নন্দীগ্রাম আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে কংগ্রেসের সমর্থনে রেজিনগরে লড়তে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। সোমবার এই খবর সামনে আসার পর কংগ্রেসের দিকেই ‘কথার খেলাপ’ করার দায় চাপাতে চাইল কালীঘাট শিবির।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার দলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কংগ্রেস নিজেরাই তাদের জায়গা থেকে সরে এসেছে। তারাই দিল্লিতে বলেছে একসঙ্গে চলার কথা। তাঁর কথায়, “দিল্লিতে কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে চলতে চায়। তারাই সেটা বলেছে। অথচ এখানে অন্য পথে চলতে চাইছে। এটা হয় না।” পালটা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, “সেই ২০১১ থেকে কংগ্রেস প্রতিনিয়ত তৃণমূলের জন্য ‘স্যাক্রিফাইস‘ করে এসেছে। এবার উপনির্বাচনে দুই আসনে কংগ্রেসকে সমর্থন করে জোটের প্রেক্ষাপটে যাত্রা শুরু করুক তৃণমূল। সামনে তো আরও অনেক ভোট-লড়াই পড়ে আছে।”
এআইসিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘নন্দীগ্রাম’কে গুরুত্বপূর্ণ আসন বলে বুঝিয়ে সেই আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে রেজিনগরে নিজেদের প্রার্থীর জন্য সমর্থন চেয়েছিলেন মমতা। তখনই একপ্রকার উপনির্বাচনে প্রদেশ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত কী তা বুঝিয়ে দেয় কংগ্রেস হাইকমান্ড। তার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি ভিত্তিতে প্রদেশ নেতৃত্বকে দিল্লি ডেকে তাদের মমতার প্রস্তাবের কথা জানায়, তাদের মত নেয়। কিন্তু প্রদেশ নেতৃত্ব নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় সেই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়ে কালীঘাটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এআইসিসি। প্রদেশ নেতৃত্বের বক্তব্য, কালীঘাট কী ভেবে এই প্রস্তাব দিয়েছিল তা তখনই বুঝে নিয়েছিল এআইসিসি।
এক রাজ্য নেতার কথায়, “মমতা জানেন নন্দীগ্রামের ফল কী হবে। আর রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোটের আধিক্যের কথাও তিনি জানেন। তাঁর সেই সংখ্যালঘু-প্রীতি প্রস্তাবের সময়ই বুঝে গিয়েছিল এআইসিসি।” তবে শুধু সেই অঙ্কেই নয়, হাইকমান্ড মমতার প্রস্তাব খারিজ করেছিল আরও নির্দিষ্ট কারণে। এআইসিসি সূত্র বলছে, এই জোটের প্রস্তাব তো তৃণমূলনেত্রী বিধানসভা ভোটের আগে দেননি। শুধু হারই নয়, সংগঠনে বিপুল ধসে বিপর্যস্ত অবস্থায় কংগ্রেসের হাত ধরতে চেয়েছেন, তাও স্রেফ সংখ্যালঘু ভোটের ‘লোভে’। সেই কারণেই প্রত্যাখ্যান।
কিন্তু এই প্রসঙ্গেই উঠে এসেছে আরও একটি দিক। শুভঙ্কর সরকারকে প্রদেশ সভাপতির দায়িত্বে বসানোর পর হাইকমান্ড আর কোনও সিদ্ধান্তই উপর থেকে চাপিয়ে দিতে চায়নি। কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে তৃণমূল স্তর থেকে আসা একা লড়াইয়ের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়। এবারের উপনির্বাচনেও সেই সিদ্ধান্তও নিচুতলার কর্মীদের তরফে এসেছিল। তাতেই সিলমোহর পড়ে। তার মধ্যেই মমতার প্রস্তাব এসে পৌঁছয়। দ্রুত আলোচনার পর তা খারিজও হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জিমন্যাস্টিক্সে ফাইনালে প্রণতি নায়েক, অব্যবস্থার শিকার, একার লড়াইয়েও চমক বঙ্গকন্যার
-
সাংসদ যেন কৃষক! নিজের বাড়িতে করম পুজোয় মাতলেন জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো
-
‘বন্ধুত্বে’র প্রতিদান! মুকুন্দপুরে মমতাপন্থীদের ‘আক্রান্ত’ হওয়ার প্রতিবাদ কংগ্রেসের, সুগম জোটের পথ?
-
চৈতন্য ও সুলক্ষণা, ২ হস্তিশাবকের নামকরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী, কেন এই নাম? জানালেন নিজেই
-
এবিভিপি-টিএমসিপি সংঘর্ষের জের! ১ মাস বন্ধ বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল! বেরিয়ে গেলেন ছাত্ররা