TMC

ধর্মতলাতেই ‘শহিদ দিবস’ করতে চায় কালীঘাট তৃণমূল, চিঠি গেল কলকাতা পুলিশে

এবার কলকাতা পুলিশের কাছে সেই বিষয়ে চিঠি দিল কালীঘাট তৃণমূল। ২১ জুলাই শহিদ দিবস ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই পালনের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে ওই চিঠি গেল।

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুন ২৭, ২০২৬, ১৮:৪১

options
link
ধর্মতলাতেই ‘শহিদ দিবস’ করতে চায় কালীঘাট তৃণমূল, চিঠি গেল কলকাতা পুলিশে
অতীতে ধর্মতলার সভামঞ্চে তৃণমূল নেত্রী। ফাইল চিত্র

“৫ জন লোক হলেও ধর্মতলায় যাব।” ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন নিয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কলকাতা পুলিশের কাছে সেই বিষয়ে চিঠি দিল কালীঘাট তৃণমূল। ২১ জুলাই শহিদ দিবস ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই পালনের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে ওই চিঠি গেল। গত কয়েক দশক ধরে যেমন ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তৃণমূলের তরফে শহিদ দিবস পালন করা হয়েছে, এবারও তেমনভাবেই ওই জায়গায় ২১ জুলাই পালন করতে চায় তৃণমূল। তবে সেই আবেদন মঞ্জুর হবে কি? সেই প্রশ্ন উঠেছেই।

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূল কংগ্রেসে মুষলপর্ব দেখা গিয়েছে। দল ঋতব্রত তৃণমূল ও কালীঘাট তৃণমূল সরাসরি দুই ভাগ হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই মুহূর্তে হাতে গোনা নেতা রয়েছেন। ‘দিদি’র ছায়াসঙ্গী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসও শিবির বদল করেছেন। এই অবস্থায় তৃণমূলের ‘মেগা ইভেন্ট’ শহিদ দিবস কীভাবে হবে, কোথায় হবে? কারা করবে? সেই চর্চা শুরু হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সেই আবহে দিন কয়েক আগে ফোনে কর্মীদের জন্য নেত্রীর বার্তা, “৫ জন লোক হলেও ধর্মতলায় যাব।” এরপরই কলকাতা পুলিশকে ‘শহিদ দিবস’ পালনের আবেদন জানিয়ে চিঠি দেওয়া হল। 

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূল কংগ্রেসে মুষলপর্ব দেখা গিয়েছে। দল ঋতব্রত তৃণমূল ও কালীঘাট তৃণমূল সরাসরি দুই ভাগ হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই মুহূর্তে হাতে গোনা নেতা রয়েছেন। ‘দিদি’র ছায়াসঙ্গী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসও শিবির বদল করেছেন।

সংগঠন বাঁচিয়ে রাখতে একুশের মঞ্চে সম্ভবত নয়া বার্তাকে সামনে রেখে জমায়েত করতে চাইছে তৃণমূল। ‘আমরা বেইমান নই’ ব্যানারে আয়োজন করা কর্মিসভা থেকে মমতা ফোনো বার্তায় বলেন, ‘শহিদ স্মরণ কর্মসূচি বছর বছর ধর্মতলাতেই করে এসেছে তৃণমূল। এবারও পুলিশের অনুমতি পেলে সেখানেই সেই কর্মসূচি হবে। ৫ জন কর্মী থাকলেও মিটিংয়ে যাব।’ ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের প্রস্তুতি মঞ্চ থেকেই মমতার বক্তব্য, ‘যাঁদের শুভবুদ্ধি আছে তাঁরা ফিরে আসুন। মনে রাখবেন যাঁরা গিয়েছেন তাঁরা না ঘরকা-না ঘাটকা। টাকার লোভে আমরা দল বিক্রি করে দিতে পারব না।’ রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সংগঠনের বাঁচাতে ধর্মতলা সমাবেশের মঞ্চকেই শেষ হাতিয়ার করতে চাইছেন মমতা। তাই বিদ্রোহীদের দলে ফেরানোর শেষ চেষ্টা হাতছাড়া করতে চাইছেন না ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ সুপ্রিমো? 

Advertisement

এদিকে তৃণমূল রাজ্যে পরাজিত হতেই বিরোধী হিসেবে প্রদেশ কংগ্রেসও খানিক অক্সিজেন পেয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। প্রদেশ কংগ্রেসও এবার ২১ জুলাই পালন করতে চায়।

এদিকে তৃণমূল রাজ্যে পরাজিত হতেই বিরোধী হিসেবে প্রদেশ কংগ্রেসও খানিক অক্সিজেন পেয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। প্রদেশ কংগ্রেসও এবার ২১ জুলাই পালন করতে চায়। এবার কংগ্রেস ২৮ বছর পর প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের কথায়, “এই কর্মসূচি শুধু শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নয়। একইসঙ্গে এটি সংবিধান রক্ষা, ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা, শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ধারাবাহিক সংগ্রামেরও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে।”সদর দপ্তর বিধান ভবনের বাইরে এসে একেবারে শহিদ মিনারে এই কর্মসূচি করছে। রাহুল গান্ধীকে এই শহিদ স্মরণে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই ২১ জুলাই শহিদ স্মরণের আসল উদ্দেশ্য ‘নষ্ট’ হয়েছে বলে নিশানা প্রদেশ কংগ্রেসের।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.