Health Risks

রোদ থেকে ফিরেই সোজা এসির ঘরে? অজান্তেই ডাকছেন মারাত্মক থার্মাল শক

অফিস হোক বা বাড়ি। বাইরে থেকে ফিরেই এসির হাওয়ায় বসছেন? চিকিৎসকেরা বলছেন, রোদের তীব্র উত্তাপ থেকে ফিরেই সরাসরি এসির ঠান্ডা ঘরে ঢুকে পড়া মারাত্মক ভুল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৯, ২০২৬, ২০:৪৮

options
link
রোদ থেকে ফিরেই সোজা এসির ঘরে? অজান্তেই ডাকছেন মারাত্মক থার্মাল শক
রোদের তীব্র উত্তাপ থেকে ফিরেই সরাসরি এসির ঠান্ডা ঘরে ঢুকে পড়া মারাত্মক ভুল। ছবি: সংগৃহীত

অফিস হোক বা বাড়ি। বাইরে থেকে ফিরেই এসির হাওয়ায় বসছেন? চিকিৎসকেরা বলছেন, রোদের তীব্র উত্তাপ থেকে ফিরেই সরাসরি এসির ঠান্ডা ঘরে ঢুকে পড়া মারাত্মক ভুল। এই অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক সামঞ্জস্য নষ্ট করে দেয়। এই আকস্মিক পরিবর্তনকে বলা হয় ‘থার্মাল শক’।

Advertisement

চলতি মরশুমে পারদ ছুঁয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই প্রখর গরম থেকে আচমকা ২০-২২ ডিগ্রির কনকনে ঠান্ডা ঘরে ঢুকলে শরীরের স্বাভাবিক ক্রিড়া ব্যবহত হয়। তাপমাত্রার এই বিশাল ফারাক আমাদের শরীর চট করে মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ডিফেন্স মেকানিজম এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়। এই কারণে মরশুম বদলের চেনা সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা বা ভাইরাল ইনফেকশন হু হু করে বাড়ে।

Advertisement

কী প্রভাব পড়ে শরীরে? 
সমস্যা শুধু সর্দি-কাশিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এসির অতি ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের রক্তনালিগুলি সংকুচিত হয়ে থাকে। আচমকা গরমে বেরোলে সেগুলি আবার দ্রুত প্রসারিত হয়। রক্তনালির এই আকস্মিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়। মাইগ্রেনের রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও জাঁকিয়ে বসে। এছাড়া হঠাৎ গরমে রক্তনালি চওড়া হলে রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার আচমকা কমে যায়। এর ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা চোখের সামনে অন্ধকার দেখার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চরম ক্ষেত্রে শরীর এই ‘থার্মাল শক’ সহ্য করতে না পারলে ‘হিট স্ট্রোক’ পর্যন্ত হতে পারে।

Advertisement
Thermal-shock-1
ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপরেও এর কুপ্রভাব পড়ে। শুষ্ক ঠান্ডা হাওয়া থেকে হঠাৎ ঘাম ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে এলে ত্বকের লোমকূপগুলি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গরমের চেনা শত্রু র‍্যাশ, চুলকানি ও ঘামাচি মারাত্মক আকার নেয়।

এই বিপদ থেকে বাঁচবেন কীভাবে? 
এই বিপদ থেকে বাঁচার উপায় অত্যন্ত সহজ। ঘর থেকে বেরোনোর অন্তত ১০ মিনিট আগে এসি বন্ধ করে দিন। এতে ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হবে। শরীরও বাইরের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পাবে। একইভাবে, বাইরে থেকে ফিরেই সরাসরি ফ্রিজের ঠান্ডা জল খাবেন না। প্রথমে ফ্যানের তলায় বসে ঘাম শুকিয়ে নিন। শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে তবেই সাধারণ জল পান করুন। ঘরের এসির তাপমাত্রা সবসময় ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখুন। এতে ভেতরের ও বাইরের তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকে। শরীরকে সুস্থ রাখতে এই সামান্য সতর্কতাটুকুই যথেষ্ট।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.