দীর্ঘ অচলাবস্থার পর অবশেষে প্রশাসনিক জট খুলে স্বাভাবিক হওয়ার পথে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কর্মসিমিতিগুলি। রাজ্যের ১৪ টি বিশ্বিবিদ্যালয়ের কর্মসমিতিতে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধিদের নাম প্রকাশ করল বিকাশ ভবন। বলা হয়েছে, যে কোনও মিটিংয়ের আগে দপ্তরের যিনি সচিব আছেন এবং উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাদবপুর, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজ্যের ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইএএস, ডব্লুবিসিএস পদমর্যাদার আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কর্মসমিতিতে।
আরও পড়ুন:
রাজ্যে পালাবদলের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়। বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকার বলেছিল, বিগত সরকারের মনোনীত সদস্যরা ‘বিবেকের ডাকে সাড়া’ দিয়ে পদত্যাগ করুন। এরপরই একের পর এক পদত্যাগ শুরু হয়। যার জেরে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কমিটিতে সরকার মনোনীত প্রতিনিধিপদ শূন্য হয়ে যায়। কর্মসমিতিতে সরকারি প্রতিনিধি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বৈঠকেও স্থগিত ছিল। দ্রুত কর্মসমিতিগুলি সচলের দাবি উঠতে থাকে শিক্ষকমহলে।
শুক্রবার উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফে মনোনীত প্রতিনিধিদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকারি প্রতিনিধি মনোনীত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলানা আবুল কালাম আজ়াদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বারাসতের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাবা সাহেব আম্বেডকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, রানিরাসমণি গ্রিন ইউনিভার্সিটি, হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়, সিধো-কানু-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয় ও দার্জিলিং হিলস ইউনিভার্সিটি। তবে এই তালিকায় রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। এমনকী বাদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও। উল্লেখ্য, শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবস উপলক্ষ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাজ্যের শিক্ষানীতিতে রাষ্ট্রবাদকে গুরুত্ব দিতে হবে। তারপর থেকেই জল্পনা শুরু হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতিকে ঢেলে সাজানো হতে পারে।
শিক্ষাবিদ বা শিক্ষকদের কর্মসমিতিতে মনোনীত না করে কেন প্রশাসনিক কর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ শিক্ষকমহলের একাংশের। তাঁদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মসমিতিতে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষক মহলের ব্যক্তিদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যে উচ্চশিক্ষার পঠনপাঠনের মানোন্নয়ন করতে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’ অনুসরণ করে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার জন্যই প্রশাসনিক কর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পরপর ট্রান্সফরমার বিকল! লিফট বন্ধ-জলের আকাল, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জেরবার দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা
-
লক্ষ্য সম্পর্ক দৃঢ় করা, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পাঁচ রাজ্যের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণের সিদ্ধান্ত
-
পানমশলা আর বিক্রি করা যাবে না প্লাস্টিকের প্যাকেটে, নয়া ব্যবহারবিধি কেন্দ্রের
-
রাজ্যে শিল্প আনতে বন্ধ হোক লাল ফিতের ফাঁস, তোলাবাজি! বণিকমহলের মতামত শুনলেন মন্ত্রীরা
-
৯ বছরের একত্রবাস, অবশেষে জর্জিনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ রোনাল্ডো