TMC MLA Protest

ফাটল আরও চওড়া, পথের লড়াইয়েও ‘ভগ্নদূত’ তৃণমূল! বিধানসভায় ধরনায় অনুপস্থিত ৫০ বিধায়ক

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেঘাটে কোনও লড়াইয়ে আর দেখা যায়নি তৃণমূল নেতৃত্বকে।

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: মে ২০, ২০২৬, ১৪:৪৫

options
link
ফাটল আরও চওড়া, পথের লড়াইয়েও ‘ভগ্নদূত’ তৃণমূল! বিধানসভায় ধরনায় অনুপস্থিত ৫০ বিধায়ক
ঘরে বসে মিটিং নয়, পথের লড়াইয়ে ফিরল 'ভগ্নদূত' তৃণমূল! হকার উচ্ছেদে ধরনা বিধানসভায়

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর আর কালীঘাটে দফায় দফায় মিটিং হয়েছে। সেখানে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ছিলেন। কিন্তু পথেঘাটে কোনও লড়াইয়ে আর দেখা যায়নি তাঁদের। যা নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। অনেকেই হাবভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন, দল যে পথে এগোচ্ছে তা মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কালীঘাটের মিটিংয়ে একাধিক বিধায়ক বলেন, ঘরে বসে মিটিং করে দল বাঁচানো যাবে না। ঠিক তার পরদিনই পথে নামলেন তৃণমূল বিধায়করা (TMC MLA Protest)। বুধবার সকালে ভোট পরবর্তী হিংসা ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিধানসভায় ধরনায় বসলেন তাঁরা। রয়েছেন কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। তবে সেখানে নেই দলের ৫০ বিধায়কই। ফলে দলের ফাটল যে ক্রমশ চওড়া হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Advertisement

১৫ বছরের শাসনের পর ফের বিরোধী আসনে তৃণমূল। নতুন করে মসনদে বসতে হলে মানুষের আরও কাছে পৌঁছতে হবে। ফের নতুন করে মানুষের জন্য লড়তে হবে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ফলপ্রকাশের পর প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ঘাসফুল শিবিরের তরফে সেরকম কোনও পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। কার্যত প্রকাশ্যেই আসেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করলেও তা আটকে রয়েছে সোশাল মিডিয়াতেই। সরাসরি কোনও কর্মীর কাছে পৌঁছননি নেতারা। হকার উচ্ছেদের বিরোধিতাও করা হয়েছে সেই সোশাল মিডিয়াতেই। ফলে ক্রমশ কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে দলের। এটা যে ভালো ইঙ্গিত নয়, তা খুব ভালো করেই জানেন দলের পোড় খাওয়া নেতারা।

Advertisement

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কালীঘাটের বৈঠকে এবিষয়ে উষ্মাপ্রকাশও করেছেন দলের একাধিক বিধায়ক। জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হল না, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন পথের লড়াইয়ে নামছেন না, তাঁর ভূমিকা, সব নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তা একপর্যায়ে বিষয়টা কথা কাটাকাটির পর্যায়ে পৌঁছয় বলেও খবর। জাহাঙ্গিরকে বহিষ্কারের দাবিও জানিয়েছন সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও দলের তরফে এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলাফল প্রকাশের পর দলের ক্রমশ মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বিরক্ত বিধায়করাই। কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন, কেউ নীরবে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। বুধবারে বৈঠকে বিধায়করাই বলেন, এভাবে ঘরে বসে মিটিং করে কিছু হবে না। হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে পথে নামতে হবে। সেই মতোই এদিন বিধানসভায় আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ভোট পরবর্তী হিংসা ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে ধরনায় বসেন তৃণমূল বিধায়করা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পালাবদলের পর দলের প্রথম কর্মসূচিতেই দেখা মিলল না ৫০ বিধায়কের। যা তৃণমূলের ভগ্নপ্রায় দশারই প্রমাণ, বলছে ওয়াকিবহল মহল।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.