বামেরা বলত ‘ভণ্ড’, মার্ক্স-লেনিন নিয়ে শুভেন্দুর সমালোচনায় শতরূপের ‘ঢাল’ সেই বিবেকানন্দই!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণের পালটায় বিবেকানন্দের ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের নাম তুললেন শতরূপ।

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ২১:১৩

options
link
বামেরা বলত ‘ভণ্ড’, মার্ক্স-লেনিন নিয়ে শুভেন্দুর সমালোচনায় শতরূপের ‘ঢাল’ সেই বিবেকানন্দই!

দুর্গাপুজোয় মণ্ডপের সামনে সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে লাগাতার সমালোচনা শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে। প্যান্ডেল থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে লাল শালু ও দলীয় পতাকায় সাজিয়ে বইয়ের স্টল রাখেন কমরেডরা, অথচ সেখানে মার্ক্স-লেনিন ছাড়া অন্য কোনও বই বিশেষত জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিত্ব তথা স্বামী বিবেকানন্দ, লোকেশ্বরানন্দজি, ভারত সেবাশ্রমের কোনও বই পাওয়া যায় না। শনিবারও এমনই কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কয়েকঘণ্টার মধ্যেই তার পালটা দিতে স্বামী বিবেকানন্দকে হাতিয়ার করল সিপিএম। দলের তরুণ নেতা পোস্টে উল্লেখ করলেন, বাঙালিকে প্রথম মার্ক্স, লেনিন পড়তে শিখিয়েছিলেন বিবেকানন্দের ভাই, কমিউনিস্ট বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। অথচ একসময়ে বামেরাই বিশ্ব কাঁপানো স্বামীজিকে ‘আধ্যাত্মিক সাম্রাজ্যবাদী’র মতো নানা নেতিবাচক বিশেষণে ভূষিত করেছিল। ইতিহাস তার সাক্ষী। সময়ের পরিবর্তনে এই বামপন্থীরাই আজ বিবেকানন্দকে ‘ঢাল’ করছেন।

Advertisement

শতরূপ ঘোষ সিপিএমের পার্টি স্টলে বিবেকানন্দের বই থাকার দাবি করে বলেন, “দুটো জিনিস জানতে পারবেন। প্রথম কথা হচ্ছে, আমাদের পার্টি স্টলে বিবেকানন্দের লেখা এবং বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা – এই দুই ধরনেরই একাধিক বই পাওয়া যায়। দ্বিতীয় কথা, বাঙালিকে আজ থেকে ১২০ বছর আগে মার্ক্স-লেনিনের বই পড়তে যিনি প্রথম শিখিয়েছিলেন, তিনি স্বামী বিবেকানন্দের নিজের ভাই, নিজের মায়ের পেটের ভাই, কমিউনিস্ট বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।”

শনিবার বামেদের তীব্র কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “৩৪ বছর ধরে যারা পুজো লিখতে দেয়নি, পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত, মন্ত্রোচ্চারণ, সাত্ত্বিকতা ভুলিয়ে দিয়েছিল। তারা মণ্ডপে প্রবেশ করে মাকে আরতি করেনি। অথচ প্যান্ডেল থেকে দূরে একটা লাল শালু লাগিয়ে বসত। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ, লোকেশ্বরানন্দজী, ভারত সেবাশ্রমের লেখা বই পাবেন না। সেখানে বাংলা তৈরির তত্ত্বের কোনও বই পাবেন না। দ্বিজাতি তত্ত্বে ভারত ভাগের বই পাবেন না। হনুমান চালিশা পাবেন না। কার্ল মার্ক্স, লেনিনের বই পাবেন।হনুমান চালিশা পাবেন না।’’

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এর পালটা দিতে গিয়ে সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ সিপিএমের পার্টি স্টলে বিবেকানন্দের বই থাকার দাবি করে বলেন, “দুটো জিনিস জানতে পারবেন। প্রথম কথা হচ্ছে, আমাদের পার্টি স্টলে বিবেকানন্দের লেখা এবং বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা – এই দুই ধরনেরই একাধিক বই পাওয়া যায়। দ্বিতীয় কথা, বাঙালিকে আজ থেকে ১২০ বছর আগে মার্ক্স-লেনিনের বই পড়তে যিনি প্রথম শিখিয়েছিলেন, তিনি স্বামী বিবেকানন্দের নিজের ভাই, নিজের মায়ের পেটের ভাই, কমিউনিস্ট বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।” এনিয়ে ফেসবুকে পোস্টও করেন তিনি।

Advertisement

এবার কি বেশি সংখ্যক বিবেকানন্দের বই থাকবে স্টলে? তাতে রবীন দেবের উত্তর, ‘‘আমাদের যা ক্ষমত, ততগুলি বই রাখব। আমরা মূলত বামপন্থী, মার্কসবাদ, লেনিনবাদ নিয়ে প্রগতিশীল বই বিক্রির জন্য রাখি। পাশাপাশি ছোটদের জন্য ‘ঠাকুমার ঝুলি’র মতো বইও রাখি।কারণ, ওরাও স্টলে আসে। আমরা বই পড়াই, ওরা (বিজেপি) বই পোড়ায়। আমরা তো বাম আমলে কখনও বলিনি স্টলে আরএসএসের জাতীয়তাবাদী বই রাখা যাবে না। বহুত্ববাদে বিশ্বাস করলে এটা কখনও করা যায় না।”

শতরূপ এখন যাই-ই বলুন, বিবেকানন্দের সমসময়ে এবং তাঁর পরবর্তীতে কমিউনিস্টদের কাছে বেশ সমালোচিত চরিত্র ছিলেন স্বামীজি। মানবেন্দ্রনাথ রায় থেকে এবি বর্ধন, স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে কম নেতিবাচক কথা বলেননি। কেউ তাঁকে স্রেফ হিন্দুধর্মের ধ্বজাধারী, কেউ বা ধর্মীয় আগ্রাসী হিসেবেই দেখেছেন। কালের নিয়মে আজ তাঁদের উত্তরসূরীরাই বিবেকানন্দের কমিউনিজম যোগ দাবি করছেন। অবশ্য বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা রবীন দেব। তিনি ‘ভণ্ড সন্ন্যাসী’ সমালোচনাকে ‘ত্রুটি’ স্বীকার করে নিয়েছেন। রবীন দেবের কথায়, ‘‘কোনও কোনও অতীত ত্রুটি থাকে। সেই ত্রুটি সরিয়ে আমরা সাফল্য তুলে ধরি। আপনারা ত্রুটি নিয়ে ব্যস্ত। কবে আমরা রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়া কবি বলেছিলাম, সেটা এখনও বলেন। কিন্তু আমাদের বক্তব্য, ত্রুটি যে আমরা স্বীকার করছি, সেটাও বলুন।” এবার কি বেশি সংখ্যক বিবেকানন্দের বই থাকবে স্টলে? তাতে রবীন দেবের উত্তর, ‘‘আমাদের যা ক্ষমত, ততগুলি বই রাখব। আমরা মূলত বামপন্থী, মার্কসবাদ, লেনিনবাদ নিয়ে প্রগতিশীল বই বিক্রির জন্য রাখি। পাশাপাশি ছোটদের জন্য ‘ঠাকুমার ঝুলি’র মতো বইও রাখি।কারণ, ওরাও স্টলে আসে। আমরা বই পড়াই, ওরা (বিজেপি) বই পোড়ায়। আমরা তো বাম আমলে কখনও বলিনি স্টলে আরএসএসের জাতীয়তাবাদী বই রাখা যাবে না। বহুত্ববাদে বিশ্বাস করলে এটা কখনও করা যায় না।”

এনিয়ে কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “একসময়ে ওরা ভণ্ড সন্ন্যাসী বলেছিল। আর আজ রাজনীতির নির্মমতা কতখানি যে সেই ভণ্ড বামেদেরই বিবেকানন্দের স্তুতি করতে হচ্ছে, বিবেকানন্দকে নিয়ে বক্তব্য রাখতে হচ্ছে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.