নব্যেন্দু হাজরা: ওঁরা এসেছিল গঙ্গার তলা দিয়ে প্রথম মেট্রো সফর করবে বলে। স্কুল থেকেই নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু সেই সফরের সঙ্গী যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা কল্পনাতেও আনতে পারেননি সোনিকা, শ্রীজিতা, সায়করা। যখন জানতে পারল, তখন যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। ‘‘তবে এত দ্রুত গোটা বিষয়টা হয়ে গেল, যে……। আসলে একটা ছবি তুলতে পারলে আরও ভালো লাগত।’’ বলছিলেন দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
বুধবার সকালে মহাকরণ স্টেশন থেকে মেট্রোয় চড়েছিল বিভিন্ন স্কুলের কচিকাঁচারা। সেই দলে যেমন ছিল বেসরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। তেমনই ছিল কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও। ট্রেন এসপ্ল্যানেডে আসতেই সকলের চক্ষু চড়কগাছ। মেট্রোয় চড়ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে ঘিরে নিরাপত্তাবলয়। কিন্তু ট্রেন হাওড়ার দিকে এগোতেই সবকে সরিয়ে মোদী গিয়ে বসলেন পড়ুয়াদের মাঝে। তার পর জুড়লেন গল্প। শুনলেন তাঁদের ছোটবেলার নানা গল্প। তাঁদের মেট্রোয় চড়ার অভিজ্ঞতা। এমনকি গঙ্গার তলা দিয়ে মেট্রোয় চড়তে তাঁদের কেমন লাগছে, সেকথাও মন দিয়ে শুনলেন মোদি। আগামী প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা কী চায় তাও তাঁদের থেকে জানলেন। প্রায় ১২ মিনিটের যাত্রাপথে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় স্কুলপড়ুয়াদের নানা অভিজ্ঞতার কথা উঠে এল। প্রয়োজনে তাঁদের দিলেন পরামর্শও। তাঁকে এত কাছে পেয়ে যেন চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না বিভিন্ন স্কুলের সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা।
[আরও পড়ুন: ব্রেকফাস্টে ভাত চেয়ে কী পেলেন শাহজাহান? সিবিআইয়ের খাঁচায় কেমন আছেন সন্দেশখালির ‘বাঘ’?]
এক বেসরকারি স্কুলের ছাত্রী সোনিকা বসুচৌধুরী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে এত সামনে থেকে দেখব, কখনও ভাবতেই পারিনি। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কিন্তু উনি কি সাধারণভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বললেন। যারা একটু দূরে ছিল, তাঁদের আবার কাছে ডাকলেন।’’ একই কথা শ্রীজিতা সাহার গলাতেও। সেও একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্রী। জানায়, ‘‘ঊফ, কী যে ভালো লাগছে। যখন জানতে পারলাম মেট্রোয় চড়বেন প্রধানমন্ত্রী, নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।’’ ট্রেনে ছিলেন বেশ কয়েকজন শিক্ষিকাও। ফোর্ট ইউলিয়াম কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রিয়াংসি বারিকও খুব খুশি এদিন প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে।
একই কথা শোনা গেল মেট্রোর দুই চালকের গলাতেও। এদিন যে মেট্রোটি এসপ্ল্যানেড থেকে হাওড়া ময়দানের উদ্দেশে ছোটে তার মোটরম্যান ছিলেন দীপক কুমার এবং জয়দীপ ঘোষ। প্রথম ট্রেন চালানোর কথা তঁারা জানলেও জানতেন না প্রধানমন্ত্রী তাতে চড়বেন। সকালে এসপ্ল্যানেডে এসে তাঁরা জানতে পারেন সেকথা। জানান, একটা আলাদা উত্তেজনা তো ছিলই। প্রধানমন্ত্রী ট্রেনে আছেন। সেটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা। সারাজীবন এই দিনটার কথা মনে থাকবে। মেট্রো সফরের আগে আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

[আরও পড়ুন: বেঙ্গালুরুর রেস্তরাঁয় বিস্ফোরণে অভিযুক্তের মাথার দাম ১০ লক্ষ! ঘোষণা NIA-র]
সর্বশেষ খবর
-
অভিষেককে তৃণমূলের ‘সুবিধাভোগী’ বলে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি, পালটা প্রশ্ন প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্টের
-
অদ্ভুত রেকর্ডের স্বপ্ন! ঘণ্টার পর ঘণ্টা অ্যাকোরিয়ামে ডুবে যুবক, তারপর…
-
ভবন নেই, নেই শয্যাও, অথচ কর্মী সংখ্যা ৮৭! কাগজ-কলমে দিব্যি চলছে ইন্দোরের হাসপাতাল
-
এখনও ঢোকেনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা! হাবড়া পুরসভায় ভাঙচুর, বিক্ষোভ শতাধিক মহিলার
-
‘কালা হিরণ’-এর প্রযোজককে খুনের হুমকি পাক গ্যাংস্টারের! নিরাপত্তা চেয়ে শাহের দ্বারস্থ