দুর্নীতি রুখতে গত মঙ্গলবার টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে নবান্ন। কাটমানি থেকে সিন্ডিকেট, অবৈধ টোল বা মদের ঠেক, যে কোনও ধরনের দুর্নীতি বা অপরাধের অভিযোগ এই নম্বরে জানাতে পারছেন রাজ্যবাসী। একসপ্তাহ হল। কেমন অভিযোগ এলে কন্ট্রোলরুমের এই চার নম্বারে? নবান্নের কর্তারা জানাচ্ছেন, যে কারণে হেল্পলাইন খোলা, সেই ধরনের অভিযোগই আসছে না কন্ট্রোলরুমে। উল্টে ভুলভাল অভিযোগ শুনে জেরবার কন্ট্রোলরুমের আধিকারিকরা। কারও অভিযোগ, বাড়ির সামনে জল জমছে, কেউ বলছেন কলে জল পড়ছে না, কারেন্ট নেই বাড়িতে। আবার কারও অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি। কেউ কেউ তো শরিকি ঝামেলার কথাও এই কন্ট্রোলরুমে জানাচ্ছেন। নবান্নের এক কর্তার কথায়, গড়ে দিনে হাজারখানেক মতো ফোন আসছে। কিন্তু ৯০-৯৫ শতাংশই উল্টোপাল্টা অভিযোগ। যে উদ্দেশে এই ফোন নম্বর দেওয়া সেই ধরনের ফোন আসছে হাতে গোণা। আর এই ভুলভাল ফোনে নাজেহাল কন্ট্রোলরুমে বসা কর্মীরা।
আরও পড়ুন:
চালু হওয়া নম্বরগুলি হল— কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য ১৫৫৩৩৪, সিন্ডিকেট সংক্রান্ত অপরাধের জন্য ১৫৫৩৩৫, বেআইনি রোড ট্যাক্স বা টোল আদায়ের অভিযোগের জন্য ১৫৫৩৩৭ এবং বেআইনি মদের কারবারের জন্য ১৫৫৩৩৯।
নবান্ন সূত্রের খবর, কন্ট্রোল রুমে আসা প্রতিটি অভিযোগই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে যে চারটি নির্দিষ্ট বিষয়ে হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত অভিযোগ আসা মাত্রই তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ফরওয়ার্ড করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এক আধিকারিকের কথায়, আসলে অনেকে বুঝতেই পারছেন না ঠিক কি ধরনের অভিযোগ জানাতে এই নম্বর খোলা হয়েছে! রাজ্যে পুলিশের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি গ্রহণের লক্ষ্যেই গত মঙ্গলবার নবান্নে চারটি বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চালু হওয়া নম্বরগুলি হল— কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য ১৫৫৩৩৪, সিন্ডিকেট সংক্রান্ত অপরাধের জন্য ১৫৫৩৩৫, বেআইনি রোড ট্যাক্স বা টোল আদায়ের অভিযোগের জন্য ১৫৫৩৩৭ এবং বেআইনি মদের কারবারের জন্য ১৫৫৩৩৯।
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই নম্বরগুলিতে অভিযোগ নথিভুক্ত করা যাবে। সরকারের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, টোল-ফ্রি নম্বরের অপব্যবহার বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার উদ্দেশ্যে ভুয়ো তথ্য দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু তারপরও ভুয়ো ফোনেই ভরছে নবান্নের কন্ট্রোলরুম। এক আধিকারিক জানান, বেশ কয়েকজনকে বকাঝকাও করা হয়্ছে। কিন্তু তাতেও চিত্র বদলায়নি। হেল্পলাইনে আসা প্রতিটি ফোন রেকর্ড করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সেই রেকর্ড পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থাও থাকবে। নবান্নের এক কর্তা জানান, পানীয় জল পাচ্ছে না, রাস্তা খারাপের মতো অভিযোগগুলো আমরা নির্দিষ্ট দপ্তরকে পাঠিয়ে অ্যালার্ট করে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
-
ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর, মাকে শ্লীলতাহানি! পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ