বৃষ্টির সঙ্গে কেন এত ঘনঘন বাজ পড়ছে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

মানুষের কাজই কি এর জন্য দায়ী?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৫, ২০১৮, ১৩:৩৮

options
link
বৃষ্টির সঙ্গে কেন এত ঘনঘন বাজ পড়ছে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: বাজের দাপটে কাঁপছে বঙ্গবাসী! কালো মেঘ দেখলেই এখন জবুথবু অবস্থা। হবেই বা না কেন! চলতি মরশুমে গোটা রাজ্যে বাজের বলি চল্লিশ ছুঁইছুঁই৷ বাদ যায়নি শহর কলকাতাও। মুহর্মুহু বাজ তছনছ করে দিচ্ছে সবকিছু।

Advertisement

গত কয়েক বছর ধরে বজ্রপাতের সংখ্যা তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় রীতিমতো চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন বায়ুমণ্ডল নিয়ে গবেষণারত বিজ্ঞানীরা। কারণ বজ্রপাতের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও বড়সড় বিপদ। বজ্রপাতের সংখ্যা যত বাড়বে বিপদও ঘনাবে দ্রুত। বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, ইদানিং গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরে বজ্রপাতের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। শহরের আকাশে বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হলেই একের পর এক বাজ পড়ছে। শুধু কলকাতা নয়৷ দেশের অন্যত্রও একই ছবি। গত মাসে অন্ধ্রপ্রদেশে মাত্র ১৩ ঘণ্টায় মোট ৩৬,৭৪৯টি বজ্রপাত হয়েছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[ছুটির দিনে বন্ধুদের নিয়ে বাইক রেসিং, শহরে প্রাণ গেল যুবকের]

কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? এর আসল কারণই বা কী? বজ্রপাতের একাধিক কারণ রয়েছে। কিন্তু বিগত বছরগুলিতে বজ্রপাতের যে ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে তাতে এটা পরিষ্কার গ্রামাঞ্চলের আকাশের তুলনায় শহরের আকাশে বাজের সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এপ্রিল থেকে জুন এটাই সাধারণ বজ্রপাতের পিক মরশুম। নাসার ‘সিস্টেম ট্রপিক্যাল রেনফল মেজারিং মিশন স্যাটেলাইটে’র ‘লাইটনিং ইমেজিং সেন্সরের সাহায্যে নজরদারি চালিয়ে নাসার বিজ্ঞানীরা দেখেছেন গত কয়েক বছরে বজ্রপাতের পুনরাবৃত্তির হার বা ‘ফ্রিকোয়েন্সি’ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।

Advertisement

এক্ষেত্রেও কিন্তু বায়ুদূষণকেই সরাসরি দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা। কলকাতার আকাশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডল বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুতপা চৌধুরি। তাঁর বক্তব্য, বাতাসে নির্গত ধূলিকণা, ধোঁয়াশা ও বিভিন্ন গ্যাসের মাত্রা বা ‘সাসপেনডেড পারটিকুলেট ম্যাটারের’ (এসপিএম) সঙ্গে বজ্রপাতের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, “বাতাসে যদি ধূলিকনা না থাকলে মেঘের সঞ্চার হত না। কিন্তু বাতাসে যে পরিমাণ এসপিএম থাকার কথা এসপিএমের পরিমাণ তার চেয়ে অনেক বেশি থাকলে প্রত্যক্ষভাবে তা বজ্রগর্ভ মেঘকে আরও ঘন করতে সাহায্য করবে। স্বাভাবিকভাবেই বজ্রপাতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।” শহরাঞ্চলের আকাশে সেটাই হচ্ছে। কলকাতার বাতাসেও ধূলিকনা, ধোঁয়াশা, গাড়ি, কল কারখানার ধোঁয়ার পরিমাণ অনেকটাই বেশি। বাজ সাধারণত দু’ধরনের হয় ‘ক্লাউড টু ক্লাউড’ ও ‘ক্লাউড টু গ্রাউন্ড’। প্রথম ক্ষেত্রে বাজে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। ভয় দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ‘ক্লাউড টু গ্রাউন্ড’ বাজের ক্ষেত্রে। বাজের আঘাত মানে নিশ্চিত মৃত্যু। বজ্রপাতে দেশে প্রতি বছর গড়ে ১৭৫৫ জনের মৃত্যু হয়। যা কি না অন্য প্রকৃতিক বিপর্যয় গুলিতে মৃত্যুর হারের তুলনায় অনেক বেশি। ২০১৪ সালে বজ্রাঘাতে দেশে ২৫৮২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার পরের বছর সংখ্যাটা আরও বেড়ে ২৮৩৩-এ দাঁড়ায়।

[এবার শহরবাসীকে সতর্ক করতে আসরে মেসি, অভিনব প্রয়াস কলকাতা পুলিশের]

কিন্তু বজ্রপাতের পরিমাণ বাড়লে বিপদ আরও বড় হবে। কোন বিপদ? গবেষণায় উঠে এসেছে বজ্রপাতের ফলে নাইট্রোজেন অক্সাইড(NOx) উৎপন্ন হয়। বজ্রপাত থেকে উৎপন্ন হওয়া সেই (NOx) বায়ুমণ্ডলে পাকাপাকিভাবে থেকে যায়। পরে সূর্যালোকের সঙ্গে তা বিক্রিয়া করে কুয়াশা ও ধোঁয়াশার মিশ্রন তৈরি করে যা ওজনস্তরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। সুতপা চৌধুরির কথায়, “বজ্রপাত থেকে যে নাইট্রোজেন অক্সাইড(NOx) তৈরি হয় সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে তাতে ফটোকেমিক্যাল রিয়েকশান হয়। ফলস্বরুপ কুয়াশা ও ধোয়াশার যে মিশ্রন তৈরি হয় তা বায়ুমণ্ডলে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। বেশিদিন ধরে এমনটা হলে শ্বাস নেওয়াই কষ্টকর হয়ে উঠবে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.