Yogi Adityanath

যোগীরাজ্যে উন্নয়নে শান, দিল্লি-দেরাদুন করিডোরে বিপুল আর্থিক বিকাশের স্বপ্ন দেখছে লখনউ

মঙ্গলবার দিল্লি-দেরাদুন ইকোনমিক করিডোরের উদ্বোধনের মাধ্যমে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের শিল্প ও কৃষিতে এক নয়া দিগন্ত খুলে গেল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে এই করিডোরের যাত্রা শুরু হওয়াকে রাজ্যের অর্থনীতির ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

হেমন্ত মৈথিল
হেমন্ত মৈথিল

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ২১:১১

options
link
যোগীরাজ্যে উন্নয়নে শান, দিল্লি-দেরাদুন করিডোরে বিপুল আর্থিক বিকাশের স্বপ্ন দেখছে লখনউ
দিল্লি-দেরাদুন করিডোর বড় ‘গেমচেঞ্জার’, দাবি যোগীর। নিজস্ব ছবি।

মঙ্গলবার দিল্লি-দেরাদুন ইকোনমিক করিডোরের উদ্বোধনের মাধ্যমে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের শিল্প ও কৃষিতে এক নয়া দিগন্ত খুলে গেল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে এই করিডোরের যাত্রা শুরু হওয়াকে রাজ্যের অর্থনীতির ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (CM Yogi Adityanath)। তাঁর মতে, এই পরিকাঠামো কেবল যাতায়াতের পথ নয়, বরং কর্মসংস্থান ও বিশ্ববাজারের প্রবেশদ্বার।

Advertisement

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই করিডোর এখন বাস্তবের রূপ পেয়েছে। সাহারানপুর থেকে দিল্লি কিংবা দেরাদুন— কয়েক ঘণ্টার পথ এখন হাতের মুঠোয়। বাঘপত, শামলি, মুজফফরনগর এবং মিরাট— প্রতিটি জেলাই এই নতুন সংযোগের সুফল পাবে। মঙ্গলবার সাহারানপুরে এক অনুষ্ঠানে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘এই করিডোর পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ভাগ্য বদলে দেবে। এবার আর পণ্য নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকতে হবে না।’

Advertisement

এই করিডোরের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে স্থানীয় কুটির শিল্প এবং কৃষিতে। সাহারানপুরের বিশ্বখ্যাত কাঠের কাজ (উডওয়ার্ক) এখন সরাসরি দিল্লির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পৌঁছবে। পিছিয়ে থাকবে না মিরাটের ক্রীড়াসামগ্রীও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখানকার হার না মানা কৃষকদের উৎপাদিত আখ, ফল ও সবজি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে যাবে। ফলে পচনশীল পণ্যের ক্ষতি কমবে, কৃষকরা পাবেন ফসলের সঠিক দাম।

Advertisement

এদিন মুখ্যমন্ত্রী ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, পরিকাঠামো উন্নয়নই হল সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। তাঁর কথায়, আগে সাহারানপুর থেকে দেরাদুন যাওয়া ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। বর্ষাকালে ডাট কালী মন্দিরের রাস্তা বন্ধ হয়ে যেত। এখন সেই দিন অতীত। পরিকাঠামোর এই জোয়ারে যেমন গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের গুরুত্ব বাড়ছে, তেমনই সারসাওয়া বিমানবন্দর এবং জেওয়ারের ফিল্ম সিটি স্থানীয় যুবকদের সামনে খুলে দিচ্ছে উপার্জনের নতুন পথ।

সামাজিক ন্যায়ের কারিগর বাবা সাহেব আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তীতে এই উপহারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেন যোগী। তিনি নাম না করে বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, যারা সমাজকে ভাগ করে তারা উন্নয়ন করতে পারে না। নৈরাজ্য আর মাফিয়া রাজ নয়, উত্তরপ্রদেশ এখন সুশাসন আর শিল্পের নতুন ঠিকানা। আধুনিক সংযোগ আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনেই উত্তরপ্রদেশ আগামী দিনে ভারতের শ্রেষ্ঠ রাজ্যে পরিণত হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল সহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.