প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে মাধ্যমিকে তাক লাগাল ওরা

ওদের এই কীর্তির সুবাদেই ফের শিরোনামে কলকাতা মূক ও বধির বিদ্যালয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৭, ২০১৭, ০৮:২২

options
link
প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে মাধ্যমিকে তাক লাগাল ওরা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাধা অনেক। কিন্তু হার মানেনি ওরা। জীবনে চলার পথে হাজারো প্রতিবন্ধকতা নিয়েও ওরা ফের অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছে। আর ওদের এই কীর্তির সুবাদেই ফের শিরোনামে কলকাতা মূক ও বধির বিদ্যালয়। এবছর স্কুলের ৩৪ জন পরীক্ষার্থীই মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে পাশ করেছে। এই নিয়ে লাগাতার ১০ বছর। টানা ১০ বছর ধরে মাধ্যমিকে ১০০ শতাংশ পাশের হার বজায় রেখেছে এই বিশেষ স্কুল।

Advertisement

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনওদিন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তাদের। কথা বলতে না পারা বা কানে শুনতে না পাওয়ার য্ন্ত্রণা কোনওদিন পড়াশোনায় ছাপ ফেলতে পারেনি তাদের। তাই তো আর পাঁচটা পড়ুয়াদের মতোই স্বাভাবিকভাবেই পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেছিল মূক ও বধির স্কুলের পড়ুয়ারা। তাই ধারে ও ভারে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের থেকে কোনও অংশে কম ছিল না তারা। সব প্রতিকূলতাকে পেরিয়ে শেষপর্যন্ত কঠিন অধ্যবসায়ের জোরেই সসম্মানে উত্তীর্ণ হলেন তারা। এবার ৩৪ জন পরীক্ষার্থীই পাশ করেছে। ৩৪ জনের মধ্যে ২৪ জন ছাত্র ও ১০ জন ছাত্রী। গতবার ৩০ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক দিয়েছিল। এবছর ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেয়েছে স্বরূপ সামন্ত (৩৮০) এবং মেয়েদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অনীশা রায়ের (৩৭৯)। পরিশ্রমের ফল পেয়ে পড়ুয়াদের চোখে মুখে খুশির আলো।

Advertisement

18742421_1344491212303173_1781993220_o

Advertisement

[প্রকাশিত মাধ্যমিকের ফল, মেধার টক্করে এবার সেরা বাঁকুড়া]

ছাত্রছাত্রীদের এই সাফল্যে খুশি শিক্ষক-শিক্ষিরাও৷ এই ছাত্রদের সকলে পড়াতে পারেন না৷ তার জন্য আলাদা ট্রেনিং নিতে হয়, জানালেন স্কুলের শিক্ষিকারা৷ বছরভর পড়ানোর এই কষ্টের পর সাফল্যে সকলেই খুশি৷ স্কুলের প্রিন্সিপাল সমীর কুমার সামন্ত জানালেন, “আজ আমাদের খুব আনন্দের দিন৷ আগে অনেক সমস্যা ছিল, এখন প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পড়ানোর ক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা হয়েছে৷ তবু পড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা তো থাকেই৷ তা পেরিয়ে যখন সাফল্য আসে তখন আনন্দ হয়৷”

বছরের পর বছর ভাল ফল করে তাক লাগাচ্ছে এই স্কুল। ক্যালকাটা ডিফ অ্যান্ড ডাম্ব স্কুলের সাফল্য টেক্কা দিচ্ছে শহরের অন্যান্য স্কুলগুলিকেও। তাতে যারপরনাই বেজায় খুশি পড়ুয়া থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ফি বছর বাড়ছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও। গতবছর ৩০, এবছর ৩৪ এবং আগামী বছর আরও পরীক্ষার্থী মাধ্যমিকে বসবে বলে আশাবাদী স্কুল কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও, আগামী বছর স্কুলের ১২৫ বছর পূর্তি। তাই শহরের অন্য স্কুলগুলিকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো ফলাফল আশা করছেন প্রিন্সিপাল ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

[কোন কোন ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে মাধ্যমিকের ফল?]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.