সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বছর ঘুরতেই পঞ্চায়েত ভোট (Panchayet Poll) বঙ্গে। ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের লড়াই যে কোনও শাসকদলের কাছেই বড় পরীক্ষা। তৃণমূল স্তরে শাসকদলের গ্রহণযোগ্যতা আসলে কতটা, তার সর্বৈব বিচার হয়ে যায় পঞ্চায়েত নির্বাচন। বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কাছেও তাই পঞ্চায়েতের লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরে বুথকর্মীদের বিশেষ সম্মেলনে সেই লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বললেন, ”অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে লড়াই করে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদে জিততে হবে।”
জেলায় জেলায় দলের বুথকর্মী, নেতাদের নিয়ে এদিন নেতাজি ইন্ডোরে বিশেষ সম্মেলনের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল। প্রধান বক্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলার নেতা, কর্মীদের বিশেষ বার্তা দেবেন তাঁরা, এমনটাই অনুমান করা গিয়েছিল। অভিষেকের বক্তব্যে সেই অনুমান মিলে গেল। ফের বিজেপিকে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ”নেত্রী বলেছেন, আমরাও বলছি। আগামী দিন ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অবাধ হবে। গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করে বিজেপিকে ল্যাজে-গোবরে করতে হবে, বাংলাছাড়া করতে হবে। মানুষের আশীর্বাদকে পাথেয় করে সেই লড়াইয়ে নামতে হবে আমাদের। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদে জিততে হবে।” এরপর বিজেপির উদ্দেশে অভিষেকের আরও হুঁশিয়ারি, ”তৃণমূলকে সবসময় কুৎসা করা!আগামী পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে ব্যালটে বদলা নেব।”
[আরও পড়ুন: পশ্চিম মেদিনীপুুরে গণধর্ষণের তদন্তে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হাই কোর্ট, তদন্তভার যেতে পারে CID’র হাতে]
শুধু আজই নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে একাধিকবার জেলাগুলিকে বার্তা দিয়েছেন। গত মাসে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে জেলা নেতৃত্ব এসে আলোচনা করেছিল। সেখানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেকের স্পষ্ট বার্তা ছিল, পঞ্চায়েত ভোটে দু-চারটে আসনে হারলেও সমস্যা নেই। কিন্তু নির্বাচনে গা জোয়ারি করা চলবে না। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতে জোর দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। আসলে পঞ্চায়েত ভোটে হার-জিত নয়, দলীয় সংগঠন মজবুত করার দিকে বারবার বিশেষ জোর দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি, জনমানসে দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও বদ্ধপরিকর দলের সেনাপতি। আর তাই বারবার পঞ্চায়েত ভোটে পেশিশক্তি আস্ফালন থেকে দূরে থাকার বার্তা দিচ্ছেন জেলা নেতৃত্বকে।
[আরও পড়ুন: কেষ্ট না ফেরা পর্যন্ত ৩ গুণ লড়াই, ওকে বীরের সম্মানে বের করে আনবেন: মমতা]
আর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সভায় তিনি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনকে প্রাধান্য দিয়ে মানুষের সমর্থনকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখার কথা বললেন। আর সেই ফর্মুলাতেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সমস্ত আসনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন অভিষেক।
সর্বশেষ খবর
-
এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ বধূ
-
‘খুব বাঁচা বেঁচেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ’, রচনার সুরবদলের পরই কেন একথা বললেন মনোরঞ্জন?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! ১০৫০ দিন পর সিরিজ হার ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের