জগদীপ ধনকড়

বিল আটকে রেখেছেন রাজ্যপাল, বিধানসভায় ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের

রাজ্যসভায় ধনকড়ের অপসারণের দাবিতে ওয়াক আউট তৃণমূলের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১০, ২০১৯, ১৫:৪৩

options
link
বিল আটকে রেখেছেন রাজ্যপাল, বিধানসভায় ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের

সন্দীপ চক্রবর্তী: ফের রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত। একাধিক বিলে অনুমোদন দেননি রাজ্যপাল। রাজভবনেই আটকে রয়েছে বিলগুলি। সেই কারণে মঙ্গলবারই শেষ হয়ে যাচ্ছে বিধানসভার এবারের শীতকালীন অধিবেশন। আর তার জেরে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে বিধানসভাতেই ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান তৃণমূল বিধায়কদের। বিধানসভার কক্ষের বাইরে রীতিমতো প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন নিয়ে মিছিল করে আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে বিক্ষোভ দেখান দলের তফসিলি জাতি-উপজাতিভুক্ত বিধায়করা। একইসঙ্গে এদিন রাজ্যপালের অপসারণের দাবিতে রাজ্যসভায় সরব হলেন তৃণমূল সাংসদরা। অধিবেশন ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান ডেরেক ও’ব্রায়েন, শুখেন্দুশেখর রায়রা। তাঁদের প্রতিবাদের সময় রাজ্যসভা টিভি ব্ল্যাক আউট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

গত সপ্তাহে এই কারণে দুদিনের জন্য বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়। মঙ্গলবার বিধানসভায় এস-এসটি বিল পেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্যপাল অনুমোদন না দেওয়ায় আজই শেষ করতে হচ্ছে বিধানসভার অধিবেশন। যাতে কার্যত ক্ষুব্ধ শাসকদল তৃণমূল। গণপিটুনি প্রতিরোধ বিলেও সম্মতি দেনননি রাজ্যপাল। যার ফলে এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না বিলটি। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে রাজনীতির অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল। এদিন সংসদের বাইরে তৃণমূল সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যা হচ্ছে তা গণতন্ত্রের জন্য খারাপ। রাজ্যপাল বিজেপির নির্দেশেই এই কাজ করেছন।’ রাজভবন থেকে বিলের অনুমোদন না আসায় গত শুক্রবার বিধানসভায় পরিবহন দপ্তরের স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়। সোমবারও কোনও বিল নিয়ে আলোচনা হয়নি। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যপালের জেদের জন্য অধিবেশনের সময় নষ্ট হচ্ছে। গণতান্ত্রিক দেশে যা অকল্পনীয়।

Advertisement

[আরও পড়ুন: দেউচা-পাঁচামি নিয়ে রাজ্যপালের দ্বারস্থ বিজেপি, খনি অঞ্চল পরিদর্শনে যেতে পারেন ধনকড়]

এদিকে, রাজ্যপালের ক্ষমতা খর্ব করতে চলেছে রাজ্য। বিধানসভায় এই মর্মে প্রস্তাব পেশ করেছেন রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এর ফলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট বৈঠকের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ এবার সরাসরি রাজ্যপালকে না জানিয়ে শিক্ষাদপ্তরকে জানাবে। শিক্ষাদপ্তর থেকে তথ্য যাবে রাজভবনে। এরফলে আচার্য হিসাবে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বিষয়ে যাতে রাজ্যপাল সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে না পারেন। পার্থবাবু এদিন বিধানসভায় বলেন, ‘বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও রাজ্যপাল বিল আটকে রাখছেন। ওঁর নির্দিষ্ট কোনও প্রশ্ন থাকলে করুন। কিছু বক্তব্য থাকলে জানান। কিন্তু কিছুই বলছেন না। এত গুরুত্বপূর্ণ বিলটিও আটকে রেখেছেন। বিষয়টি বিধানসভার সকলের জানা উচিত। তাই অধ্যক্ষের কাছে জানিয়ে রাখলাম।’

Advertisement

বিষয়টি নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘রাজ্যপাল এই বিল নিয়ে যতবার যা জানতে চেয়েছেন তা জানানো হয়েছে। কোনও ত্রুটি রাখা হয়নি। তারপরও উনি অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। এটা ঠিক না।’

[আরও পড়ুন: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশের জের, অমিত শাহকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের]

ছবি: অমিত ঘোষ

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.