বিয়ার-বিরহে মুক্তি চলতি সপ্তাহেই, কত দাম বাড়ছে জানেন?

বিয়ার প্রেমীদের মনে এখন ফাগুনেরও নবীন আনন্দ......

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০১৯, ১৬:৪১

options
link
বিয়ার-বিরহে মুক্তি চলতি সপ্তাহেই, কত দাম বাড়ছে জানেন?

শ্রীষিতা ঘোষ: আর মাত্র দিন তিন-চার! এ রাজ্যের বিয়ারপ্রেমীদের মনের সব দুঃখ, যাবতীয় বিরহযন্ত্রণার অবসান চলতি সপ্তাহের শেষেই!
ক্যালেন্ডারের পাতায় ফেব্রুয়ারি যেতে না যেতেই আমজনতার বিয়ারপ্রেম উথলে ওঠাটা আমাদের ইদানীংকালের বড় চেনা ছবি। ঠা-ঠা দুপুরে বা দখিন পবন বওয়া সন্ধ্যায় ফেনায়িত তুষারশীতল বিয়ারের গ্লাসই যেন রসিকজনের প্রাণাধিক প্রিয়তমা। মাসাধিককাল সেই প্রেমিকার দেখা না পেয়ে বড়ই উতলা ছিলেন সবাই। বিরহযন্ত্রণার সেই ‘তুষারাচ্ছাদিত শীত ঋতু’ কাটতে চলেছে অবশেষে। আর সে খবর ছড়াতেই দিকে দিকে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ কোটি বিয়ার প্রেমীদের মনে এখন ‘ফাগুনেরও নবীন আনন্দ……

Advertisement

বাজারের খবর, বিয়ারের দাম বাড়ানো নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে রাজ্য সরকার ও বিয়ার প্রস্তুতকারকদের দড়ি টানাটানিতে অবশেষে দাঁড়ি পড়েছে গত সপ্তাহে। দু’পক্ষের মধ্যে রফাসূত্র অনুযায়ী, দাম খানিকটা বাড়িয়ে চলতি সপ্তাহে বাজারে নিজেদের বিয়ার নিয়ে আসছে বিভিন্ন সংস্থা। সরকারের তরফে প্রথমে প্রস্তাব রাখা হয়েছিল, ১১০ টাকার বিয়ারের দাম বাড়িয়ে ১৮০ করতে হবে। পরে তা ১৪০ টাকায় নামে। কিন্তু তখনও রাজি হননি প্রস্তুতকারকরা। এর পর বেশ কিছুদিন ধরে ঠান্ডা লড়াইয়ের পর রফাসূত্র বেড়িয়েছে। দাম কিছুটা বাড়িয়ে ১৩০ থেকে ১৪৫ টাকার মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্র‌্যান্ডের বিয়ার বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। ফলে শুক্র-শনিবারের মধ্যেই বেশ কিছু পরিচিত নামীদামি ব্র‌্যান্ডের বিয়ার মিলতে চলেছে সর্বত্র। পাশাপাশি গ্রীষ্ম মরশুমের শুরুতেই হঠাৎ তৈরি হওয়া আকাল সামাল দিতে বেশ কিছু নয়া ব্র‌্যান্ডের বিয়ারেরও আবির্ভাব ঘটছে বাজারে।

Advertisement
[মরা মুরগিতে মিশছে ফরমালিন, নজরে সস্তার বিরিয়ানি]

দাম নিয়ে রাজ্য সরকার ও বিয়ার প্রস্তুতকারকদের মতানৈক্যের জেরে গরম পড়তে না পড়তেই রাজ্যজুড়ে বিয়ারের আকাল দেখা দিয়েছিল। বিয়ারের উপর আবগারি শুল্ক নিয়ে নয়া সরকারি নির্দেশের জেরে বিয়ার উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল বিভিন্ন সংস্থা। ফলে বাজারে বিয়ারের জোগান শূন্যে ঠেকে যায় দোলের আগেই। মদের দোকানের বাইরে ‘ বিয়ার নেই’ লেখা বড় বোর্ড ঝুলতে দেখা যায় শহর-মফঃস্বল সর্বত্র। চলতি মাসের প্রথম দিনদশেক পুরনো ‘স্টক’ থেকে চাহিদা যৎসামান্য সামাল দেওয়া গেলেও গত তিন-চার দিন সেই ‘ভাঁড়ার’ও শূন্য হওয়ায় পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে ওঠে। যেমন গত রবিবার। একে ছুটির দিন। তায় আবার শ্রীলঙ্কায় ফাইনালে ভারত-বাংলাদেশের টানটান ক্রিকেট ম্যাচ। ভারতের হয়ে গলা ফাটাতে গিয়ে তালু শুকিয়ে কাঠ হয়েছে। কিন্তু শত চেষ্টাতেও একফোঁটা বিয়ার জোটাতে পারা যায়নি। হন্যে হয়ে দোকানে দোকানে ঘুরেও লাভ‌ হয়নি। বাধ্য হয়ে কেউ দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়েছেন হুইস্কিতে। কেউ বা রামে গলা ভিজিয়েই ক্ষান্ত থেকেছেন। সোমবারেও চিত্রটা ছিল প্রায় একইরকম। গোটা বাংলাই প্রায় বিয়ারহীন। দু-একটি দোকানের ভাঁড়ারে আগেভাগেই কিছু বোতল তুলে রাখায় কিছুটা জোগান মিটেছে হয়তো কোথাও। তবে তা একেবারেই নামমাত্র। চাঁদনি চক এলাকার এক নামী মদের দোকানের মালিক বি এম শাহ বলেন, “বুদ্ধি করে আগে থেকেই বেশ খানিকটা বিয়ার স্টক করে রেখেছিলাম। আর তাতেই এই আকাল কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া গিয়েছে। তারপরও ভারত-বাংলাদেশের খেলার দিন অনেক কাস্টমার বিয়ার কিনতে এসে ফিরে গিয়েছেন।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ কলকাতার এক মদ বিক্রেতার কথায়, কিছুদিন আগে একটি ব্র‌্যান্ডের বিয়ার বাজারে এসেছিল। তবে তা খুবই কম পরিমাণে। আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা চোখের নিমেষে বিক্রি হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
[বাড়ল লাইসেন্স ফি, বার-রেস্তরাঁয় খাবারের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা]

আপাতত সে বিরহ শেষ! তাই ‘প্রেমিককুলকে ঠেকায় কে! শ্যামবাজার এলাকার বাসিন্দা সুদীপ্ত প্রামাণিক যেমন বলছেন, “দাম বাড়লে বাড়ুক। না হয় একটু বেশি দামই দেব। কিন্তু বিয়ার তো পাব। ব্যস, তাতেই চলবে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.