অর্ণব আইচ: লস্কর জঙ্গি রাজারাম রেগের কলকাতার পাঁচ লিঙ্কম্যানের সন্ধানে নামল লালবাজার। মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেল থেকে বেরিয়ে রেগে তার লিঙ্কম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলে সন্দেহ গোয়েন্দা আধিকারিকদের। এই পাঁচজনের সন্ধান চলছে। এদিকে, গত মাসেই কলকাতার আটটি হোটেলে দুই IS জঙ্গি গা ঢাকা দিয়েছিল, তার প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। এর মধ্যে চারটি হোটেলই মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায়। একমাস পর যখন লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত রাজারাম রেগের সন্ধান পেলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা, তখন জানা গেল যে, সে-ও ছিল সেই নিউ মার্কেট এলাকারই হোটেলে। ফলে এবার থেকে ধর্মতলা সংলগ্ন হোটেলগুলির উপর কড়া নজর দিচ্ছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। প্রত্যেকটি হোটেল যাতে রেজিস্টার খাতা, বোর্ডারদের পরিচয়পত্র ও সিসিটিভির ফুটেজ সংরক্ষণ করে, সে ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছে লালবাজার।

পুলিশ জানিয়েছে, যেভাবে লস্কর-ই-তইবার (LeT Terrorist) চাঁই ডেভিড হেডলির সঙ্গে মুম্বইয়ে হামলার আগে রাজারাম রেগে রেইকি করেছিল, সেই আদলে কলকাতায়ও (Kolkata) রেইকি করে রাজারাম। গত ১৮ এপ্রিল মুম্বই থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে আসে সে। মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় এস এন ব্যানার্জি রোডের (SN Banerjee Road) একটি হোটেলে ওঠে। হোটেলটির তিনতলায় ২০৪ নম্বর রুম ভাড়া নেয় সে। সাড়ে তিন হাজার টাকার রুম দু’দিনের জন্য রাজারাম রেগে ভাড়া নেয়। আগাম ৭০০০ টাকা হোটেল কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিল সে। খাওয়াদাওয়া করত ওই হোটেলেই।
[আরও পড়ুন: চরম গরমে প্রিয় পোষ্যকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে? রইল সহজ কিছু টিপস]
কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ও লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা নিউ মার্কেট থানার সাহায্য নিয়ে ওই হোটেলের রেজিস্টার খাতা ও রাজারামের পরিচয়পত্রের কপি বাজেয়াপ্ত করে। ওই হোটেলের সিসিটিভির ফুটেজও সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সিসিটিভি দেখেই গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন, হোটেলে রাজারামের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতে এসেছিলেন কি না। সিসিটিভির ফুটেজে (CCTV Footage) কয়েকজনের সঙ্গে রাজারামকে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। ওই ব্যক্তিরাই রাজারামের লিঙ্কম্যান কি না, গোয়েন্দারা তা জানার চেষ্টা করছেন।
[আরও পড়ুন: যশস্বীর শতরানে রাজস্থানের মুম্বই জয়, হেরে প্লে অফের রাস্তা কঠিন করে ফেললেন হার্দিকরা]
রাজারাম রেগে এর আগে কলকাতায় এসেছিল কি না, তা নিয়ে সন্দিহান গোয়েন্দারা। অথচ দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর ও কালীঘাট অঞ্চলে সে যেভাবে রেইকি করেছে, তাতে তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই কাজে কলকাতার এমন কোনও বাসিন্দা রয়েছে, যারা তাকে সাহায্য করেছিল। কোনওভাবে তারাই রাজারামের লিঙ্কম্যান (Linkman)। তার কললিস্ট পরীক্ষা করেই কলকাতার পাঁচজনের নম্বরের হদিশ মিলেছে। রাজারাম কলকাতায় আসার আগে ও এই শহরে থাকাকালীন একাধিকবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলেই সন্দেহ গোয়েন্দাদের। তাদের মোবাইল নম্বর দেখে ওই লিঙ্কম্যানদের পরিচয় জানার চেষ্টা হচ্ছে। তারা কীভাবে রাজারাম রেগেকে সাহায্য করেছিল ওই লিঙ্কম্যানরা, তাদের কোনও রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে কি না, সেসব বিশদে জানার চেষ্টা হচ্ছে পুলিশ সূত্রে খবর।
সর্বশেষ খবর
-
ফের বিতর্কে সিএবি, স্বার্থের সংঘাতের ‘ফাঁসে’ বাংলার বোর্ড আম্পায়ার
-
‘পুরো বন্দে মাতরম গাওয়া হবে না কর্নাটকে’, কেন্দ্রের নির্দেশ উড়িয়ে ঘোষণা শিবকুমারের
-
সিআইএ-র সতর্কবার্তা শোনেননি, নেতানিয়াহুর টোপ গিলেই ইরানে জোর ফেঁসেছেন ট্রাম্প!
-
বিশ্বজুড়ে বন্ধ মার্কিন ভিসা ইন্টারভিউ, ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতির জের?
-
আড়াই বছরের ‘রাজত্ব’ খোয়ালেন বুমরাহ, শ্রীলঙ্কায় আগ্রাসী ইনিংসের পুরস্কার পেলেন পন্থ