Nabanna

তৃণমূল আমলে সীমাহীন দুর্নীতি! ১০০ দিনের কাজে স্বচ্ছতায় জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ মুখ্যসচিবের

রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশিকা পাঠাল রাজ‌্য সরকার। নবান্নের সুস্পষ্ট নির্দেশ, ‘মহাত্মা গান্ধী ন‌্যাশানাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ‌্যারেন্টি স্কিম’ বা ‘এমজিএনআরইজিএস’ প্রকল্পের বাস্তবায়নে আগের থেকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে জেলাশাসকদের।

Advertisement
মলয় কুণ্ডু
মলয় কুণ্ডু

শেষ আপডেট: জুন ৮, ২০২৬, ২১:২০

options
link
তৃণমূল আমলে সীমাহীন দুর্নীতি! ১০০ দিনের কাজে স্বচ্ছতায় জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ মুখ্যসচিবের
১০০ দিনের কাজে স্বচ্ছতায় জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ মুখ্যসচিবের।

রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশিকা পাঠাল রাজ‌্য সরকার। নবান্নের সুস্পষ্ট নির্দেশ, ‘মহাত্মা গান্ধী ন‌্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ‌্যারেন্টি স্কিম’ বা ‘এমজিএনআরইজিএস’ প্রকল্পের বাস্তবায়নে আগের থেকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে জেলাশাসকদের। আজ, সোমবার মুখ‌্যসচিব জেলাশাসকদের এই নির্দেশ পাঠিয়ে জানিয়েছেন, জেলাশাসকদের দায়বদ্ধতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দফায় দফায় নজরদারি চালাতে হবে। তৃণমূল আমলে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ।

Advertisement

মুখ‌্যমন্ত্রী আগেই  জানিয়েছিলেন, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা বাদে কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া নামকরণ অনুযায়ী ভিবিরামজি প্রকল্প শুরু হবে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকেই। সেই মতো এদিন মুখ‌্যসচিব জেলাশাসকদের জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের যে আইন রয়েছে, তা পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। কঠোরভাবে মানতে হবে আর্থিক গাইডলাইনও। এর আগে এই প্রকল্প ঘিরে বারবার উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। ফের যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন‌্য আগে থেকেই প্রশাসন সর্তক থাকতে চাইছে বলে মনে করছে আমলা মহল। এদিন তাই নির্দেশিকায় মুখ‌্যসচিব জেলাশাসকদের বলেছেন, আগের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ভুল পরিকল্পনা, নজরদারির বাইরে বেশ কাজের অনুমোদন দেওয়া, বেঠিক বাস্তবায়ন, সঠিকভাবে তথ‌্য যাচাই না করা, বিভিন্ন বিধি অমান‌্য করা, কাজ শেষ করতে দেরি, এমআইএস আপডেটে বিলম্ব, কাজের যথেষ্ট পরিদর্শন না করা, দুর্বল সামাজিক সমীক্ষা এবং পর্যাপ্ত তথ‌্য না রাখায় এই প্রকল্পটিকে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।  

Advertisement

জেলাশাসকদের জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ‌্য হল, উৎপাদনশীল এবং স্থিতিশীল সামাজিক সম্পদ তৈরি করা। যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব‌্যবহার, জল সংরক্ষণ, খরা প্রতিরোধ, বন্যা রোখা, সেচ ব‌্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। তাই এক্ষেত্রে অত‌্যন্ত সজাগভাবে প্রকল্পের কাজ নির্বাচন করতে হবে।

একই সঙ্গে জেলাশাসকদের জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ‌্য হল, উৎপাদনশীল এবং স্থিতিশীল সামাজিক সম্পদ তৈরি করা। যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব‌্যবহার, জল সংরক্ষণ, খরা প্রতিরোধ, বন্যা রোখা, সেচ ব‌্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। তাই এক্ষেত্রে অত‌্যন্ত সজাগভাবে প্রকল্পের কাজ নির্বাচন করতে হবে জেলাশাসকদের। বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায় নির্ধারিত সরকারি ডিজিটাল ব‌্যবস্থার মাধ‌্যমে যাচাইযোগ্য ডিজিটাল নথি তৈরি করতে হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি কোনওভাবেই যেন সরকারি অর্থের অপব‌্যয় না হয়, তার জন‌্য কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ‌্যসচিব। এর অন‌্যথা হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Advertisement

পাশাপাশি, প্রকল্প শুরুর আগে প্রতিটি জেলা ধরে ধরে ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারীর ডাটাবেস খতিয়ে দেখতে হবে। যাতে অযোগ‌্য কেউ এই তালিকায় না ঢুকে পড়ে। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকের ই-কেওয়াইসি যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী আধার-ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম (এবিপিএস)-এর মাধ্যমে মজুরি প্রদান করা হবে। জানানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী প্রকল্পের ‘প্রোগ্রাম অফিসার’ হিসেবে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করবেন। তাঁকে অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং নথি সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য তিনি নিয়মিত কাজ পরিদর্শন এবং সময়মতো সংশোধনের ব্যবস্থা করবেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.