সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কৃষি বিল (Farm Bill, 2020) থেকে সাংসদ বহিষ্কার, জিএসটির প্রাপ্য থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো, সোমবার একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রের মোদি সরকারকে তুলোধোনা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্র ‘হিটলারি কায়দায়’ সরকার চালাচ্ছে বলে তীব্র সমালোচনা করে মমতার হুঁশিয়ারি, দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে উঠবে। বাংলা গোটা দেশকে পথ দেখাবে। কৃষি বিল ও সাংসদদের বহিষ্কারের বিরোধিতা করে আগামিকাল, মঙ্গলবার থেকে আন্দোলনে নামছে তৃণমূল বলেও জানিয়ে দিলেন নেত্রী।
এদিন নবান্নের সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠকে করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bannerjee)। সেখান থেকেই কৃষি বিলের তীব্র নিন্দা করেন তিনি। বলেন, “ভুঁইফোড়-জোতদারদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্র। চাষিদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে।” কেন্দ্রকে ‘মজুতদার’, ‘কালোবাজারির সরকার’ বলে কটাক্ষ করে মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “দেশে এবার খাদ্যের দুর্ভিক্ষ আসতে চলেছে।” কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি তাঁর প্রশ্ন, “চাষিদের জন্য কী করেছেন? কেউ কেউ দাবি করছেন, তাঁরাও কৃষক। কোনওদিনও লাঙল দিয়ে দেখেছেন?” রবিবার কৃষি বিলের সমর্থনে সাংবাদিক বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিজেকে কৃষক বলে দাবি করেছিলেন। এদিন নাম না করেই তাঁকে কটাক্ষ করে মমতার শ্লেষ, “কেঁচো ধরতে পারে না, অজগর ধরতে এসেছে!”
[আরও পড়ুন : ‘রাজ্য পুলিশের ডিজি উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে আছেন’, ফের বিস্ফোরক ধনকড়]
প্রসঙ্গত, রবিবার কৃষি বিল নিয়ে বিরোধিতা করায় রাজ্যসভা থেকে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন-সহ আটজনকে সোমবার দিনের শুরুতেই বহিষ্কার করেন চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু। এরপরই টুইট করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। গত রবিবারকে ‘ব্ল্যাক সানডে’ বলে উল্লেখ করে সাংবাদিক বৈঠক থেকে সাংসদদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ”আপনাদের নিয়ে আমি গর্বিত। আপনাদের পাশে আছি।” এ বিষয়ে বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, “সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। হিটলারি কায়দায় দেশ চলছে।” এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের একজোট হওয়ার ডাক দেন মমতা। দেশজুড়ে আন্দোলন শুরুর কথা বলেন।
রাজ্যসভায় সাংসদদের বহিষ্কারের বিরোধিতা করে মঙ্গলবার থেকে রাজ্যে আন্দোলনে নামছেন তৃণমূল কর্মীরা। সেই কর্মসূচিও এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে জানিয়ে দেন মমতা। ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধরনা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তৃণমূলের মহিলা নেতা,কর্মীরা। বুধবার প্রতিবাদে সামিল হবে ছাত্রসমাজ। আর তারপর থেকে প্রতিবাদ জানাবে তৃণমূলের কৃষক সংগঠন। এদিকে সোমবার সারারাত সংসদ চত্বরে ধরনা দেবেন ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন। এ দিন মমতা বলেন, “বাংলাই বারবার পথ দেখায়। বাংলাই দেশের আমজনতাকে নিয়ে লড়ছে। তৃণমূল পিছনের সারিতে থেকে কাঁসর-ঘণ্টা বাজাবে। সামনের সারিতে থাকবে সাধারণ মানুষ।”
[আরও পড়ুন : আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে হবে পরীক্ষা, UGC’র নির্দেশে মত বদল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের]
এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে জিএসটির বকেয়া না মেটানো আরও একবার কেন্দ্রকে নিশানা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “ভাত দিতে পারে না, কিল মারার গোঁসাই।” সোস্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো নিয়েও বিজেপিকে এক হাত নেন মমতা।
সর্বশেষ খবর
-
স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট না পেয়ে সর্বহারা পরিবার! সুদীপ্তার ডাকে ঘাটালের অসহায় ‘লক্ষ্মী’র পাশে দেব
-
‘ককটেল ২’-তে কৃতির থেকে চোখ ফেরানো দায়, নায়িকার জেল্লার রহস্য লুকিয়ে বিশেষ পানীয়তেই
-
পড়াতে এসে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হেনস্তা ৭১ বছরের গৃহশিক্ষকের! চাঞ্চল্য বাসন্তীতে
-
পরিবারপিছু বিনামূল্য ৩টি গ্যাস সিলিন্ডার, বাসে ভাড়া মুকুব রূপান্তরকামীদের! বড় ঘোষণা বিজয়ের
-
‘ফোমো’ থেকে ‘জোমো’, প্রযুক্তির সঙ্গে সুস্থ সম্পর্কের সচেতন অনুশীলন