ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে কার্যত কার্যত ছুঁচো গেলা অবস্থা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। না পারছেন গিলতে না পারছেন উগরাতে। রিপোর্ট বলছে, আমেরিকার এই দুর্দশার নেপথ্যে একমাত্র দায়ী ইজরায়েল। তেহরানে হামলার আগে বারবার ট্রাম্প (Donald Trump) সতর্ক করেছিল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। তবে সে কথা কানে তোলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যার পরিণতি, এখন পরমাণু চুক্তি বহু দূরের বিষয়, কোনওমতে হরমুজ খুলতে পারলেই হাফ ছেড়ে বাঁচে আমেরিকা।
জানা যাচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার আগে ওভাল অফিসে গোয়েন্দাদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। উদ্দেশ্য ছিল পুরোদমে হামলা চালানো এখন উচিত হবে কি না, তা জানা। তবে ট্রাম্পের এক সহকারী ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্টকে জানান, কয়েক দশকের মধ্যে ইরান এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে। ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস ও নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরার এটাই ভালো সুযোগ। যদিও প্রশ্ন ছিল ইরানের শাসন ব্যবস্থাকে পালটে দেওয়া যাবে কি না? আমেরিকার তৎকালীন গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড তৎকালীন সময়ের একটি ছবি তুলে ধরেছেন। সূত্রের খবর, সেই সময় ট্রাম্পকে সতর্ক করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি যে পথে গড়িয়েছে তাতে, এখন পরমাণু চুক্তি বহু দূরের বিষয়, কোনওমতে হরমুজ খুলতে পারলেই হাফ ছেড়ে বাঁচে আমেরিকা।
গ্যাবার্ড জানিয়েছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করলে ইরান আরও কঠোর হয়ে উঠবে এবং পরমাণু অস্ত্রে শক্তিশালী এক নতুন শাসনব্যবস্থার জন্ম হতে পারে ইরানে। পাশাপাশি হরমুজ বন্ধ হবে, মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলবে। সবচেয়ে বড় কথা আমেরিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে গোটা বিশ্বে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই সময় শীর্ষ সামরিক কর্তারা এই বিষয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন। তবে যাবতীয় সতর্কবার্তা ফুৎকারে উড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালানো হয় ইরানে। ট্রাম্প বলেছিলেন, ৬ সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ হবে। কিন্তু ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ শেষের কোনও ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি। বরং হরমুজ বন্ধ থাকায় রীতিমতো চাপে খোদ ট্রাম্প। আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যু হলেও তাঁর পুত্র মোজতবা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হয়েছেন। কোনওভাবেই নতিস্বীকার করতে নারাজ তেহরান। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছে যে, কোনও পরমাণু চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন ট্রাম্প। হরমুজ খুলতে পারলেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন তিনি।
সূত্রের খবর, ট্রাম্প এখন আর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার উপর ভরসা রাখতে পারছেন না। এখন তাঁর লক্ষ্য অবরোধের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেওয়া। তবে আমেরিকার এই উদ্যোগ সফল হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ইতিমধ্যেই সামরিক অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ইরানি ও ১৮ মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৭৫৬ জন মার্কিন সেনা। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলি তছনছ হয়েছে। ফাঁকা হয়ে আসছে অস্ত্রভাণ্ডার। এদিকে হরমুজে তালা ঝুলিয়ে নিজের অবস্থানে জাঁকিয়ে বসে ইরান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হড়পা বানে মৃত্যুমিছিল, নেপালে একতা চাইছেন ‘ভারতবিদ্বেষী’ বলেন্দ্র! নয়াদিল্লির পাঠানো ত্রাণ নেবেন?
-
যজ্ঞেই শয়তান তাড়ানোর কথা বলে ‘শ্লীলতাহানি’, গয়না নিয়ে উধাও সঙ্গিনী-সহ তান্ত্রিক
-
হড়পা বানে আটকে কৈলাসযাত্রী শিষ্যরা, বিধ্বস্ত নেপালে উদ্ধারকাজে নামতে চান সদগুরু!
-
রাজ্যে উড়ল প্যালেস্তাইনের পতাকা! ‘জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে আপস নয়’, কড়া বার্তা শুভেন্দুর
-
হাতে হাত, রংমিলান্তি পোশাক, ফের একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রীকে দেখে শান্তি ভক্তদের