এবার ফোন করে বাস-ট্যাক্সি-অটোর রেষারেষি রুখবেন যাত্রীরাই

জানেন, কোন নম্বরে ফোন করলেই নেওয়া ব্যবস্থা?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২০, ২০১৮, ১১:০৮

options
link
এবার ফোন করে বাস-ট্যাক্সি-অটোর রেষারেষি রুখবেন যাত্রীরাই
ছবি: প্রতীকী।

কলহার মুখোপাধ্যায়: বাসে বাসে টক্কর। প্রাণ হাতে করে হাঁটছেন পথচারী। আর আরোহীদেরও অবস্থা তথৈবচ। কারণ বাস, ট্যাক্সি কিংবা অটোর বেপরোয়া গতি। এ অবস্থায় সওয়ারিরা হোন বা পথচারী বা অন্য গাড়ির আরোহীরা, ১০০ ডায়াল করুন, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার জ্ঞানবন্ত সিং এ কথা জানিয়েছেন। বাসের রেষারেষি রুখতে পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও উদ্যোগী হতে এই ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিধাননগর।

Advertisement

যাত্রী তোলা নিয়ে রেষারেষির জেরে রোজই প্রাণ হাতে নিয়ে পথে নামতে হয় সাধারণ মানুষকে। সাধারণ মানুষ যে কত অসহায়, সোমবার রাতে ভিআইপি রোডের বাস দুর্ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। গোলাঘাটার কাছে সাবওয়ে তৈরির জন্য গর্ত খোঁড়া ছিল। অন্য একটি বাসের সঙ্গে রেষারেষি করতে গিয়ে গার্ড রেল ভেঙে তাতে হুড়মুড় করে ঢুকে যায় ৪৪ নম্বর রুটের একটি বাস। তাতে জনা পঁচিশেক যাত্রী ছিলেন। প্রাণ হাতে নিয়ে তাঁরা কোনওক্রমে বাসের পেট থেকে বেরিয়ে আসেন। প্রত্যেকেই অল্পবিস্তর চোট পান। তার মধ্যে পাঁচজনের আঘাত গুরুতর।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর, ১৮ শতাংশ ডিএ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর]

Advertisement

বিধাননগর কেন সারা রাজ্যেই বাসের রেষারেষি নতুন কোনও ঘটনা নয়। প্রায়দিনই বেপরোয়া ধাক্কায় মৃত্যু হয় কারও না কারও। এই প্রসঙ্গে জ্ঞানবন্ত সিং জানিয়েছিলেন, “বিধাননগর কমিশনারেট এলাকায় অন্যান্য দুর্ঘটনায় রাশ টানা গেলেও বাসচালকদের কিছুতেই সংযত করা যাচ্ছে না। বাসের বেপরোয়া মনোভাব আটকাতে হেল্প লাইন চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে। যাতে বিপদ বুঝলে বাস যাত্রী এবং পথচারীরা ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন। নিয়ম ভেঙে অত্যধিক দ্রুতগতিতে কোনও বাস রাস্তায় দৌড়তে দেখলে ফোন করে পুলিশে অভিযোগ জানানো যাবে। হেল্প লাইন অথবা ১০০ ডায়ালে ফোন করে অভিযোগ জানালে নিকটে থাকা ট্রাফিক  গার্ডের পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর হবে। এর পাশাপাশি বিপদ সাথী অ্যাপের মাধ্যমেও অভিযোগ জানাতে পারেন।” বিধাননগরে যাত্রী তুলতে রেষারেষি করে বাস চালানোটা নিয়ম করে ফেলেছেন চালকরা। এর ফলেই দুর্ঘটনায় রাশ টানা যাচ্ছে না বলে মনে করছে পুলিশ।

[ভাঙা পাঁচিল টপকে ইকো পার্কে, পুকুরের জলে ডুবে মৃত্যু যুবকের]

কমিশনারেটের পর্যবেক্ষণ বলছে, ২০১২ থেকে ২০১৭-র এই সময় পর্যন্ত দুর্ঘটনার হিসাব খেয়াল করলে দেখা যাবে সব ধরনের দুর্ঘটনা কমানো গেলেও বাসের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। ২০১২ তে বিধাননগরে ৩৫১টি দুর্ঘটনা হয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল ১০১ জনের। আগের বছরে মৃত্যুর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬ তে। দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে হয়েছে ২৭৬। এর ঠিক উলটো ছবি বাসের ক্ষেত্রে। গত বছর বিধাননগরে ৬২টি বাস দুর্ঘটনার খবর মিলেছে।

এই ছবিটা পালটাতে বেশ কয়েকটি সতকর্তামূলক ব্যবস্থা নিতে চলেছে পুলিশ। কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, বাস চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালানোরও ব্যবস্থা হবে। এছাড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবে বাসচালকের লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ করবে কমিশনারেট। এর মধ্যেই বেশ কয়েকজন বাসচালকের লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

[ফেসবুকে দিদির আপত্তিকর ছবি পোস্টের অভিযোগ, রুখে দাঁড়ালেন ভাই]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.