PASA act

রাজ্যে কার্যকর ‘গুন্ডাদমন’ আইন, কোন অপরাধে কী শাস্তি হতে পারে?

গত ২৯ জুন, রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। যা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১৬:২২

options
link
রাজ্যে কার্যকর ‘গুন্ডাদমন’ আইন, কোন অপরাধে কী শাস্তি হতে পারে?
রাজ্যে কার্যকর 'গুন্ডাদমন' আইন

সোমবার থেকে রাজ্যে কার্যকর ‘গুন্ডাদমন’ বা ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ’ আইন। এতে রাজ্য সরকার, পুলিশ কমিশনার, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার-নির্ধারিত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা যে কোনো সমাজবিরোধীকে আটকের নির্দেশ দিতে পারবেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে কোনও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই। তবে তিনি প্রয়োজনে সরকারের নির্ধারিত কমিটি বা কমিশনে এই বিষয়ে আবেদন জানাতে পারবেন।

Advertisement

গত ২৯ জুন, রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। যা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ বা জরিমানা চাপাতে পারে। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে যে আইন রয়েছে তা অন্তত এই বাংলায় আইনের শাসন কায়েম করে রাখার পক্ষে যথেষ্ট নয়। বিলে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কারণ তৃণমূল জমানায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, গুন্ডামি যে চরম মাত্রায় পৌঁছেছিল তা ঠাণ্ডা করতে বাড়তি দাওয়াই দরকার। প্রস্তাবিত নতুন বিল হল সেই দাওয়াই।

Advertisement

Gunda

Advertisement

বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বা মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে, এমন সব কাজই সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞার মধ্যে আনা যাবে। এর মধ্যে রাখা হয়েছে-শৃঙ্খলা নষ্ট করা, মানুষের জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, আইনসম্মত ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনিভাবে কারও স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দখল করা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা, খনি, বালি, পাথর বা প্রাকৃতিক সম্পদ বেআইনি ভাবে উত্তোলন করা, বন্যপ্রাণী বা বনজ সম্পদের ক্ষতি করা। অর্থাৎ, শুধু রাজনৈতিক হিংসা নয়, তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট, বেআইনি খনি বা বালি কারবার, সম্পত্তি ভাঙচুর, ব্যবসায় বাধা – সবকিছুকেই এই আইনের আওতায় আনার রাস্তা খুলে রাখা হয়েছে।

‘গুন্ডা’ শব্দটিরও আলাদা সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেখানে খসড়ায় লেখা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি নিজে, অথবা কোনও দল, গ্যাং বা সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা হিসেবে অভ্যাসগতভাবে সমাজবিরোধী কাজ করলে তাকে ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। যে কেউ অস্ত্র আইন, মাদক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন, বিস্ফোরক আইন বা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট গুরুতর ধারায় অপরাধ করলে, অথবা এই ধরনের অপরাধে যুক্ত থাকার চেষ্টা করলে, তাকে এই আইনের অধীনে আনা যাবে। এর ফলে শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর নয়, অপরাধের সম্ভাবনা বা পুনরাবৃত্তি রোখার জন্যও পুলিশ ও প্রশাসন আগাম ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই আইনটিকে ‘কালা কানুন’ বলেই মনে করছে বিরোধীরা। বিরোধীদের সরকার বিরোধী আন্দোলনকে দমন করতে এই আইন বলে মনে করা হচ্ছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.