TMC

তৃণমূল সরকার অর্থ বরাদ্দ না করায় ফাঁকা নার্সারি! সবুজায়নে চারা কিনতে দিশাহারা বন দপ্তর

বনবিভাগের নার্সারি তৈরিতে অর্থ বরাদ্দই করেনি তৃণমূল সরকার। যার ফল ভুগতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বেসরকারি নার্সারি থেকে চারাগাছ কিনতে হচ্ছে। সবুজায়নে 'ডবল টাকা' খরচ! ১৪ থেকে ২০ জুলাই সাতদিন অরণ্য সপ্তাহ পালন করে থাকে বন দপ্তর।

নিরুফা খাতুন
নিরুফা খাতুন

শেষ আপডেট: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৯:২০

options
link
তৃণমূল সরকার অর্থ বরাদ্দ না করায় ফাঁকা নার্সারি! সবুজায়নে চারা কিনতে দিশাহারা বন দপ্তর
সবুজায়নে চারা কিনতে দিশাহারা বন দপ্তর। প্রতীকী ছবি

বন বিভাগের নার্সারি তৈরিতে অর্থ বরাদ্দই করেনি তৃণমূল সরকার। যার ফল ভুগতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বেসরকারি নার্সারি থেকে চারাগাছ কিনতে হচ্ছে। সবুজায়নে ‘ডবল টাকা’ খরচ! ১৪ থেকে ২০ জুলাই সাতদিন অরণ্য সপ্তাহ পালন করে থাকে বন দপ্তর। সপ্তাহজুড়ে চলে চারা বিলি। এই চারাগাছ বনবিভাগের নিজস্ব নার্সারিতে তৈরি করা হয়। সেজন্য আলাদা করে অর্থ বরাদ্দ থাকে। এবার অরণ্য সপ্তাহের উদ্বোধনের দিন ৭ কোটি ৫০ লক্ষ গাছ লাগানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বছরভর এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলবে।

Advertisement

বনদপ্তর সূত্রে খবর, বিগত সরকার নার্সারির জন্য অর্থ বরাদ্দ করে যায়নি। এই খাতে এক বছর ধরে কোনও তহবিল নেই ডিভিশনগুলিতে। যে কারণে অধিকাংশ নার্সারিতে নতুন করে গাছের চারা তৈরি করা যায়নি। পর্যাপ্ত চারাগাছ না থাকায় বেসরকারি নার্সারি থেকে গাছ কিনে বিলি করতে হচ্ছে। এতে বর্তমান সরকারের খরচ বেড়েছে। সরকারি নার্সারিতে একটি চারাগাছের পিছনে খরচ হয় ১৫ টাকার মতো। সেখানে বেসরকারি থেকে কিনতে খরচ পড়ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে চারাগাছ তৈরির কাজ শুরু করে বন দপ্তর। এক বছর সময় লাগে তা তৈরি হতে। তারপর সেই চারা বিলি করা হয়। এবার অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে সাতদিন কলকাতায় প্রায় ৩৫ হাজার গাছ বিলি হয়েছে। সেখানে প্রায় ১৫ হাজার মতো গাছ বাইরে থেকে কেনা হয়েছে। সোমবার ইডেন উদ্যানে অরণ্য সপ্তাহের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বনদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি স্কুল পড়ুয়াদের হাতে চারাগাছ তুলে দেন। 

Advertisement

বর্তমান সরকারের খরচ বেড়েছে। সরকারি নার্সারিতে একটি চারাগাছের পিছনে খরচ হয় ১৫ টাকার মতো। সেখানে বেসরকারি থেকে কিনতে খরচ পড়ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে চারাগাছ তৈরির কাজ শুরু করে বন দপ্তর।

২০২৫ সাল থেকে বন দপ্তরের ডিভিশনগুলি আর্থিক সংকটে ভুগছে। তহবিল না থাকায় এবছর এপ্রিলে গাছ কাটাও হয়নি। প্রতি বছর এপ্রিলে দক্ষিণবঙ্গে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জঙ্গলে গাছ কাটা হয়। শাল, আকাশমণি ও ইউক্যালিপ্টাস এই তিন ধরনের গাছ কাটা হয়। সেই কাঠ বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে থাকে বনদপ্তর। গাছ কাটার পর সেই জঙ্গলে পুনরায় বৃক্ষরোপণও করা হয়। গাছ কাটা ও বৃক্ষরোপণে কর্মসংস্থান ঘটে জঙ্গলের বাসিন্দাদের। সেই সঙ্গে কাঠেরও একটা ভাগ পান গ্রামবাসীরা। দীর্ঘ বছর ধরে বনদপ্তরের এই নিয়ম চলে আসছে।

Advertisement

বনদপ্তর সূত্রে খবর, তহবিল না থাকায় এবারে গাছ কাটাতেও লাগাম টানা হয়। শালগাছ ছাড়া কোনও গাছ কাটা হয়নি। কারণ, শাল বেশি বছর রাখা যায় না। সেগুলি নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া শাল কাটলে তার গোড়া থেকে পুনরায় গাছ তৈরি হয়। ফলে আলাদা করে গাছ লাগানোর খরচও পড়ে না। কিন্তু বাকি গাছ কাটলে সেই জায়গায় গাছ লাগাতে হয়। না হলে জঙ্গল ফাঁকা হয়ে যাবে। কিন্তু পূর্বতন সরকার অর্থ বরাদ্দ না করায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়মের ছন্দপতন ঘটেছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.