নব্যেন্দু হাজরা: রাস্তা ফাঁকা। তবুও নিয়ম মানতে গিয়ে প্রতি সিগন্যালে ১৮০ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে ক্যাব। পরের পর লাল আলো দেখতে দেখতে রায় দম্পতি এয়ারপোর্টে যখন পৌঁছলেন, তখন ফ্লাইট ছাড়তে আধ ঘণ্টাও বাকি নেই। কোনওক্রমে ছোটাছুটি, অনুরোধ-উপরোধ করে ফ্লাইটে উঠলেন বটে, কিন্ত তাঁদের তখন টেনশনে হার্টবিট বন্ধ হওয়ার জোগাড়।
[আরও পড়ুন: শহরের বাতাস পরিশুদ্ধ করতে বিশ্বমানের এয়ার পিউরিফায়ার বসাবে কলকাতা পুরসভা]
এ সমস্যা ওইদিন শুধু রায় দম্পতির হয়নি। সকাল-বিকেল-রাত, এই দীর্ঘক্ষণ সিগন্যালের জালে জড়িয়ে নিত্য ভুগছেন বহু মানুষ। কখনও লালের ফাঁসে ফেঁসে স্কুলবাসের লেটে হচ্ছে, আবার কখনও অফিসবাবুর অফিসে। অভিযোগও আসছে প্রচুর। আর সেই অভিযোগ মেটাতেই এবার সিগন্যালের সময় কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নিচ্ছে কলকাতা ট্রাফিক। সম্প্রতি লালবাজারে ২৫টি ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে ঠিক হয়েছে, ১০ দিন পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি মোড়ে সিগন্যালের সময় কমানো হবে। দেখা হবে এর ফলে যানে আরও গতি আসে কি না! পাইলট প্রোজেক্ট সফল হলে আগামিদিনে কমানো হবে বড় ক্রসিংয়ে সিগন্যালের সময়। আপাতত রাত ১০টা থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি সিগন্যালে সময় কমানো শুরু হয়েছে। ১৮০ সেকেন্ডের পরিবর্তে ৯০-১২০ সেকেন্ড খোলা-বন্ধ করা হবে সিগন্যাল। ইএম বাইপাস, সিআর অ্যাভিনিউ-এমজি রোড ক্রসিং, রুবি ক্রসিংয়ে রাত ১০টা থেকে এই সিগন্যালিং সিস্টেম বদল করা হচ্ছে। ট্রাফিক কর্তারা জানাচ্ছেন, অনেকক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, রাতের দিকে গাড়ির ততটা না থাকলে স্রেফ নিয়মের গেরোয় ফাঁকা রাস্তাতেও গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকছে তিন মিনিট। বড় ক্রসিংয়ে সময় লেগে যাচ্ছে দীর্ঘক্ষণ। এই সময় কমাতেই কলকাতা ট্রফিক সিগন্যালের সময় কমানোর চিন্তাভাবনা করছে।
কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে তিনভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রিত হয়। এক, রিয়েল টাইম সিস্টেম। দুই, প্রতি ঘণ্টায় কোথা দিয়ে কত গাড়ি যাচ্ছে তা দেখে। আর তৃতীয়ত দেখা হয় ট্রাফিক ফ্লো দেখে। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের এক কর্তার কথায়, বর্তমানে যে সিগন্যালিং পদ্ধতি রয়েছে, তাতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তাই গাড়ি চলাচলকে আরও বেশি করে মসৃণ করতেই সিগন্যালিংয়ে কিছু বদল আনা হচ্ছে। নয়া প্রযুক্তিতে আন্ডারগ্রাউন্ড ইন্ডাকশন লুপ সেন্সর ব্যবহার করে দেখে নেওয়া যাবে কোন রাস্তায় কোন সিগন্যালে কত গাড়ি রয়েছে। সেই অনুযায়ী অটোমেটিক্যালি সিগন্যাল বন্ধ হবে-খুলবে। আর তাতে যানজটের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যাবে।
[ আরও পড়ুন: একের পর এক হুমকি ফোন, কলকাতায় বাতিল ‘বিফ ফেস্টিভ্যাল’]
সর্বশেষ খবর
-
‘২০ কোটি না দিলে…’, বাড়িতে গুলি চালানোর পর এবার রোহিতকে প্রাণনাশের হুমকি বিষ্ণোই গ্যাংয়ের
-
হরমুজ সংকট সামলে কন্টেনারে ডিজেল কেনায় উঠল নিষেধাজ্ঞা, বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের
-
বর্ষায় ছাদ যেন আস্ত পুকুর, ড্রেনেজ পাইপ সাফ করার অব্যর্থ কৌশল জানেন কি?
-
‘অনেক মাল কামিয়েছে’, স্নেহাশিস-সহ ‘ঋতপন্থী’দের বিঁধে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘চোর’ ধরার আবেদন কল্যাণের
-
‘ডিম থেরাপি’র পর উধাও! বহরমপুর থেকে গ্রেপ্তার শওকত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা