Gender Affirming Surgery

লিঙ্গনির্ণায়ক অস্ত্রোপচারে নতুন পরিচয় পেলেন বাঙ্গারকন্যা অনয়া, কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

অনয়ার এই পথচলা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি এক নিঃশব্দ বার্তা। নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার, নিজের পরিচয়কে গ্রহণ করার সাহস, আর ভালোবাসা ও সমর্থনের শক্তি, সব মিলিয়ে এটি এক গভীর মানবিক গল্প।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২৬, ১৭:৪৫

options
link
লিঙ্গনির্ণায়ক অস্ত্রোপচারে নতুন পরিচয় পেলেন বাঙ্গারকন্যা অনয়া, কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
জীবনের নতুন অধ্য়ায়। ছবি: সংগৃহীত

প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার সঞ্জয় বাঙ্গারের মেয়ে অনয়া বাঙ্গারের (Anaya Bangar) জীবনে নতুন অধ্য়ায়। থাইল্যান্ডে জেন্ডার অ্যাফার্মেশন বা লিঙ্গনির্ণায়ক অস্ত্রোপচার (Gender Affirming Surgery) পর তিনি যেন নিজের পরিচয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে একাত্ম হলেন। এ যেন শুধু শরীর নয়, মন আর সত্তার মিলনের এক নিঃশব্দ উদযাপন।

Advertisement

অপারেশনের পর হাসপাতালের বেড থেকে বাবার পাশে শুয়ে থাকা একটি ছবি শেয়ার করেন অনয়া। ছবির সরলতায় ছিল এক অদ্ভুত শক্তি- সংগ্রাম, গ্রহণযোগ্যতা আর ভালোবাসার গল্প। তাঁর কথায়, এই পথটা ছিল দীর্ঘ, কখনও কঠিন, কখনও আবেগে ভরা; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পৌঁছেছে নিজের সত্যিকারের সত্তার কাছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

জন্মের সময় যার নাম ছিল আরিয়ান বাঙ্গার, সেই মানুষটিই ধীরে ধীরে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন অনয়া (Anaya Bangar) হিসেবে। গত তিন বছরে তাঁর এই রূপান্তরের পথচলা সোশাল মিডিয়ায় অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। নিজেকে মেনে নেওয়ার সাহসের গল্প হিসেবে।

Advertisement
anaya bangar gender affirming surgery explained
অনয়া বাঙ্গার। ছবি: সংগৃহীত

লিঙ্গনির্ণায়ক অস্ত্রোপচার কী এবং কেন?
লিঙ্গনির্ণায়ক অস্ত্রোপচার এমন একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া, যার লক্ষ্য একজন মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে তাঁর অনুভূত লিঙ্গ-পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা। অনেক সময় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় জেন্ডার ডিসফোরিয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, যেখানে শরীর আর মনের মধ্যে অমিল গভীর অস্বস্তির জন্ম দেয়।

তবে এটাও সত্যি, সব ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি এই অস্ত্রোপচার বেছে নেন না। অনেকেই অন্য উপায়ে নিজেদের পরিচয়কে গ্রহণ করেন। অস্ত্রোপচার সাধারণত হয় দীর্ঘ প্রস্তুতি, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং মানসিক প্রস্তুতির পর।

কী কী পরিবর্তন আসে?
এই প্রক্রিয়া একক কোনও অপারেশন নয়, বরং ব্যক্তিভেদে আলাদা আলাদা ধাপে সম্পন্ন হয়।
ট্রান্সজেন্ডার নারীদের ক্ষেত্রে জননাঙ্গ পুনর্গঠন, স্তন গঠন বা মুখাবয়বে নারীত্ব আনার অস্ত্রোপচার করা হতে পারে। অন্যদিকে, ট্রান্সজেন্ডার পুরুষদের জন্য বুকের গঠন পরিবর্তন, জরায়ু অপসারণ বা জননাঙ্গ পুনর্গঠন করা হয়।

এই প্রতিটি ধাপই সময়সাপেক্ষ এবং এর আগে প্রয়োজন হয় হরমোন থেরাপি, মানসিক মূল্যায়ন ও কাউন্সেলিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির।

anaya bangar gender affirming surgery explained
ছবি: সংগৃহীত

শরীরের বাইরে এক গভীর রূপান্তর
লিঙ্গনির্ণায়ক অস্ত্রোপচার কেবল শারীরিক পরিবর্তন নয়, এটি নিজের ভেতরের মানুষটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার এক সাহসী পদক্ষেপ। এই যাত্রায় চিকিৎসক, কাউন্সেলর, পরিবার- সবাই মিলে তৈরি করেন সমর্থনের পরিসর, যা একজন মানুষকে নতুনভাবে বাঁচতে সাহায্য করে।
অস্ত্রোপচারের পরেও থাকে মানিয়ে নেওয়ার সময়, চিকিৎসা-পরবর্তী যত্ন এবং মানসিক সমর্থনের প্রয়োজন। কারণ, এটি কেবল শরীরের বদল নয়, জীবনের ছন্দ বদলে যাওয়ারও গল্প।

আজকের দিনে এই চিকিৎসা নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু সবার নাগালে তা এখনও পৌঁছয়নি। অনেকেই তাই উন্নত চিকিৎসার খোঁজে বিদেশে যেতে বাধ্য হন।

অনয়ার এই পথচলা তাই শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি এক নিঃশব্দ বার্তা। নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার, নিজের পরিচয়কে গ্রহণ করার সাহস, আর ভালোবাসা ও সমর্থনের শক্তি, সব মিলিয়ে এটি এক গভীর মানবিক গল্প।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.