সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘বাবু যত বলে পারিষদ দলে বলে তার শতগুণ’। এ তো চিরসত্যি। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে তাজমহলকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি যোগী আদিত্যনাথ। এদিকে তার প্রচার করতে গিয়েই সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম সৌধকে একেবারে বিশ্বাসঘাতকের তৈরি দেশের ইতিহাসের কলঙ্কের অভিধা দিয়ে বসেছিলেন বিজেপি বিধায়ক সঙ্গীত সোম। অবশেষে সেই মন্তব্যের জেরে নড়চড়ে বসেছে কেন্দ্রের শাসকদল। খোদ আদিত্যনাথ সারধানার বিজেপি বিধায়কের কাছে এ ব্যাপারে কৈফিয়ত তলব করলেন।
[ ভারতীয়দের ঘাম-রক্তেই তৈরি তাজমহল, ড্যামেজ কন্ট্রোলে আদিত্যনাথ ]
উত্তরপ্রদেশের পর্যটন বিভাগের বুকলেট থেকে তাজমহল বাদ যাওয়ার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। সে আগুনে ঘি ঢালেন সঙ্গীত সোম। তাঁর দাবি, তাজমহল বিশ্বাসঘাতকের তৈরি। সুতরাং এ সৌধ ভারতের ইতিহাসে কলঙ্ক। এহেন মন্তব্যের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ফেটে পড়ে গোটা দেশ। আসাদউদ্দিন ওয়েসি থেকে আজম খানের মতো নেতারা কটাক্ষ করেন। জানান, এই যুক্তি মানতে গেলে লালকেল্লাতে জাতীয় পতাকা ওড়ানো অসমীচিন। কিংবা রাষ্ট্রপতি ভবনও দাসত্বের প্রতীক। সুতরাং সমস্ত সৌধ, গম্বুজ ভেঙে ফেলাই উচিত। এমনকী এ প্রসঙ্গে সমালোচনায় সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি জানান, বিজেপি যা করছে তা দেশের একতার ঐতিহ্যের পরিপন্থী। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিজেপি হয়তো দেশের নাম পরিবর্তন করেও নতুন ইতিহাস লেখা শুরু করতে পারে। সে দিন হয়তো খুব বেশি দূরেও নয়।
এই জলঘোলা শুরু হওয়ার পরই অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অস্বীকার করে কখনওই এগোনো যায় না। নরেন্দ্র মোদির কথাতেই নিহিত ছিল বার্তা। পড়তে অসুবিধা হয়নি আদিত্যনাথের। তারপরই এ প্রসঙ্গে পালটা বিবৃতি দিয়ে তিনি বলেন, তাজমহল ভারতীয়দের ঘাম ও রক্তের বিনিময়েই তৈরি। কে, কোন উদ্দেশ্যে তা নির্মাণ করেছিলেন তা বড় কথা নয়। এরপরই তাজমহল, আগরা ফোর্ট দর্শনে যাওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
[ ‘শুধু তাজমহল নয়, রাষ্ট্রপতি ভবনও ভেঙে ফেলা হোক’ ]
আদিত্যানাথের এ মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছিল, কেন তাহলে সঙ্গীত সোমের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? তাহলে কি দলের মত এক, আর আদিত্যনাথরা যা বলছেন তা অন্য কিছু? দ্বন্দ্ব ঘুচিয়ে অবশেষে বিজেপি বিধায়ককে তিরষ্কার করল দল। কেন এ ধরনের মন্তব্য তিনি করেছেন, সে নিয়ে কৈফিয়তও তলব করা হল। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির দলীয় মুখপাত্র চন্দ্র মোহন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সঙ্গীত সোমের বক্তব্যের সঙ্গে দল একমত নয়। আগ্রায় উন্নয়নই যে মূল লক্ষ্য, সে কথাই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সঙ্গীতকে সেন্সর করে আপাতত মুখরক্ষার চেষ্টা হলেও, এমন কত সঙ্গীতকে দল সামলাতে পারবে তা নিয়ে ধন্ধ তৈরি হয়েছে গোবলয়ের রাজনীতিতে।
সর্বশেষ খবর
-
গ্যালিফ স্ট্রিটে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী-পাখি বিক্রি করা যাবে না! কোর্টের নির্দেশের পর ‘অ্যাকশনে’ প্রশাসন
-
নির্বাচন ভণ্ডুলের ছক! রাশিয়ায় ১০০০ ড্রোন নিয়ে হামলা ইউক্রেনের, বিস্ফোরণ তেল শোধনাগারেও
-
পোস্টারে শিল্পীকে ‘অপমান’, বিতর্কে সনাতন দিন্দার পুজো, কী জানালেন উদ্যোক্তারা?
-
রণক্ষেত্র বালোচিস্তানে সামরিক অভিযান! মৃত ৫ বিদ্রোহী, ২৩ জন অপহৃতকে উদ্ধার পাকসেনার
-
বিগ বসের ঘরে হৃদরোগে আক্রান্ত সলমন! হইচই শুরু হতেই কেন ক্ষমাপ্রার্থী ভাইজান?