বয়স বাড়ার সঙ্গে হাঁটুর ব্যথা অত্যন্ত সাধারণ হয়ে উঠলেও সব হাঁটুর ব্যথা এক নয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা OA-তে হাঁটুর জয়েন্টের ভেতরের মসৃণ কার্টিলেজ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। এই কার্টিলেজ হাড়ের প্রান্তে নরম কুশনের মতো কাজ করে এবং হাঁটার সময় ঘর্ষণ কমায়। কার্টিলেজ পাতলা হয়ে গেলে ব্যথা, হাঁটু ফুলে যাওয়া, শক্ত হয়ে থাকা, সিঁড়ি ওঠানামায় অসুবিধা এবং দৈনন্দিন চলাফেরার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
এতদিন হাঁটুর OA-র চিকিৎসা প্রধানত ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণ চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে—
- ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি
- ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম
- হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ইনজেকশন
- PRP বা Platelet-Rich Plasma ইনজেকশন
আরও পড়ুন:
PRP নতুন চিকিৎসা নয়। বহু বছর ধরে রোগীর নিজের রক্ত থেকে প্লেটলেট-সমৃদ্ধ প্লাজমা তৈরি করে হাঁটুর জয়েন্টে ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। এতে থাকা বিভিন্ন growth factor প্রদাহ কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর স্বাভাবিক মেরামত প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করতে পারে। অনেক রোগী PRP নেওয়ার পরে ব্যথা ও চলাফেরায় উন্নতি অনুভব করেন।
তবে PRP-র কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি রোগীর নিজের রক্তের গুণমান, বয়স, ডায়াবেটিস, অন্যান্য অসুখ এবং প্রস্তুত করার পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। প্রতিটি PRP ডোজে একই পরিমাণ কার্যকর উপাদান থাকবে—এমন নিশ্চয়তা থাকে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, PRP মূলত উপসর্গ ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে; ক্ষয়ে যাওয়া কার্টিলেজ পুনর্গঠনের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত।
এই জায়গাতেই অ্যালোজেনিক মেসেনকাইমাল স্ট্রোমাল সেল বা MSC থেরাপি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সাধারণভাবে একে “স্টেম সেল থেরাপি” বলা হয়। কঠোরভাবে পরীক্ষিত সুস্থ দাতার অস্থিমজ্জা থেকে কোষ সংগ্রহ করে আধুনিক পরীক্ষাগারে নির্দিষ্ট সংখ্যায় প্রস্তুত করা হয়। প্রতিটি ডোজে ২৫ মিলিয়ন জীবিত কোষ থাকে।
ভারতে বর্তমানে CDSCO-অনুমোদিত অ্যালোজেনিক bone-marrow MSC therapy পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এর উৎপাদন, বিশুদ্ধতা, জীবাণুমুক্ততা, কার্যক্ষমতা এবং জিনগত স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান বজায় রাখা সম্ভব।
PRP-র তুলনায় সম্ভাব্য সুবিধা
- নির্দিষ্ট ও মানসম্মত কোষসংখ্যা
- প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ
- শরীরের cartilage-forming cells সক্রিয় করার সম্ভাবনা
- শুধু ব্যথা কমানো নয়, জয়েন্ট সংরক্ষণের লক্ষ্য
- রোগীর নিজের অস্থিমজ্জা সংগ্রহের প্রয়োজন নেই
১৪৬ জন Grade 2 ও Grade 3 হাঁটুর OA রোগীকে নিয়ে করা একটি গবেষণায় একবারের আল্ট্রাসাউন্ড-গাইডেড অ্যালোজেনিক MSC ইনজেকশনের পরে ব্যথা, হাঁটুর শক্তভাব এবং দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। MRI-তেও কার্টিলেজের গুণমানের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা হয়েছে।
তাই PRP এখনও উপযোগী ও তুলনামূলকভাবে সহজ একটি পুরনো বায়োলজিক চিকিৎসা হলেও, নির্বাচিত Grade 2 ও Grade 3 OA রোগীর ক্ষেত্রে অনুমোদিত অ্যালোজেনিক স্টেম সেল থেরাপি আরও উন্নত, মানসম্মত এবং দীর্ঘমেয়াদি joint-preservation চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিছু নির্বাচিত early Grade 4 রোগীর ক্ষেত্রেও এটি বিবেচনা করা যায়, তবে ফল রোগীভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
কলকাতার নিউ টাউনের Daradia: The Pain Clinic -এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এই চিকিৎসা করা হচ্ছে। X-ray, MRI, বয়স, ওজন, হাঁটুর গঠন এবং দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা বিচার করে রোগী নির্বাচন করা হয়। সঠিক রোগী নির্বাচন, আল্ট্রাসাউন্ড-গাইডেড ইনজেকশন, ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পিত পুনর্বাসন—সব মিলিয়েই ভালো ফলের সম্ভাবনা বাড়ায়।
ওয়েবসাইট: https://daradia.com/
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
-
ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর, মাকে শ্লীলতাহানি! পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ