অভিরূপ দাস: খাবার জল তো দেওয়া হয়নি, মসুর ডালের জলটুকুও খেতে দেননি নার্সরা। হাসপাতালে জল ছাড়া রীতিমতো চিবিয়েই ট্যাবলেট খেতে হয়েছে বছর ছাপান্নর অমিতা ঘোষকে। দুঃসহ ওই চারদিনের কথা ভাবলে শিউরে উঠছেন দমদমের প্রৌঢ়া। “টানা চারদিন মাকে জল খেতে দেওয়া হল না কেন? হাসপাতালে গুচ্ছের টাকা নিলেও ন্যূনতম প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মেলেনি।” এমন অভিযোগ নিয়ে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনে এলেন অনামিকা ও তার বোন অনুসূয়া।
ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা। বাড়িতে আচমকাই বুকে ব্যথা অনুভব করেন অমিতা ঘোষ। পারিবারিক চিকিৎসক ডা. দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। তিনি রেফার করেন ডা. রনজিৎ দেকে। তাঁর পরামর্শে ভর্তি করা হয় শিবদাস ভাদুড়ী স্ট্রিটের নবজীবন হাসপাতালে।
[সাতসকালে দেশপ্রিয় পার্কে দুর্ঘটনা, বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু]
কী হল সেখানে? পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, ৯ ফেব্রুয়ারি অমিতাদেবীকে ভর্তি করার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে শুরু করে। মেয়ে অনামিকা জানিয়েছেন, “ভর্তির দিন পরের দিন মাকে দেখতে গেলে দেখি সারা গায়ে ব়্যাশ বেরিয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকরা বলেন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এদিকে কাঁদতে কাঁদতে মা জানায় হাসপাতাল থেকে জল খেতে দেওয়া হচ্ছে না মাকে।” দুঃসহ ওই চারদিনের কথা বলতে গিয়ে এখনও আতঙ্কে ভোগেন অমিতাদেবী। জানিয়েছেন, “জল তেষ্টা পেলেও জল দেওয়া হত না। ডালের জলটুকু খেয়ে তেষ্টা মেটাতে চাইতাম। কিন্তু তাও খেতে দিত না নার্সরা।” বুকে স্টেন বসানো রয়েছে তাঁর। কার্ডিওলজিস্ট উত্তেজিত হতে বারণ করেছেন। “কিন্তু নবজীবন হাসপাতালের চিকিৎসায় যে কোনও সময় আমার হার্ট অ্যাটাক হতে পারত।” বিস্ফারিত চোখে জানিয়েছেন তিনি।
[প্রাথমিক নিয়োগের চক্র ফাঁস, সিআইডির জালে পাণ্ডা]
হাসপাতালের সিইও নৃসিংহমুরারী দে জানিয়েছেন, বুকে স্টেন বসানো থাকলে অতিরিক্ত জল খেতে দেওয়া হয় না। তাতে রোগীর শরীরের অবনতি হতে পারে। কিন্তু পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জল খেতে দেওয়া হয়নি অমিতাদবীকে। উল্টে রাতে জল চাইলে নার্সরা জানাত, আওয়াজ করবেন না। আমাদের ঘুমের ডিসটার্ব হয়। নৃসিংহমুরারী দে মেনে নিয়েছেন, রোগীর পরিবারকে ঠিকমতো করে বুঝিয়ে বলতে পারেননি নার্সরা। সঠিক কাউন্সেলিং করলে এমনটা হত না।
তবে এখানেই শেষ নয়, চার দিনে প্রায় ৪৪ হাজার টাকা বিল করেছিল নবজীবন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ অনামিকার অভিযোগ, কোনওরকম চিকিৎসা না করেই মাকে কয়েক গণ্ডা ওষুধ দিয়েছিল। পরে আমরা সেখান থেকে ছাড়িয়ে মাকে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করি। আরজি করের চিকিৎসকরা জানান, মায়ের কিছু হয়নি। শুধু ওঁর মধ্যে একটা ট্রমা কাজ করছে। বিশ্রাম দরকার। পরিবারের দাবি, মাত্র ২৪ ঘণ্টার বিশ্রামেই সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন অমিতাদেবী। ওখানে ভর্তি রাখলে আরও কয়েক হাজার টাকা বেরিয়ে যেত৷
সর্বশেষ খবর
-
মূলস্রোতের স্কুলে পড়বে দিব্যাঙ্গ শিশুরাও! পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর রাজ্যের
-
ষষ্ঠ বিদেশি সই করিয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল, এক বছরের জন্য লাল-হলুদে আইভোরি কোস্টের স্ট্রাইকার
-
ফুচকার লোভ দেখিয়ে নাবালিকাকে ‘ব্যাড টাচ’! গ্রেপ্তার প্রতিবেশী ‘দাদু’, উত্তরপাড়ায় হুলস্থুল
-
চূড়ান্ত হয়ে গেল কলকাতা লিগের ডার্বির দিনক্ষণ, বারাসতে মুখোমুখি হবে মোহন-ইস্ট
-
বুধে বালুরঘাটে সুকান্তের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন মুখ্যমন্ত্রী, মেনুতে থাকছে কোন বিশেষ মাছ?