Kolkata Municipal Corporation

কেন ভাঙা হবে না পুরবোর্ড? ৭২ ঘণ্টায় জবাব চাইল রাজ্য, এবার কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক!

কিন্তু পুরবোর্ড কি ভেঙে দিতে পারে রাজ্য? মেয়র ইস্তফা দিলে পুরবোর্ডের অস্তিত্ব থাকে?

Advertisement
কৃষ্ণকুমার দাস
কৃষ্ণকুমার দাস

শেষ আপডেট: জুন ৬, ২০২৬, ২০:৩১

options
link
কেন ভাঙা হবে না পুরবোর্ড? ৭২ ঘণ্টায় জবাব চাইল রাজ্য, এবার কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক!

মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) ইস্তফা দিতেই পুরসভাকে চিঠি রাজ্য সরকারের। কেন কলকাতা পুরবোর্ড ভাঙা হবে না? ১৯৮০ সালের পুর আইনের ১১৭/১ ধারা উল্লেখ করে জানতে চেয়েছে রাজ্য। কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) কমিশনার, পুরসচিব ও সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের কাছে সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা অর্থাৎ ৩দিনের মধ্যে উত্তর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, পুরবোর্ড ভেঙে গেলে, আগামী পুরনির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডেকেই প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

Advertisement

কিন্তু পুরবোর্ড কি ভেঙে দিতে পারে রাজ্য? মেয়র ইস্তফা দিলে পুরবোর্ডের অস্তিত্ব থাকে?১৯৮০ সালের পুর আইনের ১১৭(১) ধারায় রাজ্য সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যদি কোনও পুরসভা তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়, ধারাবাহিক ভাবে কর্তব্যে গাফিলতি করে অথবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তা হলে সরকার তাকে অযোগ্য বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বলে ঘোষণা করে পুরসভা ভেঙে দিতে পারে। তবে তা সর্বোচ্চ ছ’মাসের জন্য করা যেতে পারে। এ দিকে তৃণমূল বলছে ফিরহাদ ইস্তফা দিলেও, ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ কাজ চালাবেন। কিন্তু তা কি সম্ভব? পুর আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়র অসুস্থ হলে এমনটা করা যায়। কিন্তু মেয়র ইস্তফা দিয়ে দিলে মেয়র পারিষদ বা ডেপুটি মেয়রের কোনও ক্ষমতা থাকে না। তাদের আর কোনও বৈধতা থাকে না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

অন্যদিকে, ফিরহাদের ইস্তফার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল পুরদলকে নিয়ে বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। আগামিকাল বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনে বৈঠক রয়েছে কাউন্সিলরদের। শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফের মেয়রের পদে বসানো নিয়ে জোর চর্চা চলছে দলের অন্দরে।

Advertisement

উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার পরির্বতনের জেরে মেয়াদ শেষ হওয়ার পাঁচ মাস আগেই শুক্রবার মেয়র পদে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। পদত্যাগ করার কারণ জানিয়ে মেয়র হিসাবে পুরভবনে তাঁর শেষ সাংবাদিক বৈঠকে ফিরহাদ বলেন, “মেয়র হিসাবে দাপটের সঙ্গে আমি টানা কাজ করেছি। পুরমন্ত্রী ছিলাম, মেয়র হিসাবে নাগরিক স্বার্থে যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরে সরকার থেকে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করেছি। যাঁরা পুরসভায় আসতেন, তাঁদের সমস্যার সমাধান করার কাজ করতাম। এখন আর সেটা সম্ভব হচ্ছে না।”

ইস্তফা দেওয়ার পর দেশবন্ধু, সুভাষচন্দ্র, বিধান রায়ের মতো পূর্বতনদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, “প্রাতঃস্মরণীয় মেয়রের চেয়ারের সম্মানহানি করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে থাকলাম অথচ ঢাল নেই, তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরসভার সাধারণ কাজটুকুও করতে পারছিলাম না। তাই ক্ষমতার লোভে শুধু শুধু চেয়ার আঁকড়ে আমি বসে থাকতে পারব না। তাই ইস্তফা দিচ্ছি।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে ফিরহাদের বার্তা, “অনেক কাজ করেছি, কিছু করতে পারিনি, আশা করি আগামী দিনে যাঁরা দায়িত্বে আসবেন তাঁরা স্বচ্ছ ভাবে পুরসভা চালান, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করুন।” 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন