CM Suvendu Adhikary

‘ইন্দিরা গান্ধীকে প্রাক্তন হতে হয়েছে, মমতাকে ডুবিয়েছে অহংবোধ’, গণতন্ত্র হত্যা দিবসে বললেন শুভেন্দু

ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২১ মাসের সময়কালকে 'কালো অধ্যায়' হিসাবেই উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৫, ২০২৬, ১৯:৫৩

options
link
‘ইন্দিরা গান্ধীকে প্রাক্তন হতে হয়েছে, মমতাকে ডুবিয়েছে অহংবোধ’, গণতন্ত্র হত্যা দিবসে বললেন শুভেন্দু
'গণতন্ত্র হত্যা দিবস'-এর মঞ্চে ইন্দিরা-মমতা প্রসঙ্গ টানলেন শুভেন্দু।

১৯৭৫ সালের ২৫ জুন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে সংবিধানের ৩৫২ ধারা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২১ মাসের সময়কালকে ‘কালো অধ্যায়’ হিসাবেই উল্লেখ করা হয়। এদিন ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, গণতন্ত্রের বিপরীতে হেঁটেছে, ‘ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল’-কে পরিবর্তন করে ‘ফর দ্য পার্টি, বাই দ্য পার্টি, অফ দ্য পার্টি’ করেছে, তারা কেউ গণতন্ত্রে বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি। ইন্দিরা গান্ধীর মতো প্রধানমন্ত্রীকেও প্রাক্তন হতে হয়েছে। গত ১৫ বছরের রাজত্বকালে যিনি নিজেকে সর্বজ্ঞানী বলে মনে করতেন, তার অহংবোধকেও বাংলার মানুষ যোগ্য জবাব দিয়েছে।”

Advertisement

এদিন রথীন্দ্র মঞ্চে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’-এর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে জরুরি অবস্থায় আক্রান্তদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “রাষ্ট্রই সর্বোপরি। আমি নয় বরং আমরা নীতি অবলম্বন করতে হবে।’ বাংলার মানুষের ভরসায় তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার, স্বৈরাতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, দাম্ভিকতা, অন্যায়ের সঙ্গে আপোস, রাষ্ট্র বিরোধিতার মতো কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকতে হবে।”

Advertisement

১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দিনটি কেন ‘কালো অধ্যায়’?
১৯৭৫ সালের ১২ জুন এলাহাবাদ হাই কোর্টের তরফে নির্বাচনী-দুর্নীতির মামলায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের রায় দেয়, ছ’মাস তিনি কোনও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারবেন না। ১৯৭১ সালে রায়বরেলিতে ইন্দিরা গন্ধীর জয়ও বাতিল করে দেয় কোর্ট। লোকসভার আসনও হাতছাড়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতেও বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টে মামলর জল গড়ালেও সেখানেও অনড় থাকে রায়। এরপরই ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন মধ্যরাতে জরুরি অবস্থার ঘোষণা করেন।

Advertisement

কী কী বিধিনিষেধ ছিল?
জরুরি অবস্থা চলাকালীন যেমন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তেমনই সংবাদমাধ্য়মের স্বাধীনতাও খর্ব হয়। গ্রেপ্তার করা হয় একের পর এক বিরোধী নেতাকে। রাজ্যসভা ও লোকসভার নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। দেশজুড়ে রবিবারের ছুটি বাতিল করা হয়। বেতন বৃদ্ধি, বোনাস বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি কর্মীছাঁটাইয়েরও ছাড়পত্র দেয় সরকার।

ইন্দিরা গান্ধীর সময়কালে দেশের ‘কালো অধ্যায়ের’ কথা উল্লেখ করেই এদিন ‘গণহত্যা দিবস’-এর মঞ্চে শুভেন্দু কড়া আক্রমণ করেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন বুঝিয়ে দেন, অহংবোধই পতনের অন্যতম কারণ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.