Kolkata

বাঘ বেরিয়েছে শুনে বাইরে বেরতেই বিপত্তি! পরিবহণ দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রতারণায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি

জালিয়াতি চক্রের পান্ডা নিজে প্রাক্তন সরকারি চাকুরে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২৭, ২০২১, ২২:০৩

options
link
বাঘ বেরিয়েছে শুনে বাইরে বেরতেই বিপত্তি! পরিবহণ দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রতারণায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি
ছবি: প্রতীকী

অর্ণব আইচ: কাছেই গ্রামে বাঘ বেরিয়েছে। শুনেই মা আর স্ত্রীকে নিয়ে ‘বাঘ দেখতে’ বেরিয়েছিল ব্যক্তিটি। আর তাতেই দক্ষিণ কলকাতার চারু মার্কেট থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ল সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে জালিয়াতি চক্রের পান্ডাকে। বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে অন্তত ৩০ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ রয়েছে পরিবহন সচিবের আপ্তসহায়কের প্রাক্তন ওই পিওনের বিরুদ্ধে।

Advertisement

দেড় বছর ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল তারকনাথ চক্রবর্তী নামে ওই প্রাক্তন সরকারি কর্মী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পিয়ালির একটি প্রত্যন্ত গ্রামে মাঠের মাঝখানে কুঁড়ে ঘর তৈরি করে কৃষক সেজে লুকিয়েছিল সে। তার সন্ধান পেতে রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা হয়েছিল পুলিশের। সম্প্রতি গ্রামে বাঘ বেরনোর পর পুলিশের ধারণা হয়, বাঘ দেখার উত্তেজনায় অন্যান্য গ্রামবাসীর সঙ্গে গ্রাম ছেড়ে বের হতে পারে সে। চারু মার্কেট থানার ওসি সুভাষ অধিকারীর নির্দেশে পুলিশের একটি টিম পিয়ালিতে হানা দেয়। স্ত্রী ও মাকে সঙ্গে নিয়ে ‘বাঘ দেখতে’ বের হয় সে। যদিও বাঘের দেখা না পেয়ে রবিবার রাতে নিজের গ্রামে ফিরে আসার সময়ই তাকে শনাক্ত করেন পুলিশ আধিকারিকরা। কলারিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তারকনাথ চক্রবর্তীকে। সোমবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে তাকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: নতুন বছরে কোন সরকারি ছুটিগুলি পাবেন? কোনগুলি ভেস্তে যাবে শনি-রবির চক্করে? জানুন]

পুলিশের কাছে খবর, এই চক্রে তারকনাথের আরও তিনজন সঙ্গী রয়েছে। এ ছাড়াও পরিবহণ দফতরের আরও একজন কর্মীর উপরও রয়েছে পুলিশের নজর। তিনি এই চক্রের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত, পুলিশ তা জানার চেষ্টা করছে।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে তারকনাথ ও তার সঙ্গীরা এই জালিয়াতি চক্রের কাজ শুরু করে। তখন সে ছিল পরিবহণ সচিবের আপ্তসহায়কের পিওন। এই দপ্তরের পর্ণশ্রীর অফিসে কর্মরত ছিল সে। নিজেও থাকত পর্ণশ্রীর উপেন ব্যানার্জি রোডে। এলাকায় নিজের প্রতিপত্তি বিস্তার করেছিল সে। বেহালা ও দক্ষিণ কলকাতার বহু বাসিন্দাদের মধ্যে সে বিশ্বাস তৈরি করে যে, পরিবহণ দপ্তরে চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা তার আছে। অভিযোগ, তাকে সাহায্য করত দপ্তরের এক কর্মী ও আরও কয়েকজন। তাদের সাহায্যে সে পরিবহণ দপ্তরের জাল সরকারি লেটারহেড, এক কর্তার জাল সই, জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করত। এভাবে টালিগঞ্জ রোডের বাসিন্দা এক ব্যক্তির ছেলে ও ভাগ্নিকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাত লাখ টাকা নেয় সে। ওই ভুয়া নিয়োগপত্র নিয়ে চাকরিতে যোগদান করতে যাওয়ার পরই চক্রের বিষয়টি সামনে আসে। তাঁরা টাকা ফেরত চান।

এভাবে বহু চাকরিপ্রার্থীকে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ৩০ লক্ষ টাকার উপর জালিয়াতি করে এই চক্র। প্রত্যেকেই টাকার চাপ দেওয়ায় ২০১৯ সাল থেকে ছুটিতে চলে গিয়ে উধাও হয়ে যায় সে। পর্ণশ্রীর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে থাকতে শুরু করে পিয়ালিতে। এই চক্রের বাকিদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[আরও পড়ুন: Omicron: ওমিক্রন রুখতে ফের জারি হতে পারে কড়া বিধিনিষেধ? জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.