রাত বাড়তেই পার্ক স্ট্রিট আজ শুধুই ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’

রাজপথের দখল নিলেন লাখো উৎসবমুখর জনতা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭, ১৫:৪৪

options
link
রাত বাড়তেই পার্ক স্ট্রিট আজ শুধুই ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্রিসমাস ইভে জমজমাট তিলোত্তমা। বিকেল নামতেই উপচে পড়ল ভিড়। সকাল থেকেই যদিও চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, নিউ টাউনের ইকো পার্কে মানুষের ঢল নেমেছে। বেলা বাড়তেই মানুষের ভিড়ে যানবাহনের গতি শ্লথ হয়ে গেল। উত্তর থেকে দক্ষিণ- শহরকে যানজটহীন রাখাই এদিন ট্রাফিক পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠল। তার সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তাও। বিকেলের পর পুরোদমে জমে উঠল পার্ক স্ট্রিটও। বিকেল চারটে থেকে পার্ক স্ট্রিট হয়ে গিয়েছে শুধুমাত্র ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’। অন্তত রাত ১১টা পর্যন্ত এই রাস্তা দিয়ে কোনও গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হবে না। লাখো মানুষের পা-ই দখল নিল পার্ক স্ট্রিটের। পার্ক স্ট্রিটে একশোর উপর সিসিটিভি বসানো হয়েছে। ১৪ কুইক রেসপন্স টিম তৈরি রেখেছে পুলিশ। বসেছে ১১টি ওয়াচ টাওয়ার। প্রতি মুহূর্তে ২০টি বাইকে নজরদারি হচ্ছে। ১৫টি পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্স বুথও রয়েছে যে কোনও সাহায্যের জন্য।

Advertisement

20171225_211935

Advertisement

[বড়দিনে বেসামাল মহিলাদের সামলাতে রাস্তায় প্রমীলা বাহিনী]

আজ সকাল থেকেই চিড়িয়াখানা ও ভিক্টোরিয়ায় তিল ধারণের জায়গা ছিল না। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই ভিড় শুরু যায় পার্ক স্ট্রিটে। ক্রিসমাস ইভে বড়দিনের বাজার সরগরম নিউ মার্কেটে। রাস্তায় যানজট, যানবাহনের গতি ধীর। সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল-সহ শহরের গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা। বড়দিনের ‘ফাইনাল’—এর জন্য অবশ্য প্রস্তুত ছিল কলকাতা পুলিশ। সকাল ন’টার পর থেকেই চিড়িয়াখানার সামনে এক মুহূর্তের জন্যও দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছিল না কোনও গাড়ি। মানুষের ঢল নামে ভিক্টোরিয়া, ময়দান, বিড়লা তারামণ্ডল, ইলিয়ট পার্কে। ট্রাফিক পুলিশের মতে, এ জে সি বোস রোড, আলিপুর রোড, বেলভেডিয়ার রোড, ন্যাশনাল লাইব্রেরি অ্যাভিনিউ, হসপিটাল রোডে ধীরে যান চলাচল করেছে দিনভর। বিকেল থেকেই শেক্সপিয়র সরণি, জওহরলাল নেহরু রোড, ধর্মতলা চত্বরেও যানজট। এই যানজট কাটিয়ে তোলাই ছিল ট্রাফিক পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এদিনের বড় পরীক্ষায় পুলিশ যে লেটার মার্কস পেয়ে পাশ করল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Advertisement

[বেসামাল হলেই বিপদ, বড়দিনে কলকাতা জুড়ে সক্রিয় লালবাজারের ‘ক্যামেরা চোখ’]

park-street-2-web

বড়দিনের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে যাতে মদ্যপান করে কেউ গোলমাল বা ইভটিজিং না করে, তার জন্যও তৈরি ছিল পুলিশের টিম। এই বড়দিনে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’কে প্রাধান্য দিয়ে বেপরোয়া ও মদ্যপ বাইক ও গাড়ি চালকদের রুখতে জায়গায় জায়গায় ‘ব্রেথ অ্যানালাইজার’ নিয়ে অপেক্ষা করছিল পুলিশ। মদ্যপান করে কেউ গাড়ি চালালে তাঁকেই ধরা হয়েছে। আটক করা হয়েছে গাড়ি ও বাইক। উৎসবমুখী জনতার একটি বড় অংশ আজ নিউটাউন, সল্টলেককে বেছে নেন। ভিড় বাড়ছে লেকটাউনেও। মানুষের ঢল সামলাতে নিউটাউনের মেজর আর্চিয়াল রোড (এমএআর)-এর একটি অংশ একমুখী রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এয়ারপোর্টগামী গাড়িগুলিকে নারকেলবাগন মোড় থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সেগুলি আকাঙ্ক্ষা মোড় থেকে ঘুরে আবার এমএআর-এ এসে পড়ে। আর সল্টলেকগামী গাড়িগুলি আকাঙ্ক্ষা দিয়ে ঢুকেছে। বেরোয় নারকেলবাগান হয়ে।

দেখুন ভিডিও:

ইকো পার্ক ও মাদার মিউজিয়ামের রাস্তা আপ্রাণ ফাঁকা রাখার চেষ্টা চালিয়েছে পুলিশের। ভিআইপি রোডের ভিড় সামলাতে মোতায়েন করা হয় বাড়তি পুলিশ। সল্টলেকের প্রতিটি এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টে রাত বাড়তেই শুরু হয়েছে নাকা চেকিং। কড়া নজরদারি চলেছে ইকো পার্ক, সিটি সেন্টার ১ ও ২, নিকো পার্ক, ভিআইপি রোড সংলগ্ন লেকটাউন পৌষপার্বণ ও বড়দিনের মেলায়। নিউটাউনের মরুধর মেলা, বাগুইআটি মেলা ও বইমেলার পাশাপাশি পুলিশের নজরদারি আওতায় ছিল সল্টলেক, নিউটাউন ও বাগুইআটির পানশালাগুলিতে।

20171225_211655

[বড়দিনে বাড়তি ১৪টি মেট্রো, তবুও হয়রানির আশঙ্কায় যাত্রীরা]

ছবি: পিন্টু প্রধান, দীপেন্দু পাল

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.