সন্তানধারণে সমস্যা হলে প্রথমেই নজর যায় মহিলার দিকে। কিন্তু বন্ধ্যাত্বের কারণ পুরুষের শরীরেও থাকতে পারে। এমনকী যৌনইচ্ছা এবং বাকি সব স্বাভাবিক থাকার পরেও বীর্যপাতের সমস্যার কারণে সন্তানধারণে বাধা তৈরি হতে পারে। অথচ এই সমস্যা অনেক সময় স্পষ্ট ভাবে বোঝাও যায় না।
আরও পড়ুন:
ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞদের কথায়, কিছু পুরুষের প্রজননজনিত সমস্যা দীর্ঘদিন অবহেলিত থেকে যায়, কারণ তার কোনও স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। বীর্যপাতজনিত সমস্যা তারই একটি উদাহরণ। যৌনইচ্ছা ও উত্থান স্বাভাবিক থাকলেও বীর্যপাতের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। ফলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শুক্রাণু স্ত্রীর প্রজনননালিতে পৌঁছতে পারে না।
আরও পড়ুন:
কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
বীর্যপাতের সমস্যা বিভিন্ন ভাবে দেখা দিতে পারে। বিলম্বিত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে বীর্যপাত হতে অস্বাভাবিক বেশি সময় লাগে অথবা অনেক সময় তা একেবারেই হয় না। রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনে বীর্য বাইরে বেরিয়ে আসার পরিবর্তে মূত্রথলিতে চলে যায়। আর অ্যানইজাকুলেশন হল সম্পূর্ণ ভাবে বীর্যপাত না হওয়া।
সন্তানধারণের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হল, বীর্যের সঙ্গে পর্যাপ্ত সংখ্যক শুক্রাণু বাইরে বেরিয়ে মহিলার প্রজনননালিতে পৌঁছতে পারছে কি না।

কেন হতে পারে এই সমস্যা?
এর নেপথ্যে থাকতে পারে একাধিক কারণ। ডায়াবিটিসের কারণে বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিভিন্ন স্নায়ুরোগ, হরমোনের সমস্যা এবং কিছু ওষুধও বীর্যপাতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে পারে।
এ ছাড়া পেলভিস, মূত্রথলি বা প্রস্টেটের অস্ত্রোপচারের পর সংশ্লিষ্ট স্নায়ু বা অঙ্গের কার্যকারিতায় পরিবর্তন আসতে পারে। উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং যৌনক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাও সমস্যা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সন্তানধারণের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে যৌনসম্পর্ক করার চাপ অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
কীভাবে ধরা পড়ে?
সন্তানধারণে সমস্যা হলে পুরুষের ক্ষেত্রেও বিস্তারিত মূল্যায়ন জরুরি। চিকিৎসক প্রথমে শারীরিক সমস্যা, পূর্বের অস্ত্রোপচার, ওষুধ এবং যৌনস্বাস্থ্যের ইতিহাস জানতে পারেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা ও সিমেন অ্যানালিসিস করা হয়। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা যায়।
রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনের সন্দেহ থাকলে বীর্যপাতের পর মূত্রে শুক্রাণু রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোন পরীক্ষা বা স্নায়ু সংক্রান্ত আরও পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসা কি সম্ভব?
চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণের উপর। কোনও ওষুধ দায়ী হলে চিকিৎসক সেটি পরিবর্তন বা সামঞ্জস্য করতে পারেন। ডায়াবিটিস বা হরমোনের সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাভাবিক ভাবে বীর্য সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পদ্ধতিতে শুক্রাণু সংগ্রহ করা যায়। পরিস্থিতি অনুযায়ী আইইউআই বা আইভিএফের মতো সহায়ক প্রজনন পদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
বারবার বীর্যপাত হতে সমস্যা হলে, বীর্য খুব কম পরিমাণে বের হলে বা একেবারেই না বের হলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সন্তানধারণ না হলে পুরুষেরও ফার্টিলিটি পরীক্ষা করানো জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বন্ধ্যাত্বের কারণ খুঁজতে গিয়ে শুধু স্ত্রীর দিকে নজর না দিয়ে দু’জনেরই ফার্টিলিটি মূল্যায়ন একসঙ্গে করা উচিত। কারণ সময়মতো কারণ ধরা পড়লে বীর্যপাতজনিত অনেক সমস্যারই চিকিৎসা সম্ভব।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাওবাদীদের হামলা জেনেও আটকাননি! চিদম্বরমকে ‘নকশাল’ বলে তোপ হিমন্তর, চাইলেন তদন্ত
-
‘দিদি নম্বর ১’-এর জাবরা ফ্যান স্বস্তিকার মেয়ের বিদেশি প্রেমিক! কী সারপ্রাইজ দিলেন ‘হবু জামাই’?
-
সংঘের পাশে দাঁড়াতে ইস্তফা কনস্টেবলের, মোদি ২০২৯-এ না জেতা পর্যন্ত থাকবেন খালি পায়ে!
-
জনগণনার অনলাইন সেলফ এনুমারেশনে শীর্ষে মালদহ, পিছিয়ে পশ্চিম বর্ধমান-কলকাতা, এবার কী করণীয়?
-
জন্মদিনে কেক কাটার বদলে লাশকাটা ঘরে! এ কী পরিণতি কিশোরের?