Dumdum Airport

বিমানবন্দর লাগোয়া মসজিদ স্থানান্তরের উদ্যোগ, রাজ্যের প্রস্তাবে এখনও দ্বিধায় কমিটি

মসজিদটি বিমানবন্দরের পাঁচিলের ভিতর, রানওয়ের পাশেই। তা স্থানান্তরিত করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা চলছিল।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: মে ২৯, ২০২৬, ২০:০০

options
link
বিমানবন্দর লাগোয়া মসজিদ স্থানান্তরের উদ্যোগ, রাজ্যের প্রস্তাবে এখনও দ্বিধায় কমিটি
বিমানবন্দর লাগোয়া মসজিদ সরানোর উদ্যোগ

বিমানবন্দরের রানওয়ের প্রায় লাগোয়া শতাব্দী প্রাচীন মসজিদ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে সর্বজনমতের ভিত্তিতে। ইতিমধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দপ্তরে বিধায়ক ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। পরদিনই একটি বিশেষ দল ওই মসজিদ পরিদর্শন করতে যায়। তারপর বৈঠক হয় বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিরও। কিন্তু ইদের নমাজ ওই মসজিদে পড়েন বহু মানুষ। তাঁদের ভাবাবেগকেও প্রাধান্য দিতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

মসজিদ কমিটির তরফে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা চাই না আমাদের কারণে বিমানবন্দরের কোনও ক্ষতি হোক বা সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটুক। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় একটি মসজিদ তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে স্থানান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় আমরা এই মুহূর্তে নেই।”

ঠিক হয়েছিল, ইদ মিটলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামে মসজিদ নিয়ে। অনেকের কাছে যা ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থান বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিশেষ করে বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় বিমানের টেক-অফ ও অবতরণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও থমকে ছিল। সূত্রের খবর, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি বারেবারে আলোচনায় উঠে এসেছে। কিন্তু কখনও স্থানীয় বাধা, কখনও সরকারের ঢিলেমিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়নি। তবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়েছে। ফের মসজিদ সরানো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সদস্যরা জানান, তাঁরা স্থানান্তর বা ভাঙার বিষয়ে এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তবে তাঁরা সরকারের এই উন্নয়নমূলক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিরোধিতাও করছেন না। মসজিদ কমিটির তরফে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা চাই না আমাদের কারণে বিমানবন্দরের কোনও ক্ষতি হোক বা সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটুক। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় একটি মসজিদ তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে স্থানান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় আমরা এই মুহূর্তে নেই।”

Advertisement

১৯২৪ সালে চালু হয় কলকাতা বিমানবন্দর। ১৯৬২ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ হয়। তখন মসজিদের পাশেই ছিল যশোর রোড। বিমানবন্দরের জন্য যশোর রোড ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। মসজিদটি থেকে যায় বিমানবন্দরের পাঁচিলের ভিতর, রানওয়ের পাশেই। এবার সেটি সরাতে তৎপরতা শুরু হয়েছে সর্বমতের ভিত্তিতে। তবে এখনও মসজিদ কমিটি পুরোপুরি রাজি নয় বলে খবর। কিন্তু আলোচনা চলছে এবং তা ফলপ্রসূ হওয়ার পথে বলেই খবর।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন