার লড়াই সরাসরি ভোটারের মোবাইলের পর্দায়। সংবাদপত্র পেরিয়ে বৈদ্যুতিন মাধ্যম, সেখান থেকে ফেসবুক-এক্স হ্যান্ডল হয়ে রাজনৈতিক প্রচারের ঠিকানা এখন ইনস্টাগ্রাম, রিলস, ছোট ভিডিও, মিম এবং ডিজিটাল প্রভাবশালীদের দখলে। ফলে আগামী দিনের ভোটের আগে দুই প্রধান জাতীয় দল বিজেপি ও কংগ্রেস সোশাল মিডিয়াকে নতুন রাজনৈতিক রণক্ষেত্র করে ঘর গোছাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বিজেপির লক্ষ্য স্পষ্ট-কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর ডিজিটাল বয়ানের পাল্টা বয়ান তৈরি করা, মোদি সরকারের কাজ পৌঁছে দেওয়া এবং সংগঠনের ডিজিটাল হাত আরও শক্ত করা। রবিবার দিল্লিতে দলের জাতীয় সোশাল মিডিয়া কর্মশালায় সভাপতি নীতীন নবীন-সহ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেশের সব রাজ্যের সোশাল মিডিয়া আহ্বায়ক ও সহ-আহ্বায়কদের বৈঠকে সেই কৌশল নিয়েই আলোচনা হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, রাহুলের সোশাল মিডিয়া প্রচারের পালটা জবাবও ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। শুধু পুরনো ধাঁচের পোস্ট নয়। জেন-জি-র মোবাইলের ভাষায় কথা বলতে চাইছে বিজেপি। ছোট ভিডিও, রিলস, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং এবং সৃজনশীল কনটেন্টে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পালটা পথে কংগ্রেসও। রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ কর্মসূচিকে ঘিরে ছাত্র ও জেন-জি-র সঙ্গে সরাসরি
যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। দলের নেতাদের ব্যক্তিগত প্রচারের বদলে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক বার্তা একযোগে ছড়িয়ে দেওয়ার উপরেও নজর বাড়ছে। পাঞ্জাব কংগ্রেসে নেতারা রাহুলের প্রচার কতটা নিজেদের সোশাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছেন, তার হিসাব রাখার উদ্যোগের খবরও প্রকাশ্যে এসেছে।
ইনস্টাগ্রামে কংগ্রেস ১.৫৪ কোটি, বিজেপি ৯৯.২ লক্ষ। ইউটিউবে কংগ্রেস ৭৯.৩ লক্ষ, বিজেপি ৬৪.২ লক্ষ। আবার ফেসবুকে বিজেপি ১.৬ কোটি, কংগ্রেস ৬৭ লক্ষ। ‘এক্স’-এ বিজেপি ২.৩০ কোটি, কংগ্রেস ১.১৫ কোটি। চার প্ল্যাটফর্মের এই অনুসারীর অঙ্কেই ধরা পড়ছে ভোটের নতুন যুদ্ধের মানচিত্র। সভা-মিছিলের বাইরে এখন ভোটারের মোবাইলের পর্দায় কার কতটা দখল, কোন দলের বার্তা কোন প্রজন্মের কাছে কতটা পৌঁছচ্ছে-তা নিয়েই ক্রমশ জমছে লড়াই।
তবে ফলোয়ারের অঙ্কই ডিজিটাল রাজনীতির শেষ কথা নয়। কত মানুষ দেখছেন, কত জন প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন, কতটা শেয়ার হচ্ছে এবং কোন রাজনৈতিক বয়ান কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে-সেখানেই আসল লড়াই। তাই চার প্ল্যাটফর্মের এই অঙ্ক নিছক জনপ্রিয়তার হিসাব নয়, আগামী দিনের ভোটে বয়ান তৈরির ক্ষমতা, তরুণ ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক বার্তার গতি-এই তিন ক্ষেত্রেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। ভোটের ময়দানে লড়াই শুরু হওয়ার আগেই তাই মোবাইলের পর্দায় শুরু হয়ে গিয়েছে প্রাধান্য বৃদ্ধির যুদ্ধ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জিমন্যাস্টিক্সে ফাইনালে প্রণতি নায়েক, অব্যবস্থার শিকার, একার লড়াইয়েও চমক বঙ্গকন্যার
-
সাংসদ যেন কৃষক! নিজের বাড়িতে করম পুজোয় মাতলেন জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো
-
‘বন্ধুত্বে’র প্রতিদান! মুকুন্দপুরে মমতাপন্থীদের ‘আক্রান্ত’ হওয়ার প্রতিবাদ কংগ্রেসের, সুগম জোটের পথ?
-
চৈতন্য ও সুলক্ষণা, ২ হস্তিশাবকের নামকরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী, কেন এই নাম? জানালেন নিজেই
-
এবিভিপি-টিএমসিপি সংঘর্ষের জের! ১ মাস বন্ধ বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল! বেরিয়ে গেলেন ছাত্ররা