Health tips

সন্তানের ইনজেকশনের ভয় হতে পারে ভয়ংকর! কীভাবে কাটাবেন আতঙ্ক?

ইনজেকশনের মতো একটি সাধারণ ভয়ও বড় বিপদের কারণ হতে পারে, যদি তা অবহেলিত হয়। ভালোবাসা, ধৈর্য আর সঠিক বোঝাপড়া- এই তিনেই ভয়কে জয় করা যায়। আর সেই জয়ই রক্ষা করতে পারে একটি অমূল্য জীবন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২৬, ২০:৩২

options
link
সন্তানের ইনজেকশনের ভয় হতে পারে ভয়ংকর! কীভাবে কাটাবেন আতঙ্ক?
ইনজেকশনে ভয়, ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। ছবি: প্রতীকী

শিশুর ছোট্ট মনে অনেক সময়ই বাসা বাঁধে বড় ভয়। ইনজেকশন সেই ভয়ের তালিকায় প্রায় প্রথম সারিতে। সূচের নাম শুনলেই চোখে জল, এ যেন খুব চেনা ছবি। ছোটদের এই ভয়টা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আসেনা, বরং অন্যের মুখে শোনা গল্প বা কোনও সময় কষ্টকর স্মৃতি থেকেই তৈরি হয় এই গভীর আতঙ্ক।

Advertisement

কিন্তু এই ভয় কখনও কখনও হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। মুম্বইয়ের ৯ বছরের কাশিশ সাহানির ঘটনা তারই প্রমাণ। পথকুকুরের আঁচড় লাগার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা অ্যান্টি-র‍্যাবিস বা জলাতঙ্ক প্রতিরোধক টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ইনজেকশনের ভয়ে সে রাজি হয়নি। কয়েকদিনে ক্ষত শুকিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি পরিবারও। প্রায় ছ’মাস পর হঠাৎই তার শরীর ভেঙে পড়ে, খাওয়াদাওয়া বন্ধ, চোখ লাল, অস্বাভাবিক আচরণ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
Health tips fear of injections in children how to overcome
ছবি: সংগৃহীত

জলাতঙ্ক এমনই এক নিঃশব্দ ঘাতক, যা শরীরে ঢুকে স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে। একবার লক্ষণ দেখা দিলে প্রায় কোনও চিকিৎসাই আর কাজ করে না। অথচ সঠিক সময়ে টিকা নিলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থার তথ্য বলছে, বিশ্বে জলাতঙ্কে মৃত্যুর বড় অংশই ঘটে ভারতে, সংখ্যাটা প্রায় ৩৬ শতাংশ।

Advertisement

ইনজেকশনে বাচ্চাদের কেন এত ভয়?
বাচ্চারা যুক্তি দিয়ে নয়, অনুভূতি দিয়ে জগৎকে বোঝে। তাদের কাছে ইনজেকশন মানে ব্যথা আর অস্বস্তি। একবার যদি কোনও কিছুর খারাপ অভিজ্ঞতা হয়, ওদের মনে সেটা গেঁথে যায়। অনেক সময় বড়দের কথাতেও ভয় বাড়ে, ‘দুষ্টুমি করলে ডাক্তার ইনজেকশন দেবে’। এমন কথাই শিশুর মনে ইনজেকশনকে এক ধরনের শাস্তি হিসেবে গেঁথে দেয়।

কীভাবে ভয় কাটাবেন?

  • সন্তানকে সাহসী করে তোলার শুরুটা হয় বাড়ি থেকেই। প্রথমেই, তার ভয়কে অস্বীকার করবেন না। ‘এতে ভয়ের কিছু নেই’, বললে সে নিজেকে আরও একা মনে করতে পারে। বরং বলুন, ‘আমি জানি তুমি ভয় পাচ্ছ, আমি তোমার সঙ্গে আছি।’ এই আশ্বাসই সবচেয়ে বড় ভরসা।
  • আগেভাগেই তাকে বলতে পারেন, কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে। সহজ করে বোঝান, ‘এই ইনজেকশন তোমাকে অসুস্থ হওয়া থেকে বাঁচাবে।’ অজানা বিষয়ই সবচেয়ে বেশি ভয় দেখায়।
Health tips fear of injections in children how to overcome
ছবি: সংগৃহীত
  • খেলার মধ্যেও প্রস্তুতি সম্ভব। পুতুল বা খেলনা নিয়ে ‘ডাক্তার-ডাক্তার’ খেলুন, ওকে ডাক্তারের চরিত্রটা দিন। এতে ইনজেকশন আর ততটা অচেনা বা ভয়ের মনে হবে না।
  • সবচেয়ে জরুরি, ইনজেকশনকে কখনও ভয় দেখানোর অস্ত্র বানাবেন না। এতে ভয় আরও গভীর হয়।
  • ডাক্তারের চেম্বারে মা-বাবার আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি অস্থির হন, সন্তানও তা বুঝে যাবে। শান্ত থাকুন, ওর হাত ধরুন, গল্প বলুন, মন অন্যদিকে নিয়ে যান।
  • আর শেষে, তাকে প্রশংসা করতে ভুলবেন না। সে কাঁদলেও বলুন, ‘তুমি খুব সাহস দেখিয়েছ।’ এই ছোট্ট স্বীকৃতিই পরের বার তাকে ভয়-মুক্ত হতে সাহায্য় করবে।

ইনজেকশনের মতো একটি সাধারণ ভয়ও বড় বিপদের কারণ হতে পারে, যদি তা অবহেলিত হয়। ভালোবাসা, ধৈর্য আর সঠিক বোঝাপড়া- এই তিনেই ভয়কে জয় করা যায়। আর সেই জয়ই রক্ষা করতে পারে একটি অমূল্য জীবন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.