অর্ণব আইচ: সোনাগাছিতে সিসিটিভি বসাতে নারাজ যৌনকর্মীরা। তাতে নষ্ট হবে ‘গোপনীয়তা’। মন্দা হবে ব্যবসায়। কিন্তু অপরাধী ধরতে সিসিটিভি ক্যামেরার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলল’ পুলিশ। উত্তর কলকাতার বড়তলা থানার আধিকারিকরা সোনাগাছির যৌনকর্মী, দালাল থেকে শুরু করে এলাকার ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করে বোঝালেন, গত কয়েকমাস আগে যৌনকর্মী খুনের ঘটনায় শুধু এলাকায় সিসিটিভি না থাকার জন্যই কী বেগ পেতে হয়েছিল পুলিশকে।
১৭০০টি কল ডাম্প করে খুনিকে শনাক্ত করে তাকে ভিনরাজ্য থেকে ধরা হয়। ফের বড় কোনও অপরাধ যদি সোনাগাছিতে ঘটে, তখন খুনিকে ধরতে সমস্যা হতে পারে। তাই যৌনকর্মীদের গোপনীয়তা বজায় রেখেই রাস্তায় বসানো যেতে পারে সিসিটিভির ক্যামেরা। তাতেই রাজি হলেন যৌনকর্মী ও এলাকার বাসিন্দারা। বড়তলা থানার পুলিশের উদে্যাগে এবার সোনাগাছির গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে বসছে ৩০টি সিসিটিভির ক্যামেরা।
[আরও পড়ুন: আজ মরশুমের শীতলতম দিন, কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ]
পুলিশ জানিয়েছে, পদ্ধতি পালটে বড়তলার যৌনপল্লি সোনাগাছিতে হচ্ছে বেশ কিছু অপরাধ। তার কিনারাও করছে পুলিশ। যেমন, ভিনরাজ্য ও কলকাতার আশপাশের এলাকা থেকে সোনাগাছিতে আসা বহু যুবককে বিভিন্ন টোপ দিয়ে নিয়ে আসা হয় ঘরে। আবার মেসেজ পার্লারে মেসেজ করানোর নামেও সোনাগাছিতে নিয়ে আসে হয়েছে, এমন প্রমাণও রয়েছে পুলিশের কাছে। এর পরই শুরু হয় তোলাবাজি। কখনও বাড়িতে জানিয়ে দেওয়ার, আবার কখনও বা পুলিশে খবর দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই যুবকদের কাছ থেকে লুঠপাট করা হয়েছে। শেষ কয়েকবারের ঘটনায় একাধিক যুবকের হাতে নগদ টাকা না থাকায় মোবাইলে ই ওয়ালেটের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে টাকা।
আবার এটিএম কার্ড লুঠ করেও পিন নম্বর জেনে নিয়ে টাকা তোলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুয়ায়ী, ২০২০ সালে এই ধরনের লুঠপাটের দু’টি মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার ও সাত হাজার টাকা উদ্ধার হয়। ২০২১ সালে দু’টি ঘটনায় তিনজন গ্রেফতার হয়, উদ্ধার হয় পাঁচ হাজার টাকা। সেখানে গত বছর ন’টি লুঠপাটের ঘটনা ঘটে। এই ব্যাপারে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। ধৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা। অনেকে একাধিকবার অপরাধ ঘটিয়েছে। তাদের শনাক্ত করার জন্যও এলাকায় সিসিটিভির প্রয়োজন।
এছাড়াও যৌনপল্লি লাগোয়া বহু বাড়িতেও ঘণ্টাপিছু ঘর ভাড়া নিয়ে বাইরে থেকে যুগল আসে, এমন তথ্যও আসে পুলিশের হাতে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যৌনপল্লির বাসিন্দা ও এলাকার বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে বৈঠক করেই এভাবে ঘর ভাড়া দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও যৌনপল্লিতে খুন ও ডাকাতির মতো অপরাধ ঘটিয়ে যদি কেউ পালায়, সেই অপরাধীর সন্ধান পেতে য়াতে পুলিশকে সমস্যা না পড়তে হয়, তার জন্যই সিসিটিভি বসানোর পরিকল্পনা করে পুলিশ। কিন্তু বাধ সাধেন যৌনকর্মীরা। তাঁরা সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে দিতে নারাজ।
তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বড়তলা থানার পুলিশ আধিকারিকরা এলাকায় যে ধরনের অপরাধ হচ্ছে, তা তুলে ধরেন। অপরাধীদের খোঁজ পেতে সিসিটিভির গুরুত্ব বোঝান। শেষে সবাই রাজি হতে পুলিশের পক্ষ থেকে সোনাগাছি অঞ্চলের অবিনাশ কবিরাজ লেন, ইমাম বক্স লেন, গরানহাটা সহ প্রবেশ ও বেরনোর রাস্তায় ৩০টি জায়গা শনাক্ত করা হয়। সেখানে এলাকার বাসিন্দা ও থানার উদ্যোগেই বসানো হচ্ছে ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এতে অপরাধ আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[আরও পড়ুন: NJP নয়, ৩ জানুয়ারি বন্দে ভারতে পাথর ছোঁড়া হয় বিহার থেকে, প্রকাশ্যে সিসিটিভি ফুটেজ]
সর্বশেষ খবর
-
কালীঘাট মন্দিরে গয়না চুরিতে সিবিআই তদন্তের দাবি! এবার ‘সুপ্রিম’ দরবারে সাবর্ণ পরিবার
-
শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসন, ‘গুরুকুল’ শিক্ষাব্যবস্থার প্রাণভ্রমর
-
পুজোর আগেই বিজেপিতে ১৭ এনসিপিআই সাংসদ! জগদীশ বসুনিয়ার দাবি ঘিরে আলোড়ন
-
‘একলা চলো রে…’, এশিয়াড জিমন্যাস্টিক্সে ভারতের হয়ে ‘একক’ লড়াইয়ে বঙ্গকন্যা প্রণতি
-
শুভশ্রীর সঙ্গে সকলের সামনে কথা বলতে ‘ভয়’ পান দেব! জানেন কেন?