অর্ণব আইচ: লটারির প্রথম পুরস্কার একটি। দাবিদার দু’জন। দু’জনই লটারির টিকিট দেখিয়ে বলছেন, কোটি টাকার লটারির পুরস্কার তাঁর চাই। এক বছর আগে রাজ্য লটারির অফিসে কলকাতার এক মহিলা ও উত্তর দিনাজপুরের এক ব্যক্তির একই দাবি দেখে সংশয়ে পড়ে যান দপ্তরের আধিকারিকরা। দু’জনের হাতেই লটারির প্রথম পুরস্কারের টিকিট। শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ফরেনসিকে পাঠানো হয় দু’টি টিকিট৷
[অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভরতি সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়]
সম্প্রতি, ফরেনসিকের পক্ষ থেকে রিপোর্ট দিয়ে রাজ্য সরকারকে জানানো হয়, একটি টিকিট জাল। এই টিকিট ছিল উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপুকুরের বাসিন্দা মহম্মদ হামিদ আখতারের হাতে। হামিদের বিরুদ্ধে রাজ্য লটারির পক্ষ থেকে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের জালিয়াতি দমন শাখার আধিকারিকরা এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। গোয়েন্দাদের মতে, এর পিছনে রাজ্যজুড়ে কাজ করছে জাল লটারি চক্র। তারা বিভিন্ন লটারির জাল টিকিট ছাপিয়ে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে এজেন্টদের কাছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর ২৯ জুন রাজ্য লটারির পক্ষ থেকে ‘রথযাত্রা বাম্পার’ নামে একটি লটারি হয়। তার আগেই রাজ্যজুড়ে বিক্রি করা হয় টিকিট। যে নম্বরটি প্রথম পুরস্কার পায়, সেটি প্রকাশ করা হয়। রাজ্য লটারি বিভাগ জানতে পারে যে, পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটা রোডের বাসিন্দা এক মহিলা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বেলেঘাটা শাখায় ওই টিকিট জমা দিয়ে টাকা দাবি করেন। একই সময় মহম্মদ হামিদ আখতারও একই লটারির প্রথম পুরস্কারের টিকিট একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ইসলামপুর শাখায় জমা দেন। দু’টি টিকিটই ব্যাংকের মাধ্যমে মধ্য কলকাতার গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের অফিসে আসে। একই পুরস্কারের দুই দাবিদার থাকতে পারে না। দু’টি টিকিট অবিকল এক। তাই বিভ্রান্ত হয়ে যান রাজ্য লটারির কর্তারা। শেষ পর্যন্ত দু’টি টিকিট ‘কিউ ১’ ও ‘কিউ ২’ বলে চিহ্নিত করে পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় ফরেনসিক বিভাগে। বিশেষজ্ঞরা টিকিটের কালি ও কাগজের মান পরীক্ষা করেন।
[‘স্পিড লিমিট মানতে হয়’, কলকাতা পুলিশের প্রচারে ভিলেন থেকে হিরো মেসি]
সম্প্রতি রিপোর্ট পাঠিয়ে ফরেনসিক জানায় যে, ‘কিউ ২’ চিহ্নিত টিকিটটি জাল। যেহেতু হামিদের কাছে ওই টিকিট ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন রাজ্য লটারির যুগ্ম অধিকর্তা। হামিদের বিরুদ্ধে বউবাজার থানার পুলিশ জালিয়াতির মামলা রুজু করে। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে হামিদকে জেরা শুরু করছে। যে এজেন্টের কাছ থেকে হামিদ ওই টিকিট কিনেছিলেন, তাঁকেও ধরে জেরা করা হবে। সেই সূত্র ধরে রাজ্যে জাল লটারি টিকিট চক্রের মাথাদের সন্ধান চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
মূলস্রোতের স্কুলে পড়বে দিব্যাঙ্গ শিশুরাও! পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর রাজ্যের
-
ষষ্ঠ বিদেশি সই করিয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল, এক বছরের জন্য লাল-হলুদে আইভোরি কোস্টের স্ট্রাইকার
-
ফুচকার লোভ দেখিয়ে নাবালিকাকে ‘ব্যাড টাচ’! গ্রেপ্তার প্রতিবেশী ‘দাদু’, উত্তরপাড়ায় হুলস্থুল
-
চূড়ান্ত হয়ে গেল কলকাতা লিগের ডার্বির দিনক্ষণ, বারাসতে মুখোমুখি হবে মোহন-ইস্ট
-
বুধে বালুরঘাটে সুকান্তের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন মুখ্যমন্ত্রী, মেনুতে থাকছে কোন বিশেষ মাছ?