ফুটবল বিশ্বকাপের গনগনে আঁচে সংবাদপত্রে কিছুটা হলেও জৌলুস হারিয়েছে ক্রিকেট। কিন্তু ক্রিকেট রাজনীতি তা হারায়নি। আরও ভালো করে বললে, বঙ্গ ক্রিকেটের রাজনীতি। তার চিঠির রাজনীতি।
রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ডক্টর ইন্দ্রনীল খাঁ-এর কাছে মাঝে মাঝেই বঙ্গ ক্রিকেটের দুর্নীতি নিয়ে চিঠি-চাপাঠি চলে যাচ্ছে। কখনও যা দিচ্ছেন প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া। ময়দানে ক্রিকেট-দুর্নীতি রোধ নিয়ে। কখনও আবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন সিএবি ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পালটা প্রতিবাদী চিঠি পেশ করছে। শনিবার আবার সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার নামে চিঠি পাঠালেন এরিয়ান ক্লাবের সচিব সমর পাল। ক্রীড়ামন্ত্রী নয়। তিনি চিঠি পাঠালেন, সোজা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে!
আরও পড়ুন:
শনিবার আবার সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার নামে চিঠি পাঠালেন এরিয়ান ক্লাবের সচিব সমর পাল। ক্রীড়ামন্ত্রী নয়। তিনি চিঠি পাঠালেন, সোজা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে!
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে সমর অভিযোগ তুলেছেন যে, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে কোনও সিএবি কর্তা যদি সবচেয়ে বেশি ‘লাভবান’ নিয়ে থাকেন, তা হলে তিনি অভিষেক!
চিঠিতে সমর লিখেছেন, ‘ময়দানের ক্রিকেট দুর্নীতি নিয়ে আমি অভিষেক ডালমিয়াকে পরপর কয়েকটা চিঠি লিখতে দেখলাম ক্রীড়ামন্ত্রীকে। নির্দিষ্ট করে কারও নাম-ধাম ছাড়া। পুরোটাই করা হয়েছে, বর্তমান রাজ্য সরকারের মনে সংস্থার প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি করতে। এটাও বলতে চাই, রাজ্যে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস জমানায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছিলেন অভিষেক। ২০১৫ সালে ওঁর বাবা জগমোহন ডালমিয়া প্রয়াত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে অভিষেককে দেখা গিয়েছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে। সিএবিতে নিজের পদ নিশ্চিত করতে। অথচ তার আগে কোনও কমিটিতে ছিলেন না অভিষেক। সেখান থেকে সহানুভূতি নিয়ে সিএবি সচিব হয়ে গেলেন। অথচ যাঁরা বছরের পর বছর সিএবির সেবা করলেন, তাঁরা বঞ্চিত হলেন। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আমি সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। ২০১৯ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বোর্ড প্রেসিডেন্ট হয়ে যাওয়ার পর আমিই প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতম ছিলাম। কিন্তু আবার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চলে যান অভিষেক। প্রেসিডেন্ট হতে। ওঁর পিতার মৃত্যুর পর সাত বছর সিএবিতে ছিলেন অভিষেক। গত সরকার থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন অভিষেকই।’
সমরের এহেন চিঠি প্রকাশ্য হওয়ার হাসাহাসি শুরু হয়ে গিয়েছে ময়দানে। স্থানীয় ক্রিকেটহল বলছে, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে অভিষেকের ‘অনুগ্রহ’ পাওয়া নিয়ে যিনি অভিযোগপত্র পাঠাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে, তিনি নিজেই এক সময় সিপিএম সরকারের ‘হাত’ ধরে সিএবি সচিব হয়েছিলেন! প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের প্যানেলে দাঁড়িয়ে। যে প্যানেল আদতে ছিল সে সময়ের সিপিএম সরকারের সমর্থিত! এখানেই শেষ নয়। বলা হচ্ছে, সিএবিতে জগমোহন ডালমিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচন জিততে আটশো পুলিশ নামিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন সিপিএম সরকার! সিএবিকে ‘দুর্গে’ পরিণত করে। ক্রিকেটমহল বলছে, সমরের নিজের দিকে তাকানো উচিত কারও নামে বলার আগে। ভাবা উচিত, তিনি কীভাবে সিএবি সচিব হয়েছিলেন? ভাবা উচিত, কোন যুক্তিতে অতীত বোর্ড প্রেসিডেন্ট শরদ পাওয়ারকে বলে এসেছিলেন, বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায় ডালমিয়া প্রশাসন থাকলে ইডেনকে ভালো ম্যাচ না দিতে! সেই লোকের ‘ঢাক’ বাজানো কে শুনবে? ময়দান তির্যক ভাবে বলছে, সমরের তো উচিত সর্বাগ্রে নিজের ক্লাবের দিকে তাকানো। এরিয়ান ফুটবল টিমের দিকে তাকানো। যারা প্র্যাকটিসের জন্য মাঠ পেতে ‘যাযাবরের’ মতো ময়দানে ঘুরছে!
প্রেসিডেন্ট হতে। ওঁর পিতার মৃত্যুর পর সাত বছর সিএবিতে ছিলেন অভিষেক। গত সরকার থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন অভিষেকই।
অভিষেককে এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করে তিনি বললেন, ‘‘সমরদা অভিযোগ করেছেন যে, সিএবি প্রেসিডেন্ট পদে ওঁকে লড়তে দেওয়া হয়নি। যা সর্বৈব মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন। কখনওই ওঁকে বলা হয়নি, প্রেসিডেন্ট পদে আপনি দাঁড়াবেন না। তা ছাড়া সেই সময় উনি ভাইস প্রেসিডেন্টও ছিলেন না। ওঁর মেয়াদ ২০১৯ সালে শেষ হয়ে গিয়েছিল। সমরদার বোঝা উচিত, কোনও ভাইস প্রেসিডেন্ট চাইলেই সংস্থার প্রেসিডেন্ট হয়ে যেতে পারেন না। তাঁকে নির্বাচন লড়ে আসতে হয়। আমি এটাও দেখলাম যে, উনি বলেছেন, ওঁর দিকে নাকি সদস্যদের সমর্থন ছিল। যা অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।’’ এখানেই না থেমে প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেকের সংযোজন, ‘‘ইতিহাস দেখলেই বোঝা যাবে যে, আমার প্রয়াত বাবার বিরুদ্ধে উনি বারবার নির্বাচন লড়েছেন। এবং প্রত্যেকবার হেরেছেন! সমরদা যদি আমার বিরুদ্ধে নির্বাচন লড়তে চাইলে, আমি সে সুযোগ সাদরে গ্রহণ করতাম। নির্বাচনের মাধ্যমে ওঁকে হারাতে আমার ভালোই লাগত!’’
তবে সিএবি-র প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের ধারণা, এহেন চিঠির পিছনে পর্দার আড়ালে কেউ রয়েছেন। অভিষেক বলেছেন, ‘‘কোনও তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ এলে, একটাই প্রশ্ন ওঠে। এ ধরনের বিবৃতি আসছে কোথা থেকে? বিবৃতির ধরন, সময় দেখে তো বরং মনে হচ্ছে, এর পিছনে কোনও স্বার্থসিদ্ধির অভিসন্ধি নেই তো? তথ্যের বদলে? এমন কেউ নেই তো নেপথ্যে যার প্রভাবে বা পরামর্শে পুরো বিষয়টা করা হচ্ছে? যে কি না এরিয়ান ক্লাবের প্রশাসনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে?’’ ময়দানের বলছে, অভিষেকের ইঙ্গিত কি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দিকে? যিনি সিএবির সঙ্গে এরিয়ান ক্লাবেরও প্রেসিডেন্ট!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বৈভবের অভিষেকেও এল না জয়, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল ভারত
-
রাস্তা তৈরিতে এবার ব্যবহার হবে ‘ম্যাস্টিক অ্যাসফল্ট’! বড় উদ্যোগ সিকিম সরকারের
-
ভাড়াবাড়িতে ভাগ্নের সঙ্গে লিভ ইন! ‘খুন’ করে ট্রেন লাইনে ঝাঁপ মামির, জোড়া দেহ উদ্ধার বসিরহাটে
-
ম্যাচ জিতে মেসি জড়িয়ে ধরতেই চুমু সাংবাদিক সোফির! শুরু সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন
-
মায়ানগরীর অবিরাম বৃষ্টিতেও ছুটি নেই, সাদা-কালো আবহে ছবি পোস্টে কী বার্তা ভিকির?