Kolkata Police

তামিলনাড়ুতে চাকরি দেওয়ার নামে যুবতীকে বাংলাদেশে পাচার! ফোনের সূত্র ধরে তদন্তে কলকাতা পুলিশ

তামিলনাড়ুতে চাকরি দেওয়ার নাম করে এক যুবতীকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ। সেই দেশে ওই যুবতীর উপর প্রচণ্ড অত‌্যাচার চালায় দুষ্কৃতীরা! শেষপর্যন্ত যুবতী কোনওমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: আগস্ট ৭, ২০২৬, ১৫:২৯

options
link
তামিলনাড়ুতে চাকরি দেওয়ার নামে যুবতীকে বাংলাদেশে পাচার! ফোনের সূত্র ধরে তদন্তে কলকাতা পুলিশ
পুলিশ অপহরণ ও মানব পাচারের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ছবি-এআই

তামিলনাড়ুতে চাকরি দেওয়ার নাম করে এক যুবতীকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ। সেই দেশে ওই যুবতীর উপর প্রচণ্ড অত‌্যাচার চালায় দুষ্কৃতীরা! শেষপর্যন্ত যুবতী কোনওমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। শেষপর্যন্ত উদ্ধার করে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের হাসপাতালে ভর্তি করানো তাঁকে। সেখান থেকে কলকাতায় তাঁর ভাইয়ের কাছে যুবতী ফোন করার পরই বিষয়টি সামনে আসে। এই ব‌্যাপারে ওই যুবক তাঁর দিদিকে অপহরণ করা হয়েছে বলে উত্তর কলকাতার শ‌্যামপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অপহরণ ও মানব পাচারের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারী যুবক আসলে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বাসিন্দা। এখন তিনি কলকাতার গালিফ স্ট্রিটে থাকেন। তাঁর দিদির সন্দেশখালিতেই বিয়ে হয়েছে। কয়েক বছর আগে তাঁর দিদি শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে গালিফ স্ট্রিটে চলে আসেন। বিভিন্ন জায়গায় কাজ খুঁজতে থাকেন। তখনই তাঁর সঙ্গে সোশ‌্যাল মিডিয়ায় এক ব‌্যক্তির পরিচয় হয়। সে যুবতীকে তামিলনাড়ুতে মোটা বেতনের চাকরির টোপ দেয়। তিনি চাকরির আশায় গত ১ জুলাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে আর যুবতীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার।

Advertisement

যুবতীকে তামিলনাড়ুতে মোটা বেতনের চাকরির টোপ দেয়। তিনি চাকরির আশায় গত ১ জুলাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে আর যুবতীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার।

এর মধ্যেই গত ১৮ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশের লামিয়া আখতার নামে একজনের মোবাইল থেকে যুবতীর ভাইয়ের কাছে ফোন আসে। ওই যুবক পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ওপার থেকে দিদির গলাই শুনতে পান। দিদি তাঁকে জানান, তামিলনাড়ুর বদলে অপহরণ করে চোরাপথে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর উপর অত‌্যাচার চালায় অপহরণকারীদের চক্র। তিনি কোনওমতে তাদের হাত থেকে পালিয়ে যান। আহত অবস্থায় তাঁকে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি লামিয়া নামে একজনের মোবাইল থেকে ফোন করেন। তাঁর সঙ্গে ভাইয়ের ৩ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড কথা হয়। কিন্তু এর পর থেকে পরিবার আর ওই ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি। প্রথমে পরিবারের পক্ষে সন্দেশখালি থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়।

Advertisement

এরপরও যুবতীর সন্ধান না মেলায় পরিবারের লোকেরা শ‌্যামপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শুরুর পর পুলিশ বিদেশমন্ত্রকের মাধ‌্যমে বাংলাদেশের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। ওই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে বাংলাদেশের পুলিশকে লামিয়া আখতারের সন্ধান চালানোর ব‌্যাপারে বলা হবে। লামিয়ার মাধ‌্যমেই ওই যুবতীর সন্ধান মিলতে পরে। এছাড়াও যুবতীর নাম ও ছবি বাংলাদেশে পাঠিয়ে গোপালগঞ্জের হাসপাতালেও তাঁর খোঁজ নিতে বলা হচ্ছে। সোশ‌্যাল মিডিয়ার অ‌্যাকাউন্ট ও কয়েকটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে অপহরণকারী ও নারী পাচারকারী চক্রের সন্ধান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.