অ্যানস্থেসিয়া চিকিৎসক নেই। শ্যামবাজারের জে বি রায় স্টেট আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সাত মাস বন্ধ অস্ত্রোপচার। মাঝে দু-একজন অ্যানস্থেসিয়া চিকিৎসক ছিলেন। তবে তাঁরা ছিলেন অস্থায়ী। তাঁদের মধ্যে কারও অন্যত্র বদলি হয়েছেন, কেউ বা অবসর নিয়েছেন। শুধু এখনই নয়, অভিযোগ, বছর দুই-তিন হাসপাতালে স্থায়ী অ্যানস্থেসিয়া চিকিৎসক নেই। অনিয়মিতভাবে চলছিল অস্ত্রোপচার। এবার তা পুরোপুরি বন্ধ।
অস্ত্রোপচার থিয়েটার, আয়ুর্বেদিক সার্জেন থাকলেও সমস্ত ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ। ফলে একদিকে যেমন ব্যাহত চিকিৎসা পরিষেবা, অন্যদিকে ভুক্তভোগী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক পড়ুয়ারাও। হাতেকলমে অস্ত্রোপচার না শিখতে পারায় তাঁদের পঠনপাঠনও বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজ্যের একমাত্র সরকারি হাসপাতাল যেখানে ক্ষার সূত্র পদ্ধতিতে পাইলস, ফিসচুলা, অ্যানাল ফিসার বা মলদ্বার সংক্রান্ত চিকিৎসা হয়। কম খরচে চিকিৎসার জন্য বহু মানুষ দূরদূরান্ত থেকে সেখানে যান। ভিনরাজ্য থেকেও রোগীরা সেখানে উপস্থিত হন। হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগীরাও সমস্যায় পড়েছেন।
আরও পড়ুন:
অতীত থেকেই এই আয়ুর্বেদিক হাসপাতালের সুনাম রয়েছে। ১৯১৬ সালে প্রখ্যাত চিকিৎসক প্রয়াত কবিরাজ জামিনী ভূষণ রায় এই হাসপাতাল তৈরি করেছিলেন।এই হাসপাতালে পাইলস, ফিস্টুলা, অ্যানাল ফিসার ছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, পেটের সমস্যা, বাত, এবং মেটাবলিক বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা হয়। এছাড়াও শিশু, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি তন্ত্র, শালাক্য তন্ত্র, স্বাস্থ্য বৃত্ত চিকিৎসার জন্য মানুষ ছুটে আসেন এখানে।
এখন এই চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন রোগীদের একাংশ ও চিকিৎসক পড়ুয়ারা। তাঁদের বক্তব্য, হাসপাতালটিতে শল্য চিকিৎসা বিভাগ এবং অপারেশন থিয়েটারের পরিকাঠামো রয়েছে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে অ্যানস্থেসিয়া পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অভাবে সেই পরিকাঠামো কার্যত ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অস্ত্রোপচারের জন্য নির্ধারিত রোগী ও তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার আশায় হাসপাতালে এলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে অস্ত্রোপচারের তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে।
রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিককালে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার জন্য একটি বিরাট অংশের মানুষের ঝোঁক রয়েছে। ফলে গুরুতর বা দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে দাবি রোগীপরিজনদের।
ফলে রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিককালে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার জন্য একটি বিরাট অংশের মানুষের ঝোঁক রয়েছে। ফলে গুরুতর বা দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে দাবি রোগীপরিজনদের। প্রশ্ন উঠছে, সরকারি হাসপাতালটিতে যখন অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে, তখন অ্যানস্থেসিয়া চিকিৎসকের মতো অত্যাবশ্যক পরিষেবার ঘাটতি কেন তৈরি হয়েছে? দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলেও সমাধানে স্বাস্থ্য দপ্তর, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করেছে? সেই প্রশ্নও উঠছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্থায়ী সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
জে বি রায় স্টেট আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল সুপ্রিয় চৌধুরী জানান, “ইতিমধ্যেই সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করি দ্রুত এই সমাধান হবে।” রোগী ও তাঁদের পরিবারের দাবি, দ্রুত অ্যানস্থেসিয়া চিকিৎসক নিয়োগ বা প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা করে অস্ত্রোপচার পরিষেবা স্বাভাবিক করা হোক।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ?’ কাকলিতে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
-
কেন কালীঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলেছিলেন সুমিত? নেপথ্যে বড় লেনদেন! তদন্তে পুলিশ
-
মেসি-ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের শুভেন্দুর উপহার, উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট মিলবে বিনামূল্যে
-
ভারতের লড়াইকে ‘বাহবা’ দিলেন ব্রাজিল কোচ, হেরে খালিদ দুষলেন মনঃসংযোগের অভাবকে
-
‘লেনিন, মার্কস, হো চি মিন, এরা কারা?’ রাস্তার নাম বদল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী