Saraswati Puja

‘হটকেক’ সরস্বতী লকেট, পুরুলিয়ার খাদিমেলায় ৩ কোটি ৩০ লাখের রেকর্ড বিক্রি

গৃহস্থালির জিনিসের মধ্যে তুলাইপাঞ্জি চালের বিক্রিও বেশ ভালো ছিল।

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১৪:২৬

options
link
‘হটকেক’ সরস্বতী লকেট, পুরুলিয়ার খাদিমেলায় ৩ কোটি ৩০ লাখের রেকর্ড বিক্রি
পুরুলিয়ার খাদি মেলায় বিক্রি হওয়া সরস্বতীর লকেট। ছবি: সুমিত বিশ্বাস

গতবারের বিক্রি যে ছাপিয়ে যাবে তা বলেছিল কর্তৃপক্ষই। কিন্তু গতবারের বিক্রিবাটা যে প্রায় দ্বিগুণ হবে তা ভাবতে পারেনি পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের পুরুলিয়া জেলা কার্যালয়। তাই তাদের টার্গেট ছিল আড়াই কোটি। কিন্তু মঙ্গলবার পুরুলিয়ার খাদি মেলা শেষে বিক্রি বাটা ঠেকলো প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষে। একেবারে রেকর্ড সেল। তবে সংখ্যাটা আরও বেড়ে যেতে পারে। কারণ পুরুলিয়া শহরের জিইএলচার্চ ময়দানে মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত মেলা চলেছে। কর্মীরা এতটাই ক্লান্ত যে চূড়ান্ত হিসাব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু প্রাথমিকভাবে খাদির জেলা কার্যালয়ে বলছে বিক্রিবাটা ৩ কোটি ২৫ লাখ থেকে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ।

Advertisement

এবার এই মেলা দ্বিতীয় বর্ষ। গতবার বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা। সিল্ক, বাঁশের শিল্পকলা, কাঁথা স্টিচ, পিঠেপুলি ছাড়াও ডোকরার সরস্বতী পেন্ডেন্ট হার দেদার বিক্রি হয়েছে। পুজোর প্রাক্কালে একেবারে ট্রেন্ডিং। খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের পুরুলিয়া জেলা কার্যালয় জানাচ্ছে ১৯ তারিখ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৩ কোটি ১৮ লক্ষ ৪০ হাজার ৭৭৩ টাকা। ডোকরার বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৩২৩ টাকা। পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের জেলা আধিকারিক পাপু মুখোপাধ্যায় বলেন, “গতবারের বিক্রি যে ছাপিয়ে যাবে সেটা আমরা ভেবেইছিলাম। তাই আমাদের টার্গেট ছিল প্রায় আড়াই কোটি। কিন্তু ৩ কোটিও ছাপিয়ে গিয়েছে। ” এই মেলা শুরু হয় ৯ জানুয়ারি। শেষ হয় ২০ জানুয়ারি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
Saraswati-Pendant
সরস্বতীর লকেটওয়ালা হারের ব্যাপক চাহিদা। ছবি: সুমিত বিশ্বাস

এই বিক্রিবাটার উপরে পুরস্কৃত করেছে খাদি কর্তৃপক্ষ। মুর্শিদাবাদের বিজয়পুর সিল্ক খাদি সেবা সমিতি প্রথম স্থান অধিকার করে। ২০ তারিখ পর্যন্ত তাদের বিক্রি হয়েছে ১০ লক্ষ ৯,৯৮০ টাকা। দ্বিতীয় স্থান দখল করে ঝাড়গ্রাম খাদি অ্যান্ড ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রি সোসাইটি। তাদের বিক্রিবাটা ৮ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩২৯ টাকা। তৃতীয় স্থান বুধিগ্রাম অঞ্চল রেশম খাদি শিল্প সংস্থা। তাদের বিক্রি হয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার ৪৩০। ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রিতে যুগ্মভাবে প্রথম হয়েছে বীরভূমের দীপু কাঁথা স্টিচ ও ওই জেলারই আজমিড় কাঁথা স্টিচ। তাদের বিক্রিবাটার পরিমাণ ৮ লক্ষ ৬২ হাজার ৩৫০ টাকা। দ্বিতীয় হয় উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের মা মনসা ব্যাম্বু। তাদের বিক্রি বাটার পরিমাণ ৮ লক্ষ ১৯ হাজার ১০০ টাকা। তৃতীয় হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার আরশাদ শেখ। তিনি প্লাস্টিকের ফুল বেচেই ৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা খাদির ঘরে দিয়েছেন। ভরা শীত সেই সঙ্গে মকর সংক্রান্তির মরশুম পিঠেপুলির স্টলও পিছিয়ে ছিল না। নদিয়ার ওই স্টলে বিক্রি হয়েছে ৬ লক্ষ ২৫ হাজার ৮৮২। একটি পিঠে-পুলির স্টলে এই বিপুল বিক্রিতে হতবাক প্রশাসন। প্রতিদিন মেলায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা গিয়ে মেলাকে উৎসাহ দিয়েছেন। মেলায় গিয়েছিলেন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু থেকে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতোও।

Advertisement

গৃহস্থালির জিনিসের মধ্যে তুলাইপাঞ্জি চালের বিক্রিও বেশ ভালো ছিল। বিক্রি এতটাই বেশি ছিল যে মজুত শেষ হয়ে নতুন করে নিয়ে আসতে হয়েছে। বিক্রি হয়েছে টিউবে থাকা নলেন গুড়ও। বাঁকুড়ার বিকনার ডোকরা হস্তশিল্পের বলরাম কর্মকার বলেন, ” বিক্রিবাটা যে দু’ লাখের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে তা ভাবতে পারিনি। গতবার মেলায় আসিনি। কিন্তু ওই মেলায় বিক্রি হয়েছিল ব্যাপক। সেই কারণে এবার এসেছিলাম। এসে ভীষণই ভালো হল। বাগদেবীর আরাধনার আগে সরস্বতীর পেন্ডেন্ট হার বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.