সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এবার ঘুষকাণ্ডে জড়াল পিএফ কমিশনারের নাম। অভিযোগের তির সহকারী পিএফ কমিশনার রমেশ চন্দ্র সিংয়ের দিকে। তাঁর বিরুদ্ধে হিসেব বহির্ভূত সম্পত্তি রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে ইতিমধ্যেই ওই সরকারি আধিকারিকের বাড়ি-সহ কলকাতার আটটি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। এই মুহূর্তে ওই আধিকারিকের বেহালার বাড়ি-সহ বারুইপুর, চারু মার্কেট পার্কস্ট্রিটে পিএফ-এর অফিসে চলছে ম্যারাথন তল্লাশি। প্রায় ৪০জন ইডির তদন্তকারী আধিকারিক এই তল্লাশিতে রয়েছেন। অভিযুক্ত অফিসারের আয় বহির্ভূত সম্পত্তির হালহকিকত জানার চেষ্টা করছেন ইডির অফিসাররা।
[লটারির কোটি টাকার প্রথম পুরস্কারের দুই দাবিদার, ফাঁস চক্র]
ইডির আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস কয়েক আগে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন এক সরকারি আধিকারিক। ঘটনাটি ঘটেছিল পার্কস্ট্রিটের পিএফ-এর অফিসে। ওই আধিকারিককে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জেরার মুখে সেই আধিকারিক জানিয়েছেন, পিএফ অফিসে একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করছে। এই চক্রের অন্যতম লক্ষ্য, শহরের ধনী ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা। তারপর সেই টাকা নিজেদেরে মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়া। চক্রের মধ্যে থাকা প্রত্যেক সরকারি আধিকারিকই ওই টাকার ভাগ পান। বলাবাহুল্য সেই সূ্ত্রেই সহকারী পিএফ কমিশনার রমেশচন্দ্র সিংয়ের নামটি সামনে আসে। ধৃত ব্যক্তি জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় হওয়া টাকার সিংহভাগই যেত এই রমেশচন্দ্র সিংয়ের কাছে। তাছাড়া সারদা, রোজভ্যালির মতো রাজ্যে যেসব বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থাগুলি ছিল, তাদের প্রভিডেন্ড ফান্ডের টাকাগুলিও ঘুরপথে আসত এই চক্রের হাতে। যার বৃহদাংশ যেত সহকারী পিএফ কমিশনারের দখলে। বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থাগুলিতে অনেকেই কাজ করতেন। তাঁদের বেতন থেকেও নিয়ম মেনে পিএফ কাটা হত। সেই পিএফের টাকা ঠিকমতো জমা করতেন না সংশ্লিষ্ট সংস্থার মালিকরা। সেজন্য অন্যায়ভাবে পিএফ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগসাজসও করা হত। যাতে কর্মীদের টাকা জমা না দিয়েও পার পেয়ে যাওয়া যায়। তার বিনিময়ে আধিকারিকরা পেয়ে যেতেন মোটা অঙ্কের অর্থ। সেই টাকাতেই অনেক পিএফ আধিকারিকের ‘আঙুল ফুলে কলগাছ’ অবস্থা।
[অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভরতি সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়]
ঘুষকাণ্ডে ধৃত আধিকারিককে জেরার সূত্র ধরেই সহকারী-পিএফ কমিশনারের উপরে নজর রেখেছিল ইডি। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই তাঁর হিসেব বহির্ভূত সম্পত্তির পরিমাণ জানতে শুরু হয় অভিযান। পার্ক স্ট্রিটের অফিস-সহ ওই আধিকারিকের বেহালার বাড়ি, বারুইপুর ও চারু মার্কেটে চলছে অভিযান। তাঁর যাবতীয় সম্পত্তির হিসেবনিকেশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে ওই আধিকারিকের। বিদেশেও পাচার হয়েছে টাকা। ঠিক কত টাকা তিনি বেআইনিভাবে রোজগার করেছেন তাও খতিয়ে দেখছে ইডি। একই সঙ্গে পিএফের আরও কয়েকজন আধিকারিককেও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। কীভাবে ব্যবসায়ীদের থেকে জোর করে আদায় করা টাকা ভাগ হত? সেই আদায়কৃত টাকা র ঠিক কতটা কোন আধিকারিক পেতেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর
-
মূলস্রোতের স্কুলে পড়বে দিব্যাঙ্গ শিশুরাও! পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর রাজ্যের
-
ষষ্ঠ বিদেশি সই করিয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল, এক বছরের জন্য লাল-হলুদে আইভোরি কোস্টের স্ট্রাইকার
-
ফুচকার লোভ দেখিয়ে নাবালিকাকে ‘ব্যাড টাচ’! গ্রেপ্তার প্রতিবেশী ‘দাদু’, উত্তরপাড়ায় হুলস্থুল
-
চূড়ান্ত হয়ে গেল কলকাতা লিগের ডার্বির দিনক্ষণ, বারাসতে মুখোমুখি হবে মোহন-ইস্ট
-
বুধে বালুরঘাটে সুকান্তের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন মুখ্যমন্ত্রী, মেনুতে থাকছে কোন বিশেষ মাছ?