যৌনবাহিত সংক্রমণ (STIs) অনেক সময় কোনও লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে, অথচ পরে গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অসুস্থ বোধ করলে নয়, নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়মিত টেস্ট করানোই সুরক্ষার সেরা উপায়। বয়স, যৌনজীবন ও ঝুঁকির উপর নির্ভর করে এসটিআই স্ক্রিনিংয়ের সঠিক সময়।
আরও পড়ুন:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সারা বিশ্বে ১৫-৪৯ বছর বয়সিদের মধ্যে ১০ লক্ষেরও বেশি নিরাময়যোগ্য যৌনবাহিত সংক্রমণে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় এর অনেকগুলোরই কোনও উপসর্গ থাকে না। তাই নিজেকে সুস্থ মনে হলেও সংক্রমণ থাকতে পারে।
আরও পড়ুন:

যৌনবাহিত সংক্রমণ আসলে কী?
যৌনবাহিত রোগ বা সংক্রমণ মূলত যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় ভ্যাজাইনাল, অ্যানাল বা ওরাল সেক্সের সময়। এছাড়াও রক্ত, সূঁচ বা মায়ের থেকেও সন্তানের শরীরে ছড়াতে পারে।৩০টিরও বেশি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবী যৌনবাহিত রোগের জন্য দায়ী। এর মধ্যে কয়েকটি খুবই সাধারণ। যেমন-
ক্ল্যামাইডিয়া: সাধারণত উপসর্গহীন, কিন্তু চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি
গনোরিয়া: প্রস্রাবে জ্বালা, অস্বাভাবিক স্রাব
সিফিলিস: প্রথমে ব্যথাহীন ঘা, পরে গুরুতর হতে পারে
এইচআইভি: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে
এইচপিভি: জেনিটাল ওয়ার্টস ও কিছু ক্যানসারের কারণ
হারপিস: ব্যথাযুক্ত ফোসকা বা ঘা
ট্রাইকোমোনিয়াসিস: চুলকানি ও স্রাব
হেপাটাইটিস বি এবং সি: লিভারে প্রভাব ফেলে

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
অনেক সময় কোনও উপসর্গই থাকে না। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ-
- অস্বাভাবিক স্রাব
- প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা
- যৌনাঙ্গে ঘা, ফুসকুড়ি বা র্যাশ
- চুলকানি বা জ্বালা
- সহবাসের সময় ব্যথা
কতদিন পরপর টেস্ট করাবেন?
চিকিৎসকদের মতে, টেস্ট করার সময়সূচি নির্ভর করে বয়স, যৌনজীবন ও ঝুঁকির উপর।
- ২৫ বছরের কম বয়সি যৌন সক্রিয় নারী
বছরে অন্তত একবার টেস্ট করা উচিত, বিশেষ করে ক্ল্যামাইডিয়া ও গনোরিয়ার জন্য। - ২৫ বছরের বেশি বয়সি নারীরা
যদি নতুন বা একাধিক পার্টনার থাকে বা কন্ডোম নিয়মিত ব্যবহার না করেন, তাহলে বছরে একবার টেস্ট জরুরি। - গর্ভবতী নারীরা
গর্ভাবস্থার শুরুতেই এইচআইভি, সিফিলিস, হেপাটাইটিস বি ইত্যাদির টেস্ট করা হয়। প্রয়োজনে পরে আবার টেস্ট করা হতে পারে। - যাদের ঝুঁকি বেশি
একাধিক পার্টনার, অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক, আগের যৌন সংক্রমণের ইতিহাস। তাদের ক্ষেত্রে ৩-৬ মাস অন্তর টেস্ট করানো ভালো।

কখন অবশ্যই টেস্ট করাবেন?
- কোনও উপসর্গ দেখা দিলে
- নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগে
- পার্টনারের যৌনবাহিত সংক্রমণ থাকলে
- অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পর
- জীবনে অন্তত একবার এইচআইভি টেস্ট করা উচিত
- ২১ বছর বয়সের পর নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার জরুরি
যৌনবাহিত সংক্রমণ নিয়ে ভয় বা লজ্জা না পেয়ে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। নিয়মিত পরীক্ষা শুধু নিজের জন্য নয়, আপনার সঙ্গীর সুরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আপনার জীবনযাপন ও ঝুঁকি অনুযায়ী সঠিক সময়সূচি জানতে গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অটুট বন্ধুত্বের বার্তা মোদির
-
কানাডার স্বপ্নের সফর শেষ, আজেদিনের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো
-
‘বাংলায় সব সম্পদ আছে’, শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
-
বৈভবের অভিষেকেও এল না জয়, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল ভারত
-
রাস্তা তৈরিতে এবার ব্যবহার হবে ‘ম্যাস্টিক অ্যাসফল্ট’! বড় উদ্যোগ সিকিম সরকারের