সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক অদ্ভুত রান্নার ট্রেন্ড এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট আগুনে গরম করে তার উপর গরম তেল বা ফোড়ন ঢেলে সেটি খাবারের মধ্যে রাখা হচ্ছে, যাতে ধোঁয়াটে স্বাদ আসে। দেখতে আকর্ষণীয় মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদ্ধতি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
প্রথম দেখায় বিষয়টি অনেকের কাছে প্রচলিত ‘ধুংগার’ পদ্ধতির মতো মনে হতে পারে, যেখানে কাঠকয়লা ব্যবহার করে খাবারে ধোঁয়ার গন্ধ আনা হয়। কিন্তু এখানেই রয়েছে বড় পার্থক্য। ধুংগারে ব্যবহার করা উপাদান খাদ্য-নিরাপদ, কিন্তু নির্মাণের ইট কখনওই খাবারের সংস্পর্শে ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়।
আরও পড়ুন:

ইটের ভেতরে কী থাকে?
ইট সাধারণত মাটি ও বিভিন্ন কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হলেও এতে অনেক সময় শিল্পজাত উপাদান থাকে। এর মধ্যে থাকতে পারে সীসা, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতু। এগুলো চোখে দেখা যায় না এবং তৎক্ষণাৎ স্বাদও বোঝা যায় না, যা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ইট গরম করলে এই ক্ষতিকর উপাদান খাবারের মধ্যে মেশার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
পুষ্টিবিদদের মতে, এই ট্রেন্ড মোটেই নিরাপদ নয়। ইট খাদ্য-উপযোগী নয় এবং উচ্চ তাপে গরম করার পর তা খাবারের সংস্পর্শে এলে বিষাক্ত ধাতু খাবারে মিশতে পারে। নিয়মিত বা অল্প পরিমাণেও এমন খাবার খেলে শরীরে বিষক্রিয়া, বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিপাকজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে।
কেন ভারী ধাতু বিপজ্জনক?
এই ধাতুগুলো শরীরে জমে যেতে থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে, যেমন-
- মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি
- কিডনি ও লিভারের সমস্যা
- হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া
- দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়া

ধুংগার পদ্ধতির সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
ধুংগারে খাদ্য-নিরাপদ কাঠকয়লা নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে খাবার সরাসরি দূষিত না হয়। কিন্তু ইট এই ধরনের ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়, ফলে তা থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক বেরিয়ে আসতে পারে।
নিরাপদে ধোঁয়াটে স্বাদ পেতে কী করবেন?
- খাদ্য-নিরাপদ কাঠকয়লা দিয়ে ধুংগার পদ্ধতি ব্যবহার করুন
- গ্রিল বা স্মোকারে রান্না করুন
- স্মোকড মশলা ব্যবহার করতে পারেন
- শুধুমাত্র খাদ্য-নিরাপদ স্মোকিং টেকনিক অনুসরণ করুন
সামাজিক মাধ্যমে নতুন নতুন রান্নার আইডিয়া এলেও সবকিছু অনুসরণ করা ঠিক নয়। ইট ব্যবহার করে রান্না করা শুধু অদ্ভুতই নয়, এটি শরীরে বিষাক্ত উপাদান প্রবেশের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নতুন কিছু চেষ্টা করার আগে সচেতন থাকুন এবং সবসময় নিরাপদ পদ্ধতিকেই বেছে নিন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গুরুত্ব বাড়ছে নতুন প্রজন্মের! এবার নন্দনে জেন জি চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন, কী বললেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’?
-
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, ফের পাক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি গাভাসকর, কপিল-সহ ২১ প্রাক্তন অধিনায়কের
-
আনন্দপুরে পরিচারিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছুরির কোপ! ফিল্মি কায়দায় চলন্ত ট্রেন থেকে রাঁধুনীকে ধরল পুলিশ
-
বরফ কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক! অসুস্থ শিশু-সহ কমপক্ষে ২৫, উত্তপ্ত হাড়োয়া
-
রাখিতে গেজেটপ্রেমী ভাই-বোনকে কী দেবেন ভাবছেন? রইল দারুণ গিফটের আইডিয়া