নিরুফা খাতুন: এবার হাতিদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য দিতে রাজ্য বনদপ্তর হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি রেলকে ফোনও করবে। ঝাড়গ্রামে রেলের চাকায় হাতির মৃত্যুর দায় নিয়ে রেল ও বন দপ্তরের মধ্যে চাপানউতোর চলছে। রেলের গাফিলতির অভিযোগ তুলে মামলা রুজু করেছে বনদপ্তর। জবাবে রেল জানিয়েছে, লিখিত বা টেলিফোনে নয়, হাতিদের গতিবিধি নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করেছিল বনদপ্তর। কিন্তু দুর্ঘটনার রাতে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ নজরে আসেনি। ফলে দুর্ঘটনা।
এরই প্রেক্ষিতে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, হাতিদের গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে জানাবে বনদপ্তর। রেল ও বনদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়রক্ষায় একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। গড়া হয়েছে মনিটরিং কমিটিও।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ ঝাড়গ্রামের বাঁশতলায় ট্রেনের ধাক্কায় দুই শাবক-সহ তিন হাতির মৃত্যু হয়। বনদপ্তর হোয়াটসঅ্যাপে ওই লাইনে হাতির গতিবিধি নিয়ে বার্তা দিয়েছিল আড়াই ঘণ্টা আগে, রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে। তা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা রোখা যায়নি। এতে রেলের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পশুপ্রেমীরা।
হাতি করিডরে দুর্ঘটনা রুখতে রেল ও বন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করা হয়েছে। যাতে হাতিদের গতিবিধি সম্পর্কে রেলকে সতর্ক করা হয়। কোন সময় কত হাতি কোন রেল লাইনের দিকে রয়েছে বা যাচ্ছে, তা হোয়াটসঅ্যাপে রেলকে জানিয়ে দেওয়া হয়। বনদপ্তরের এক কর্তার কথায়, “এক সময় ফোন করেই রেলকে হুঁশিয়ার করা হত। কিন্তু অনেক সময় তাদের ফোনের লাইন সময়মতো পাওয়া যেত না। এতে বনকর্মীদের কাজেও সমস্যা হত। কর্মীরা হাতি সামলাবেন, না কি রেলের ফোনের লাইন পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন? ওই সমস্যা মেটাতেই যৌথ উদ্যোগে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু হয়েছিল। কিন্তু এখন ওরা বলছে, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ মিনিটে মিনিটে দেখা সম্ভব নয়!” রেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘‘ওটা আড্ডার গ্রুপ নয়, সরকারি কাজের গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ। বনদপ্তর ২৪ ঘণ্টা ওখানে সক্রিয় থাকে। কিন্তু রেল কী ভাবে মেসেজ এড়িয়ে যেতে পারে?’’ বন আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘ওরা বলছে, লিখিতভাবে জানানো হয়নি। লিখিতভাবে জানাতে হলে ই-মেল করতে হবে। রাতে এমার্জেন্সির সময় ই-মেল করে জানালে কি ওরা চেক করত?’’
অভিযোগ যতই থাক, হাতি-সুরক্ষার প্রশ্নে রেলের দাবি মেনে নিয়েছে বনদপ্তর। রাজ্য বন্যপ্রাণ সুরক্ষা বিভাগের এক কর্তা জানান, রেলের দাবি মেনে সতর্কবার্তা দিতে একবারই ফোন করবে বনদপ্তর। লাইন ব্যস্ত হলে আর ফোন করা হবে না। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যেমন কাজ চলছে, চলবে। ‘‘আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। রেল নিজের দায়িত্ব পালন করছে না।’’– মন্তব্য তাঁর। বস্তুত এই প্রথম নয়। এর আগেও ২০১৮ সালে ঝাড়গ্রামে তিনটি হাতি ট্রেনে কাটা পড়েছিল। সেবারও রেলের তরফে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে।
সর্বশেষ খবর
-
মেঘ-বৃষ্টির পাহাড়ে রোমাঞ্চের হাতছানি, টিকিট কাটার আগে এই ভুল করলেই বিপদ!
-
জমি জেহাদ থেকে ধর্মান্তকরণে নতুন আইন, ‘হিন্দু হোমল্যান্ড’ রক্ষায় ঘোষণা শুভেন্দুর
-
পেটে লাথি মেরে দেব! সিএবি নির্বাচনে তৃণমূল নেতার ‘হুমকি’, এবার ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ আরেক জেলার
-
বর্ষাতেও গরমে নাজেহাল? হাইড্রেশন থেকে ত্বকের যত্নের বিশেষ টিপস দিলেন বিশেষজ্ঞ
-
বউয়ের কথা রাখতে গিয়েই প্রাণরক্ষা! তারাতলা বিপর্যয়ে জীবন বাঁচল ঝাড়খণ্ডের শ্রমিকের