Shantanu Sinha Biswas

থানা প্রতি ৫০ হাজার ‘তোলা’, চেম্বারেই ‘বিজনেস ডিল’! শান্তনুর কীর্তি ‘ফাঁস’ ইডির চার্জশিটে

জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের এক ইন্সপেক্টরের বয়ানকে চার্জশিটে উল্লেখ করে শান্তনুর প্রভাব সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেছে ইডি।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১৭:৩৫

options
link
থানা প্রতি ৫০ হাজার ‘তোলা’, চেম্বারেই ‘বিজনেস ডিল’! শান্তনুর কীর্তি ‘ফাঁস’ ইডির চার্জশিটে
ফাইল ছবি।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তৎকালীন কালীঘাট থানার ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের (Shantanu Sinha Biswas) চেম্বারই হয়ে উঠেছিল ‘বিজনেস ডিলে’র একমাত্র ঠিকানা! এমনকী ওসির দায়িত্ব নিতেই রাতারাতি তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রভাবশালী। চার্জশিট পেশ করে এমনটাই দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। জমি দখল-সোনা পাপ্পুর মামলায় গ্রেপ্তারের দু’মাসের মাথায় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি। আর সেখানেই প্রাক্তন এই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। এমনকী থানা প্রতি ৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত শান্তনু ‘তোলা’ তুলতেন বলেও উল্লেখ চার্জশিটে। 

Advertisement

পুলিশের রদবদলেও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বড় ভূমিকা ছিল বলেও চার্জশিটে দাবি ইডির। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই নাকি পুলিশমহলে রদবদলের তালিকা তৈরি হতো।

মামলার তদন্তে গত কয়েকদিনে একাধিক পুলিশকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের এক ইন্সপেক্টরের বয়ানকে চার্জশিটে উল্লেখ করে শান্তনুর প্রভাব সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেছে ইডি। চার্জশিটে দেওয়া তথ্য বলছে, হেয়ার স্ট্রিট থানার ওসি পদে দীর্ঘসময় দায়িত্ব সামলেছেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। সেই সময় পুলিশের স্বাভাবিক কাজকর্ম নিয়েই তিনি থাকতেন। সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই চলতেন। কিন্তু কালীঘাট থানার ওসি পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভোলবদলে যায়। চার্জশিটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ‘বিজনেস ডিলে’র অন্যতম জায়গা হয়ে উঠেছিল কালীঘাট থানায় থাকা শান্তনুর ঘর। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক কেলেঙ্কারি করে যেতেন। থানার অধঃস্তন পুলিশ কর্মীদের সেখানে ঢোকার ক্ষেত্রে ছিল অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা! ইডির দাবি, ওই ইন্সপেক্টর বয়ানে জানিয়েছেন, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের কাছে পুলিশ কর্মীর থেকে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং তাঁর মতো ব‍্যবসায়ীরা। একাধিকবার থানায় বসেই এই সমস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধৃত প্রাক্তন পুলিশকর্তা বৈঠক করেছিলেন বলেও দাবি। 

Advertisement

এখানেই শেষ নয়, পুলিশের রদবদলেও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বড় ভূমিকা ছিল বলেও চার্জশিটে দাবি ইডির। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই নাকি পুলিশমহলে রদবদলের তালিকা তৈরি হত। এমনকী ওয়েল ফেয়ার কমিটি ও পুলিশের কো-অপারেটিভ ব‍্যাঙ্কে শান্তনুর একছত্র আধিপত্যের কথাও উল্লেখ রয়েছে আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে। শুধু তাই নয়, অনুমোদনের নামে কীভাবে ধৃত এই প্রাক্তন পুলিশকর্ত টাকা তুলতেন তাও চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সাব ইন্সপেক্টর বয়ানকে হাতিয়ার করে গোয়েন্দাদের দাবি, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস পরিকল্পনা করেই প্রত‍্যেকে থানায় সুভেনিয়র পাঠাতেন। সুভেনিয়রে মাধ্যমে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করা হত। চেক ও নগদে সেই টাকা তোলা হয়েছে ইডির চার্জশিটে উল্লেখ।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.