রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্য রাজনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে ধর্মের জাতাকলে! হিন্দু ভোট নিজেদের দিকে টানতে একের পর এক বৈষম্যমূলক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়াচ্ছেন বিজেপির বিধায়করা। কখনও তৃণমূলের মুসলিম বিধায়কদের ‘চ্যাংদোলা করে ফেলে দেওয়া’র হুঁশিয়ারি, আবার ‘হিন্দু-হিন্দু, ভাই-ভাই’ লেখা পোস্টার। শুভেন্দু অধিকারী কার্যত হিন্দু ইস্যু প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই আবহে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “কোনও দলের পক্ষ থেকেই এই ধরনের মন্তব্য কাঙ্ক্ষিত নয়। রাজনীতি হোক রাজনীতির মতোই। আমরা চাই গণতন্ত্র ও সংবিধান মেনেই চলা হোক।” এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি শুভেন্দুর উগ্র হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি নাপসন্দ দিলীপের?
রাজ্য বাজেটের অধিবেশনের পর থেকেই একের পর এক বৈষম্যমূলক মন্তব্য করে চলেছেন শুভেন্দু। সম্প্রতি বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে, তাঁর ‘চ্যাংদোলা করে ফেলে দেওয়া’র মন্তব্যে তেতে ওঠে বিধানসভা। পালটা দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নিয়ে দিলীপ ঘোষকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “শাসকদলের কোনও বিধায়ক যদি বলেন অমুসলিমদের ধর্মান্তরণ করানো হবে, হিন্দুদের গঙ্গার জলে ফেলে দেওয়া হবে। তাহলে তার প্রতিক্রিয়া হবেই। তবে যাতে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই জন্য় শাসকদলের উচিত ব্যবস্থা নেওয়া। আমরা চাই রাজনীতি গণতন্ত্র ও সংবিধান মেনেই করা হোক।” পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, বিজেপি হিন্দু ভোট বেশি পায়।
লোকসভা নির্বাচনে নিজের জেতা আসন থেকে সরে গিয়ে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে হেরেছিলেন দিলীপ ঘোষ। তারপর একাধিকবার নাম না করে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন খড়গপুরের প্রাক্তন সাংসদ। বারবার দাবি করেছিলেন পুরনোদের গুরুত্ব না দেওয়ার ফল ভুগেছে দলীয় নেতৃত্ব। চুপ থাকেননি শুভেন্দুও। তাঁদের সম্পর্কের চোরাস্রোত বয়ছিল তা বোঝাই যাচ্ছিল।
মঙ্গলবার দীর্ঘদিনের নীরবতার পর হঠাৎ রাজ্য রাজনীতিতে জ্বলে উঠে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করলেন দিলীপ। গেরুয়া শিবিরের রাজ্য সভাপতি কে হবেন তা নিয়ে চলছে দীর্ঘ জল্পনা। এই আবহে বঙ্গীয় রাজনীতিতে দিলীপের ফের সক্রিয় হওয়া নিয়ে প্রশ্ন, তাহলে কি ফের এই পদে আসীন হতে চলেছেন ঘোষবাবু? তার আগে বিজেপি হিন্দু ভোট বেশি পায়, তা জানিয়েও শুভেন্দুর উগ্র হিন্দুত্ববাদের প্রসঙ্গে নিজেকে দূরেই রাখলেন দিলীপ। উঠল সেই প্রশ্নও। দিলীপের মন্তব্যে পদ্মশিবিরের অন্দরের দূরত্বও কি স্পষ্ট? প্রশ্ন তুলছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
সর্বশেষ খবর
-
লক্ষাধিক টাকার ব্যাট চুরি! ‘মোদি-যোগীর কাছে অভিযোগ করব’, ‘হুমকি’ তারকা ক্রিকেটারের
-
ইরানি নৌকায় ৩০০০ কোটির মাদক পাচার! গুজরাট উপকূলে গ্রেপ্তার ৫ পাকিস্তানি
-
খাম নিয়ে নওশাদদের মামলা খারিজ! ‘ভোট প্রক্রিয়ায় আদালত হস্তক্ষেপ করতে চায় না’, বললেন বিচারপতি
-
সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে জখম দক্ষিণ কোরিয়ার ৩ সেনা! দায় এড়িয়ে পালটা হুঁশিয়ারি কিমের বোনের
-
নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রচারে যাওয়ার আগেই আটক লেখক মানস ফকির, সুকৃতি রঞ্জন! তীব্র প্রতিবাদে বিধান ভবন